'নারীরা এখনও সমাজে উপেক্ষিত'

টাইম ডেস্ক
টাইম নিউজ বিডি,
০৭ মার্চ, ২০১৭ ২০:১৭:৪৩
#

ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা অনুসরণের মাধ্যমে সকল বাধা-প্রতিবন্ধকতা ও বৈষম্য উপেক্ষা করে নারী সমাজের ন্যায্য অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় সকলকে অগ্রণী ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন 'বাংলাদেশ নারী অধিকার আন্দোলন বাংলাদেশ' এর সভানেত্রী প্রফেসর চমন আরা ও সেক্রেটারি প্রফেসর ডা. হাবিবা আক্তার চৌধুরী।


আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষ্যে ফারজানা মিথিলা খান স্বাক্ষরিত গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় আজ একথা বলেন।


তারা বলেন, নারী অধিকার নিয়ে অনেক উৎসাহব্যঞ্জক ও বড় বড় কথা বলা হলেও নারীরা সমাজে এখনও উপেক্ষিত, নির্যাতিত ও অধিকারবঞ্চিত। নারীরা শুধু উপেক্ষিতই নয় বরং নানাভাবে নির্যাতনের ও সামাজিক বৈষম্যের শিকার। পারিবারিক ও সামাজিক জীবন থেকে শুরু করে রাষ্ট্রের সকল পর্যায়ে নানাভাবে বৈরি পরিস্থিতির মুখোমুখি নারী সমাজ। নারীরা শুধু আমাদের দেশেই নিগ্রহের শিকার হচ্ছেন না বরং বিশ্বব্যাপীই নারীরা নানাভাবে উপেক্ষিত ও নিগৃহীতের শিকার হচ্ছেন। নারীর ক্ষমতায়নের কথা ফলাও করে প্রচার করা হলেও নির্বাচিত নারী জনপ্রতিনিধিদের বিভিন্ন প্রকার বৈরিতা ও প্রতিকূলতা মোকাবেলা করতে হয়। অনেক সময় তাদেরকে সহকর্মীর হাতে নাজেহাল ও নিগ্রহের শিকার হতে হয়। মূলত বাস্তব জীবনে ইসলামী অনুশাসন অনুসরণ না করার কারণেই সমাজে এত অশান্তি ও নারীরা আজ উপেক্ষিত ও অধিকার বঞ্চিত। আসলেই ইসলাম নারীকে যথাযথ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেছে। তাই নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় নারী সমাজকে ইসলামের দিকেই ফিরে আসতে আসতে হবে।


তারা বলেন, মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন নারীকে প্রকৃতির অপরিহার্য অঙ্গহিসাবে সৃষ্টি করেছেন। নারী কোন স্বত্ত্বা নয় বরং সমাজের অবিচেছদ্য অংশ। নারী ছাড়া সৃষ্টির সৌন্দর্য শ্রীহীন, স্তব্ধ ও স্থবির। মানব সভ্যতার অগ্রযাত্রাায় পুরুষের পাশাপাশি নারীও অসামান্য অবদান রেখে গেছেন। যুগে যুগে নারীরা তাদের মেধা, যোগ্যতা, শ্রম, কর্তব্যনিষ্ঠা ও মমতার সংমিশ্রণে গড়ে তুলেছে মানব সভ্যতার মজবুত বুনিয়াদ। হয়েছেন ইসলামের সোনালী অধ্যায়ের অংশ। সভ্যতার ইতিহাসে নারী সমাজের অবদান কোন অংশেই কম নয়। তাই নারী সমাজকে অবহেলিত রেখে কোন ভাবেই জাতীয় উন্নয়ন সম্ভব নয়।


তারাও আরও বলেন, দেশের জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেকই নারী। তাই নারী সমাজকে উপেক্ষা করে কোন ভাবেই জাতীয় উন্নয়ন ও অগ্রগতি সম্ভব নয়। অথচ আমাদের সমাজে নারীদেরকে যথার্থ মূল্যায়ন করা হচ্ছে না। নারীর ক্ষমতায়ন, ব্যবসা-বাণিজ্য, চাকরিসহ সকল পেশাতেই নারীরা উপেক্ষার শিকার হচ্ছেন। যোগ্যতা থাকা সত্তে¡ও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরগুলোতে নারীরা আজও চরমভাবে উপেক্ষিত। তাই দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে নারী সমাজকে যথাযথ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করার কোন বিকল্প নেই। নারী সমাজকে রাষ্ট্র ও সমাজের বোঝা মনে না করে দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করতে হবে। আর এ জন্য নারী সমাজকেই অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। তাই নিজেদের অধিকার আদায়, জুলুম-নির্যাতন ও বৈষম্য মোকাবেলায় নারী সমাজকে ইসলামী আদর্শের আলোকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার কোন বিকল্প নেই।


নেতৃদ্বয় নারী অধিকার আদায়ে সকলকে ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস চালানোর আহবান জানান।


বিজ্ঞপ্তি/জারিফ

Print