ইন্দুরকানীতে হতদরিদ্ররা ভাতা নিতে এসে ভোগান্তির স্বীকার

পিরোজপুর প্রতিনিধি
টাইম নিউজ বিডি,
১৮ জুন, ২০১৭ ২০:১৪:১৪
#

পিরোজপুরের ইন্দুরকানী বিধবা, বয়স্ক, প্রতিবন্ধি ভাতা সহ সরকারী বিভিন্ন ভাতা নিতে এসে চরম ভোগান্তির স্বীকার হচ্ছেন ভাতা প্রাপ্ত গ্রহকরা।


বাংলাদেশ সরকারের বিধি মোতাবেক সারা দেশের মত ইন্দুরকানী উপজেলায় বৃদ্ধদের বয়স্কভাতা ৭৫৫ জন, বিধবাদের বিধবা ভাতা ৩৫০ জন প্রতিবন্ধিদের প্রতিবন্ধি ভাতা ২৫০জন, মুক্তিযোদ্ধা ভাতা ৯৯ জন মাতৃত্বকালীন ভাতা ২৫০ জন ইন্দুরকানী সোনালী ব্যাংক থেকে প্রদান করা হয়।


রোববার ইন্দুরকানী সোনালী ব্যাংক শাখায় ব্যাংকের চারপাশে প্রায় ৫ শতাধিক গ্রাহকরা রোজা রেখে সরাদিন বসে থাকতে দেখা যায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানান, ষ্টাফ সল্পতার থাকার কারনে এই সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে।


উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে বার বার বলা সত্তেও উপজেলা ব্রাঞ্চ শাখায় ৫ জন কর্মকর্তা কর্মচারী দিনে ব্যাং পরিচালনা করতে কষ্ট হয়। জুন মাসের শেষ সপ্তাহে বিভিন্ন লেনদেনের কারনে এই সমস্যাটি সৃষ্টি হয়েছে।


এছাড়া উপজেলা সমাজ সেবা বিভাগ থেকে সময় মত তালিকা এবং ডিউ টাইমে প্রদান করলে এই সমস্যা হত না। তারা প্রায়ই মাসের শেষ সপ্তাহে দিয়ে থাকে, যার কারনে এই সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে।


ভাতা প্রাপ্তিরা অভিযোগ করে বলেন যে, আমরা উপজেলার এক প্রান্ত থেকে ভাতা নিতে এসে সারাদিন এখানে বসে থেকে সন্ধ্যা বেলা টাকা নিয়ে বাড়ীতে যেতে হয়।


এমনকি মাঝে মধ্যে ভাতার টাকা না দিয়ে বিতরণের তারিখ পরিবর্তন করে বাড়িতে যেতে বলে। আমাদের মধ্যে অনেকেই বৃদ্ধ। আবার যারা প্রতিবন্ধি তারা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হয়ে এখানে ভাতার টাকা নেওয়ার জন্য অপেক্ষায় বসে থাকে।


বয়স্ক ভাতার গ্রাহক বিরেন সরকার ও আইনদ্দিন জানায়, আমরা ১৫ মাইল দুর থেকে এসে সকাল থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত বসে আছি। অদ্যবধি এখন পর্যন্ত ভাতা দেওয়ার কোন উদ্যোগ দেখি না। একই অভিযোগে আকাব্বর চৌকিদর সাহেদা খাতুন জানায়, বয়স্ক ভাকা নিতে এসে সমাজ সেবা অফিসে এক ভোগান্তি আবার ব্যাংকে ভোগান্তি ।


দুধ মেহের অভিযোগ করে জানায়, আমার বয়স ৯৫ বছর। কিভাবে আমি সকাল থেকে না খেয়ে বসে থাকি। অফিসে ভাতা নিতে এসে না ব্যাংকের লোকের অযুহাত শুনতে হয়। তোমরা তো আমার নাতির বয়সী এ ধরনের অনিয়ম আর যেন না হয়, প্রতিবাদ কর।


এ ব্যাপারে ইন্দুরকানী সোনালী ব্যাংক শাখার ব্যবস্থাপক মজিবুর রহমান আকন জানায়, আমাদের ব্যাংকে অনেক লেনদেন করতে হয়। কর্মচারী সল্পতার কারনে একটু ত্রুটি হয়। অনেক দিন ধরে আমাদের শাখায় স্টাফ কম আছে বিধায় এই সম্যাসাটি হচ্ছে। তবুও আমরা চেষ্ঠা করি আমাদের সেবা সময়মত দেওয়া। তার পরেও সকল অভিযোগগুলো সঠিক নয়।


কেফায়েত/এমএনজে

Print