শাহজালাল বিমানবন্দরে বিস্ফোরক শনাক্তকরণ যন্ত্র চায় ইইউ

টাইম ডেস্ক
টাইম নিউজ বিডি,
০৬ জুন, ২০১৭ ১৯:১৮:১৩
#

বাংলাদেশকে 'হাই রিস্ক' দেশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে আকাশপথে কার্গো পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে ঢাকা শাহজালাল বিমানবন্দরে আরো তল্লাশি বাড়ানোর কথা বলেছে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন।


ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন বলছে আগের করা বিধিনিষেধের সাথে এখন বিস্ফোরক শনাক্তকরণ যন্ত্র যুক্ত করতে হবে।


বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এর আগে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে, কিন্তু তারপরেও নতুন করে ইইউ কেন এই তল্লাশি বাড়ানোর কথা বলছে?


২০১৬ সালে নিরাপত্তার কথা বলে বাংলাদেশ থেকে আকাশপথে সরাসরি কার্গো পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাজ্য। ওই নিষেধাজ্ঞা এখনও প্রত্যাহার হয়নি। এরপর যুক্তরাজ্যের পরামর্শে ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দরে নিরাপত্তার দায়িত্ব পায় ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠান রেড লাইন।


প্রতিষ্ঠানটি সিভিল এভিয়েশনের নিরাপত্তা কর্মীদের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি যাত্রীদের ব্যাগ তল্লাশিসহ বিভিন্ন আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজনের পরামর্শ দেয়। এখন ইউরোপিয় ইউনিয়নের নতুন করে কার্গোর উপর তল্লাশি কার্যক্রম জোরদার করতে বলায় প্রশ্ন উঠেছে, নিরাপত্তার প্রশ্নে কি এখনো কোন ঘাটতি রয়ে গেছে?


বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের জনসংযোগ কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলছিলেন, "অতীতে আমাদের যেভাবে ইন্সট্রাকশন দিয়েছেন আমরা সেভাবে করেছি। কার্গো ভিলেজে দুটি এক্সপ্লোসিভ ডিটেকশন ব্যবস্থা করা হচ্ছে যেটা অগাস্টের মধ্যে সম্পূর্ণ হবে"।


ইউরোপিয় ইউনিয়ন লিখিত একটি বক্তব্যে বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন পণ্য পরিবহনের নিরাপত্তার জন্য বাংলাদেশ থেকে যেসব পণ্য আকাশপথে কার্গোর মাধ্যমে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোতে যাবে, সেসব পণ্য দ্বিতীয় দফায় স্ক্যানিং বা তল্লাশি করতে হবে এখন।


তল্লাশির জন্য বিস্ফোরক শনাক্তকরণ যন্ত্র যুক্ত করার জন্য অনুরোধ করেছে তারা। ইইউ বলছে এই তল্লাশি বাংলাদেশে অথবা ইইউভুক্ত দেশে ঢোকার আগে ট্রানজিট দেশে হতে পারে এবং এর দায়-দায়িত্ব এয়ারলাইনসগুলোকে নিতে হবে।


বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস যুক্তরাজ্যে সরাসরি কোন পণ্য নিয়ে যেতে পারে না এক বছর ধরে। এয়ারলাইন্সটির জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক শাকিল মিরাজ বলছিলেন নিরাপত্তা দেয়ার দায়িত্বটি সম্পূর্ণ ভাবে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের উপর বর্তায়।


তিনি বলছিলেন মূলত বিমানবন্দরের সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্ব সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের। ওনারা কাজ করছেন ওনারাই ভালো বলতে পারবেন। বিমান বাংলাদেশ বলছে এর ফলে গত এক বছরে ৭০ কোটি টাকার মত রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে তাদের।


যুক্তরাজ্য ছাড়াওও গত ডিসেম্বরে অস্ট্রেলিয়া ও জার্মানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে 'আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে' ঘাটতির কথা বলে বাংলাদেশ থেকে আকাশপথে পণ্য পরিবহনের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল । এসব কারণে বাংলাদেশ থেকে সব পন্য পরিবহনকারি কার্গো বিমান কে তৃতীয় একটি দেশে স্ক্রিনিং এর মধ্যে যেতে হয়।


বাংলাদেশ থেকে যারা বিশাল পরিমাণে পণ্য রপ্তানি করেন তাদের একটি পোশাক শিল্প। তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমই এর প্রেসিডেন্ট সিদ্দিকুর রহমান বলছেন এর ফলে তাদের রপ্তানি ব্যয় এবং সময় দুটোই অনেক বেড়ে যাবে।


তিনি বলছিলেন "সুষ্ঠু ভাবে ব্যবসা করার যে প্রক্রিয়া সেখান থেকে আমরা আস্তে আস্তে সরে যাচ্ছি। যদি কার্গো ডাইরেক্ট ইউরোপ বা আমেরিকায় না যেতে পারে এবং আরেক জায়গায় যদি স্ক্যানিং করতে হয় তাহলে এটা বিরাট সময়ের বিষয়। এছাড়া আমাদের লেবারের খরচের চেয়ে ঐসব দেশের লেবারের খরচ অনেক বেশি। এই জিনিস গুলো অবশ্যই আমাদের ব্যবসা বাধাগ্রস্ত হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত করবে।"


শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কার্গো ভিলেজ থেকে প্রতিদিন গড়ে ৪০০ টন কার্গো বিভিন্ন দেশে যায়, যার ৯০ শতাংশই তৈরি পোশাক। বাকি ১০ শতাংশের মধ্যে রয়েছে ওষুধ ও পচনশীল বিভিন্ন পণ্য।(বিবিসি)


এমবি  

Print