ভারতের একটি অত্যাধুনিক গরুর রচনা!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
টাইম নিউজ বিডি,
০৮ এপ্রিল, ২০১৭ ১০:৫০:১৪
#

গরু একটি গৃহপালিত প্রাণী। না হবে না, এভাবে ভালো মার্ক তোলা সম্ভব না পরিক্ষায়। যুগ পাল্টেছে তাই গরুর রচনাও পাল্টাবে। নতুন মোড়কে দাড় করাতে হবে গরুর রচনাকে। কারণ গরু এখন ভারতে সবচেয়ে আলোচিত প্রাণী। তাই গরু নিয়ে এক অত্যাধুনিক রচনা প্রকাশিত হলো ভারতীয় এক সংবাদ মাধ্যমে। নিম্নে তা তুলে ধরা হলো:-


গরু একটি মুখ্যমন্ত্রীপালিত প্রাণী। গরুর চারটি পা, দু’টি শিং, একটি ল্যাজ এবং একটি অদৃশ্য লম্বা হাত আছে। সেই হাতটি লখনউয়ের কালিদাস মার্গ থেকে দিল্লির অশোক রোড পর্যন্ত প্রসারিত। গরু সাদা, কালো, বাদামি এবং গেরুয়া রংয়ের হয়।


গরু আমাদের দুধ দেয়। গরুর দুধ খুবই পুষ্টিদায়ক। কিন্তু এক লিটার গরুর দুধে যতটা পুষ্টি থাকে, তার তুলনায় একটি গরু রক্ষা করলে অনেক বেশি পুণ্য অর্জন হয়। গরুর চামড়া দিয়ে জুতো তৈরি হয়। কিন্তু গরুর চামড়া দিয়ে জুতো তৈরি করলে জুতোপেটা করা হয়। মানুষ এবং গরুর জীবনের মূল্য এখন সমান। মানুষের মতো গরু মারলেও এখন যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে।


দেশের প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী বা অন্য কোনও ভিআইপি-দের মতো গরুদেরও এখন ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী থাকে। তাঁদের গোরক্ষক বলা হয়। আগে যাঁরা গরুর দেখাশোনা করতেন, তাঁদের রাখাল বালক বলা হতো। এখন ‘গোরক্ষক’ বা ‘গোসেবক’-রা রয়েছেন।


গরু খুবই নিরীহ প্রাণী। সে ঘাস খায়। কিন্তু গরুকে খাওয়ার আগে এখন বাঘ-সিংহকেও দু’বার ভাবতে হয়। গরু অত্যন্ত শান্ত স্বভাবের প্রাণী। কিন্তু সেই গরুকে নিয়েই দেশের সংসদও এখন অশান্ত হয়ে উঠছে।


গরু শ্রীকৃষ্ণের সহচর। কিন্তু এতদিন কেউ তাকে সেভাবে পাত্তা দিত না। ইদানিং মানুষ তাকে বেশ সমীহ করে। কারণ গরুর গায়ে সামান্য হাত পড়লেও তার ফল প্রাণঘাতী হতে পারে। টিভি চ্যানেল, খবরের কাগজের হেডলাইনে এখন রোজ গরু জায়গা করে নিচ্ছে। এখন তাই ‘গরু’ বলে গালাগাল দিলেও কেউ রেগে যায় না।


গরুর কিন্তু এতটুকু অহংকার নেই। কারণ ইদানিং গুরুত্ব বেড়ে যাওয়া সত্ত্বেও গরুর চাউনি কিন্তু আগের মতোই নিরীহ রয়েছে। তাকে নিয়ে এই মাতামাতিতে সে খুশি হয়েছে না দুঃখ পেয়েছে, গরুর চোখের দিকে তাকিয়ে তা বোঝারও উপায় নেই।


গরুর মাংসের অভাবে দেশের বেশ কিছু চিড়িয়াখানায় খাদ্যসংকট দেখা গিয়েছে। মাংস সংকটেও ভুগছে কোনও কোনও অঞ্চল। গোরক্ষকদের তৎপরতায় যেভাবে দেশে গরুর সংখ্যা বাড়ছে, তাতে অদূর ভবিষ্যতে ঘাস এবং বিচালির সংকটও দেখা দিতে পারে। ঘাসের অভাবে অন্যান্য তৃণভোজীদের অস্তিত্বসংকটও দেখা দিতে পারে। কিন্তু তারা সেকথা আপাতত বুঝছে না।
জেড


 

Print