বিশেষ টিম গঠনে মন্ত্রীদয়গণের প্রতি বিনীত আবেদন

মোঃ জিয়াবুল আলম
টাইম নিউজ বিডি,
১৮ জুন, ২০১৭ ১৪:১৬:১৯
#

প্রতি বছরের ন্যায় এবারও বেশির ভাগ শহরবাসী আসন্ন ঈদুল ফিতর উদযাপনের জন্য গ্রামে যাবেন এবং ঈদ শেষে আবার শহরমুখী হবেন। বিগত কয়েক বছর যাবত দেখা যাচ্ছে, অতিরিক্ত ঘরমুখী মানুষের জন্য সরকার যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে অতিরিক্ত বাস, ট্রেন, লঞ্চ, ষ্টীমার ইত্যাদি যানবাহনের ব্যবস্থা করে থাকেন।


কিন্তু বাংলাদেশে অতিরিক্ত লোকজন পরিবহনের জন্য ঈদ উপলক্ষে যতই যানবাহন বৃদ্ধি করা হোক না কেন স্থলপথে রাস্তার আকার আকৃতি বৃদ্ধি সম্ভব না। বিশেষ করে রাস্তার ট্রাফিক ক্রসিং, ফেরীঘাটে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে গতানুগতিক যানজট হওয়ার সম্ভাবনা অত্যধিক মাত্রায় সৃষ্টি হয়েই থাকে।


ফলে ঈদের সময় সাধারণ সময়ের তুলনায় রাস্তায় কয়েকগুন যানবাহন বেশি থাকে এবং সৃষ্ট যানজটের কারণে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় যাতায়াতে অনেক বেশি সময়ের প্রয়োজন হয়।


এছাড়া, প্রতি বছরই যানবাহন দুর্ঘটনার কারণে বেশ কিছু মানুষের প্রাণহানি ঘটে থাকে। বর্তমান সরকার জনকল্যাণে বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। অনেক মেগা প্রজেক্ট চলছে এবং ভবিষ্যতের জন্য পরিকল্পনাও রয়েছে। আসন্ন ঈদুল ফিতরসহ আগামীতে দুইটি ঈদ উপলক্ষে বিশেষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষের জন্য ঈদকে আরামদায়ক করা সম্ভব।


এ বিষয়ে জনকল্যাণে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়গুলোর একটি সম্মিলিত পরিকল্পনার আলোকে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পথে ঘাটে যানজটের বিড়ম্বনা থেকে মুক্ত করে ঈদকে শান্তিময় ও আনন্দদায়ক করা সম্ভব। এ বিষয়ে মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়গনের প্রতি বিশেষ অনুরোধ, নীচে উল্লিখিত প্রস্তাবগুলোর মাধ্যমে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশে দুইটি ঈদ উপলক্ষে যাতায়াত ব্যবস্থা সহজ করা সম্ভব হতে পারে -


১) অত্যধিক যানজট কবলিত অঞ্চল রাজধানী ঢাকা থেকে এর চতুর্দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনাব্রীজ, ঢাকা- গাজীপুর থেকে ময়মনসিংহ, ঢাকা-পাটুরিয়াঘাট, ঢাকা-মাওয়াঘাট, ঢাকা-নারায়নগঞ্জ, ঢাকা-মেঘনাঘাট; এই সমস্ত রুটগুলোকে যানজটমুক্ত রাখার জন্য পুলিশ, র‍্যাব, আনসার, গ্রাম পুলিশ এর সাথে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী নিয়ে কেন্দ্রীয়ভাবে প্রায় ৫০,০০০ (পঞ্চাশ হাজার) বা তদূর্ধ্ব সংখ্যক এবং উপজেলা ভিত্তিক ১০০ বা তদূর্ধ্ব সংখ্যক লোক নিয়ে বিশেষ টিম গঠন করে ঈদের পূর্বে ০২ দিন এবং ঈদের পরে ঢাকাগামী হওয়ার সময় ০২ দিন অর্থাৎ মোট ০৪ দিন রাস্তাঘাট এবং ফেরীঘাটে যানবাহন সুশৃঙ্খলভাবে গতিপথ নিয়ন্ত্রণ করলে যানজটমুক্তভাবে যাত্রীগণ আরামদায়কভাবে যাতায়াত করতে পারবেন।


২) ফেরীঘাটে গাড়ীগুলো আনলোড হওয়ার পূর্বেই বাস, ট্রাক প্রাইভেট কার ইত্যাদি রাস্তাটি ব্লক করে দেয়।ফলে লোড কিংবা আনলোড কোনটিই হতে পারে না। ফলশ্রুতিতে নদীর উভয় তীরে বিশাল যানজটের সৃষ্টি হয়। ঈদের সময় এই ভোগান্তি থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য উপরে ০১ নং এ বর্ণিত পদ্ধতিতে বিশেষ টিমের মাধ্যমে সুষ্ঠু ম্যানেজমেন্ট করে ফেরীঘাট যানজটমুক্ত রেখে ঈদ শান্তিময় ও আরামদায়ক করা সম্ভব।


৩) প্রায়ই শোনা যায় ঈদের সময় ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয়ের কথা যা কারো কাম্য নয়। রাস্তাঘাট যানজটমুক্ত থাকলে ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় ঘটবে না এবং নির্ধারিত সময়ে ট্রেন ছাড়া সম্ভব হবে।


বাংলাদেশের জাতীয় জীবনে দুইটি ঈদ খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং ধর্মীয় বিষয়। ঈদের সময়ের জন্য উপরে উল্লিখিত প্রস্তাবগুলো সুবিবেচনায় নিয়ে মাননীয় সড়ক যোগাযোগ ও সেতুমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, নৌপরিবহনমন্ত্রী এবং রেলমন্ত্রী মহোদয়গনের প্রতি আকুল আবেদন এই যে, বিশেষ টিম গঠন করে ঈদের সময় মানুষের ভ্রমণ নিরাপদ, আরামদায়ক ও শান্তিময় করার ব্যবস্থা করুন।


এ কাজে মানুষের কল্যাণে বার্ষিক বাজেটে প্রয়োজনীয় তহবিল রাখা যেতে পারে। এতে ধনী, গরীব নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষ খুশী হবে এবং সরকারেরও সুনাম হবে।


লেখক: ব্যাংকার


(বি. দ্র. মতামত লেখকের একান্ত নিজস্ব। টাইমনিউজবিডির সম্পাদকীয় নীতিমালার সাথে এর কোন সম্পর্ক নেই)


এমএনজে

Print