আত্মস্বার্থে রাজনীতি ও আমাদের গন্তব্য

সৈয়দ মাসুদ মোস্তফা
টাইম নিউজ বিডি,
২৭ এপ্রিল, ২০১৭ ১৫:০৮:১১
#

নাগরিক অধিকার নিশ্চিতকরণ, গণমানুষের নিরাপত্তা এবং জনজীবনের শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার ধারণা থেকেই আধুনিক রাষ্ট্রের ব্যুৎপত্তি। রাষ্ট্র যাতে সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত হয় এজন্যই সরকার। আর নিয়মতান্ত্রিকভাবে সরকার গঠিত হয়ে সুশাসন নিশ্চিত করতেই রাজনৈতিক দল বা শক্তির উত্থান। সরকার পদ্ধতি কী হবে তা নির্ধারণে রচিত হয় শাসনতন্ত্র বা সংবিধান। মূলত আধুনিক বিশ্বব্যবস্থা গণতান্ত্রিক ভাবধারার উপর প্রতিষ্ঠিত। যদিও ক্ষেত্র বিশেষে এর ব্যতিক্রম রয়েছে। তাই একথা নির্দিধায় বলা যায় যে, রাষ্ট্র, সরকার, সুুশাসন, শাসনতন্ত্র, রাজনৈতিক দল বা শক্তি এবং গণতন্ত্র একে অপরের পরিপূরক; অবিচ্ছেদ্য অংশ। একটি উপেক্ষা করে অপরটি সফল ও সার্থক করার কোন সুযোগ থাকে না।


রাজনীতি মূলত সেবামূলক কাজ। ব্যবসার মূলধন নয়; আত্মস্বার্থ চরিতার্থ করার হাতিয়ারও নয়। যে রাজনীতি মানুষের কল্যাণে আসে না সে রাজনীতিকে গণমুখী বলার কোন সুযোগ থাকে না বরং গণবিরোধী বলায় অধিক যুক্তিযুক্ত। কিন্তু আমাদের দেশের ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে রাজনীতি আত্মস্বার্থ, গোষ্ঠীস্বার্থ, শ্রেণিস্বার্থ ও দলীয় স্বার্থ চরিতার্থ করার মোক্ষম হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে একশ্রেণির রাজনীতিকদের কাছে। ফলে আমাদের রাজনীতির কক্ষচ্যুতি ঘটেছে বললেও অত্যুক্তি হওয়ার কথা নয় বরং এটিই এখন বাস্তবতা।


মূলত আত্মকেন্দ্রীক ও শ্রেণি স্বার্থে রাজনীতিই এখন আমাদের দেশ ও জাতিস্বত্তার জন্য মারাত্মক হুমকী হয়ে দেখা দিয়েছে। বিশ্বের প্রতিটি রাষ্ট্রই কমবেশী বহির্শক্তির হুমকী মোকাবেলা করতে হয়। কিন্তু এ ক্ষেত্রে আমরা কিছুটা হলেও আত্মঘাতী। আমাদের দেশের চলমান রাজনীতি যে অবস্থায় এসে ঠেকেছে তাতে আমাদের ধবংসের জন্য আমরা নিজেরাই যথেষ্ট। এজন্য কোন বিদেশী শক্তির হস্তক্ষেপ প্রয়োজন নেই। কোন পারমাণবিক মারণাস্ত্রের প্রয়োজন আছে বলে মনে হয় না। তাই বিষয়টি নিয়ে নতুন করে ভাবার আবশ্যকতা দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে বিলম্ব আত্মঘাতী হবে বলেই মনে হয়।


স্বাধীনতার পর অনেকবারই ক্ষমতার হাতবদল হয়েছে। জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনের কথা বলে আমরা জনগণের সমর্থন কামনা করেছি। তারাও অনেক আশা-ভরসা নিয়ে বারবার ক্ষমতার পালাবদল ঘটিয়েছেন। কিন্তু সে আশায় বারবারই গুঁড়ে বালি পরেছে। জনগণের ভাগ্যের শিঁকে ছিড়তে কখনো দেখা যায়নি। ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটেছে এক শ্রেণির অসাধু রাজনীতিকের। জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনের কথা বলে নিজেরাই নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তন করে নিয়েছেন। আর এজন্য তারা যত গর্হিতপন্থা অবলম্বন করা দরকার কোন কিছু করতেই কুন্ঠাবোধ করেননি বা এখনও করা হচ্ছে না।


ফলে দেশের সুস্থ্যধারার রাজনীতি গতিপথ হারিয়েছে। প্রচলিত রাজনীতি জনগণের কল্যাণের পরিবর্তে গণদুর্ভোগ সৃষ্টিতে সহায়ক হচ্ছে। রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে স্থান করে নিয়েছে জুলুম, নির্যাতন, হত্যা, নৈরাজ্য, গুপ্তহত্যা ও রাজনৈতিক সন্ত্রাস। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে রাজনৈতিক ও আদর্শিকভাবে মোকাবেলা না করে এসব গর্হিত পথ অনুসরণ করার একটা অশুভ প্রবণতা আমাদের দেশের রাজনীতিতে শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ক্ষমতাসীনদের পক্ষ থেকে। আর অবস্থা চলতে থাকলে আমাদের গন্তব্য কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে তা বলা বেশ কষ্টসাধ্যই বৈকি!


প্রচলিত রাজনীতি শুধু রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকেই আক্রমণের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করছে না বরং আত্মস্বার্থে আঘাত লাগলে নিজ দলের লোকজনকেও ছাড় দেয়া হচ্ছে না। স্বার্থান্ধতায় যখন একশ্রেণির রাজনীতিকের ধ্যান-জ্ঞান তখন কোন ক্ষেত্রেই এর অন্যথা কল্পনা করার সুযোগ খুব একটা থাকে না। বিশেষ করে যারা ক্ষমতায় থাকেন তাদের জন্য একথাটা শতভাগ উপযোগী। কারণ, যারা ক্ষমতায় থাকেন তাদের হাতেই স্বার্থ উদ্ধারের উপায়-উপকরণটা বেশী থাকে। ফলে ক্ষমতাসীন দলের মধ্যেই উপদলীয় কোন্দলটা প্রকট আকার ধারণ করে। স্বার্থের দ্বন্দ্বে অনেকইে বলী হন নিজ দলের নেতাকর্মীদের হাতেই। আর এ থেকে আলাদা নন বর্তমান ক্ষমতাসীনরা।


মূলত সরকারি দলের দলন-পীড়নের কারণে রাজনৈতিক ময়দানে বিরোধী দলগুলো এখন অনেকটাই কোণঠাসা। ফলে সকল ক্ষেত্রেই চলছে ক্ষমতাসীনদের রাজত্ব। কিন্তু এতেও সন্তষ্ট থাকতে পারছেন না সরকারি দলের একশ্রেণির নেতাকর্মী। তারা ক্ষমতার উচ্ছিষ্টের ভাগবাটোয়ারা নিয়ে নিজেরাই আত্মকলহে লিপ্ত হয়েছে। আসলে আত্মস্বার্থ চরিতার্থকে কেন্দ্র করেই ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগে গৃহদাহ শুরু হয়েছে বেশ আগেই। আর এটিকে অস্বাভাবিক মনে করার কোন সুযোগ আছে বলে মনে হয় না। কারণ, আত্মস্বার্থ যখন মূখ্য হয় তখন জাতীয় স্বার্থ একেবারেই গৌণ হয়ে যায়। আর সে ধারাবাহিকতায় সরকারি দলের আত্মকলহ এখন সকল সময়ের সীমা অতিক্রম করেছে বলেই মনে হচ্ছে। কেন্দ্রীয় সংগঠন থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যন্ত তা বিস্তৃতি লাভ করেছে। যা ক্রমেই ভয়াবহ হয়ে ওঠার লক্ষণ পাওয়া যাচ্ছে।


বিশেষত, দলের তৃণমূলে কোনো কিছুতেই থামছে না সঙ্ঘাত, আত্মকলহ, মারামারি, সংঘর্ষ ও খুনাখুনি। কখনো এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করতে গিয়ে, কখনো ক্ষমতার দাপট দেখাতে আবার কখনো দলীয় পদ-পদবির লোভে প্রতিহিংসা পরায়ণ হয়ে নিজ দলের নেতাকর্মীকে খুন করতে পিছপা হচ্ছে না নিজদলেরই প্রতিপক্ষ। আবার ঠিকাদারি, টেন্ডারবাজি, মাদক ব্যবসার স্বার্থে কখনো কখনো ভয়াবহ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ছেন নেতাকর্মীরা। এসব সংঘর্ষে প্রাণহানির ঘটনাও নেহাত কম নয়। আর তা কোন ভাবেই থামানো যাচ্ছে না। আর থামানোর জন্য কোন কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণকরা হচ্ছে এমনটাও দৃশ্যমান নয়।


সাম্প্রতিক সময়ে এর ব্যাপ্তীটা অন্য সকল সময়ের চেয়ে বেশী বলেই করছেন তথ্যাভিজ্ঞমহল। কারণ, দেশ এখন চাঁদাবাজ, জুলুমবাজ, ফেৎনাবাজ ও দুর্নীতিবাজদের কবলে চলে গেছে বলে মনে করা হচ্ছে। তাই তো সাবেক প্রধান বিচারপতি প্রয়াত হাবিবুর রহমান খেদোক্তি করে বলেছিলেন, ‘দেশটা এখন বাজিকরদের হাতে চলে গেছে’। তার কথায় মহল উষ্মা প্রকাশ করলেও বাস্তবতা একেবারে উপেক্ষা করার কোন সুযোগ আছে বলে মনে হয় না। কারণ, বাজিকররাই এখন সবকিছুতেই প্রাধান্য বিস্তার করতে সক্ষম হয়েছে। এ ক্ষেত্রে কোনো ভাবেই পিছিয়ে নেই যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ ক্ষমতাসীন দলের সহযোগী-ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলো। সরকারি দলের এসব অঙ্গ সংগঠনের তৎপরতা জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। যেভাবে পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে তাতে আমাদের আগামীটা মোটেই সুখকর হবে বলে মনে হয় না।


প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, সরকারি দল ও তার অঙ্গসংগঠনের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে চলতি এপ্রিল মাসেই নিহত হয়েছেন তিনজন নেতাকর্মী। আর গত জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ১০ জন নেতাকর্মী প্রাণ হারিয়েছেন। সব মিলিয়ে বর্তমান আওয়ামী সরকারের শাসনামলে অভ্যন্তরীণ কোন্দলে গত আট বছরে সাড়ে তিন শতাধিক নেতাকর্মী নিহত হয়েছেন। গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ এবং বেসরকারি মানবাধিকার সংস্থাসহ সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মাধ্যমে এসব তথ্য জানা গেছে। বিষয়টি নিয়ে ক্ষমতাসীনরা কিছুটা উদ্বিগ্ন হলেও এসব অপরাধের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারছে না। কারণ, এতে সরকারের জন্য হিতে বিপরীত হওয়ার সম্ভবনাটা একেবারে উড়িয়ে দিচ্ছে না সরকার সংশ্লিষ্টরা। কারণ, রাজনীতি যখন স্বার্থচর্চার উপলক্ষ্য হয়ে ওঠে, তখন মানবতা হয় পরাভূত; বিবেক হয় অকেজো। আর সাম্প্রতিক সময়ে বিষয়টি ক্ষমতাসীনদের বেশ ভোগাচ্ছে। কিন্তু ক্ষমতার মোহে মোহাচ্ছন্ন এ বিষয়ে কার্যকর কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারছে না। যে সরকার দলীয় নেতাকর্মীদের জানমালের নিরাপত্তা দিতে পারেন না সে সরকারের হাতে জনগণের জানমাল কতখানী নিরাপদ তা সহজেই অনুমেয়।


বেসরকারি মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিস কেন্দ্রের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত সারা দেশে আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষ হয়েছে ৩৫টি। ওই সংঘর্ষে ৬ নেতাকর্মী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৫৭৬ জন। আওয়ামী লীগ-যুবলীগের মধ্যে এক সংঘর্ষে তিনজন নিহত ও ২২ জন নেতা আহত হয়েছেন। আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে তিনটি। এতে আহত হয়েছেন ৩১ জন। অভ্যন্তরীণ কোন্দলে গত তিন মাসে সারা দেশে চারটি সংঘর্ষে দুই নেতাকর্মীকে হারিয়েছে ছাত্রলীগ। গত ২০১৬ সালে রাজনৈতিক সঙ্ঘাতে দেশে ১৭৭ জনের প্রাণহানি হয়। এর মধ্যে শুধু ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগেরই ৮৩ জন। আর ২০১৫ সালে রাজনৈতিক সঙ্ঘাতে প্রাণহানি হয়েছে ১৫৩ জনের। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী-ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের মধ্যে সঙ্ঘাতে নিহত হয়েছেন ৩৩ জন। ২০১৪ সালে নিহতের সংখ্যা ছিল ১৪৭। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের ৩৪ জন।


মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দেয়া তথ্য মতে, গত ১৯ এপ্রিল নরসিংদীর রায়পুরায় আধিপত্য বিস্তার কেন্দ্র করে বাঁশবাড়ী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা সিরাজুল হক এবং সাবেক চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমানের সমর্থকদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে শারফিন নামে একজন নিহত হন। ১৮ এপ্রিল রাতে কুমিল্লার মুরাদনগরে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউপি সদস্য আলী আশরাফ এবং আলাউদ্দিন আনিস গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আওয়ামী লীগ কর্মী ফারুক ও সাইদুর নিহত হন। একই দিনে ফরিদপুরের সালথায় আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হন। ১৬ এপ্রিল শরীয়তপুরের নড়িয়ায় আধিপত্য বিস্তার কেন্দ্র আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হন। এ ছাড়াও ১০টি ঘরবাড়ি ও পাঁচটি দোকান ভাঙচুর হয়।


গত বছর ২০ জুলাই শরীয়তপুরের নড়িয়ার জবসা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান শওকত আলীর সমর্থকেরা স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা জাকির হোসেন হাওলাদারকে কুপিয়ে হত্যা করে। গত ১৭ জানুয়ারি সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় একটি জলমহাল দখলকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপে রক্তয়ী সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনজন নিহত হন। এ ঘটনায় আহত হন আরো ২০ জন। এর আগের দিন পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিরোধের জের ধরে বড় মাছুয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি কাইয়ুম হোসেনকে কুপিয়ে জখম করে প্রতিপরে নেতাকর্মীরা।


গত ১২ জানুয়ারি রাজধানীর স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজে সিট ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এর আগে ১০ জানুয়ারি আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার বড়কান্দি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা সিরাজ সিকদার এবং সাবেক চেয়ারম্যান শফিউদ্দিনের সমর্থকদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে হোসেন খাঁ নিহত হন। বরগুনা জেলায়ও চলছে অভ্যন্তরীণ কোন্দল, রেশারেশি। এর জের ধরে বরগুনা-২ আসনের এমপি শওকত হাসানুর রহমানের বিরুদ্ধে হামলা, মামলা ও নির্যাতনের অভিযোগ এনে রাজধানীতে ১১ জানুয়ারি সংবাদ সম্মেলন করে পাথরঘাটা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক মহিলাবিষয়ক সম্পাদক বিলকিস আরা রানী।


গত ৩ জানুয়ারি বান্দরবান জেলা আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক কাজী মজিবুর রহমানের বাসভবনে হামলা চালায় স্থানীয় নেতাকর্মীরা। এর আগের দিন কক্সবাজারের চকরিয়ায় ইয়াবার টাকা ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের দুইগ্রুপের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ইটের আঘাতে আহত হন এক প্রবীণ শিক্ষক। নতুন বছরের শুরুতেই গণমাধ্যমের শিরোনামে আসে খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগ। মহানগর আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক জেড এ মাহমুদকে ল্য করে প্রতিপক্ষের লোকজন গুলি করলে তা ল্যভ্রষ্ট হয়ে এক পথচারী নারী নিহত হন।


ভিকটিমের অভিযোগ মতে, মাদক ব্যবসায়ের বিরোধিতা করায় তাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। এর আগে ৩১ জুলাই খুলনায় ছাত্রলীগ নেতা সৈকতকে খুন করে প্রতিপরে নেতাকর্মীরা। সম্প্রতি আওয়ামী লীগের সম্পাদকমন্ডলীর বৈঠকে দলের তৃণমূলের এই অস্থিরতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তৃণমূলের এসব কোন্দল নিরসনে সাংগঠনিক সম্পাদকদের তাগিদ দেয়া হয়েছে দলের পক্ষ থেকে। কিন্তু এতে কোন সুফল মিলবে বলে আপাত মনে হচ্ছে না। কারণ, আমাদের দেশের প্রচলিত রাজনীতি এখন রাজনীতিকদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। এখন রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করছে একশ্রেণীর অসৎপ্রবণ ব্যক্তি। ফলে রাজনীতির সজ্জন ব্যক্তিরা অনেকটাই কোনঠাসা। তাই বিদ্যমান অবস্থার পরিবর্তন না ঘটিয়ে কোন নির্দেশনার মাধ্যমে ক্রমাবনতিশীল পরিস্থিতি কোন ভাবেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়।


আমরা আগেই উল্লেখ করেছি যে, রাজনীতি এখন আর গতিপথে নেই বরং কক্ষচ্যুতি ঘটেছে। তাই প্রচলিত রাজনীতিকে কল্যাণমূখী করতে হলে রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন আনতে হবে। আত্মস্বার্থে রাজনীতির পরিবর্তে রাজনীতিকে গণমুখী করতে হবে। আর এজন্য রাজনীতিকদের মানসিকতার পরিবর্তন হওয়া জরুরি। প্রচলিত রাজনীতিকে অব্যাহত রেখে গণমানুষের কল্যাণ কামনা ‘আকাশ কুসুম’ চিন্তা বৈ কিছু নয়। তাই নেবিবাচক রাজনীতি থেকে বেড়িয়ে এসে ইতিবাচক রাজনীতির সূচনা করতে হবে। এজন্য মূখ্য ভূমিকা পালন করতে হবে রাজনীতিকদেরই। কারণ, জনগণের ভাগ্য নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব থাকে রাজনীতিকদের হাতেই। আর এজন্য রাজনৈতিক ঐক্যের কোন বিকল্প নেই। অন্যথায় আমাদের গন্তব্য অজানাই থেকে যাবে।


সৈয়দ মাসুদ মোস্তফা


(বি. দ্র: মতামত লেখকের একান্ত নিজস্ব। টাইমনিউজবিডির সম্পাদকীয় নীতিমালার সাথে এর কোন সম্পর্ক নেই)

Print