৩০ এতিমের ভরসা প্রতিবন্ধী মাসুম পারভেজ

লালমনিরহাট প্রতিনিধি
টাইম নিউজ বিডি,
১৯ জুন, ২০১৭ ১৩:২০:২৮
#

ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত ছোট ভাইকে অকালে হারিয়ে বড়ই একা হয়ে পড়েন প্রতিবন্ধী মাসুম পারভেজ। ছোট ভাইয়ের স্মৃতি ধরে রাখতে ও চাচ্চু ডাক শুনতেই প্রতিবন্ধী মাসুম পারভেজ খুলেন একটি এতিমখানা।


মাত্র ২ জন এতিম নিয়ে ২০১৩ সালে শুরু করা এ এতিমখানায় এখন এতিমের সংখ্যা ৩০ জন। এতিমদের লেখাপড়া, থাকা, খাওয়া, পোশাক পরিচ্ছেদ, চিকিৎসাসহ পুরো ভরন পোষণের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছে মাসুম পারভেজ।


অথচ তিনি নিজেও প্রতিবন্ধী, ক্রেসে ভর করে তার চলাচল। তবুও এতিমদের প্রতি তার ভালবাসার কোনো কমতি নেই। শত সমস্যার মাঝেও প্রতিদিন ওই সব শিশুদের সাথে ইফতার ও সেহরী খান তিনি।


প্রতিবন্ধী মাসুম পারভেজ লালমনিরহাট শহরের বিডিআর হাট এলাকার সাবেক কমিশনার মোক্তার আলীর ছেলে।


মাসুম পারভেজ জানান, জন্মের ৬ মাস পরে পলিও রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রতিবন্ধী জীবন শুরু হয় তার। ৪ ভাই বোনের মধ্যে তিনি মেজো।


একমাত্র ছোট ভাই মাসুদ রানা ব্লাড ক্যান্সরে আক্রান্ত হয়ে অকালে পরপারে পাড়ি জমান। ফলে একা হয়ে পড়েন তিনি। বিয়ে করে তিন সন্তানের জনক হলেও চাচা হওয়ার সৌভাগ্য হয় নি তার।


চাচ্চু ডাক শুনতে ২০১৩ সালে ডিসেম্বরে এতিম শিশুদের জন্য এতিমখানা তৈরী করেন তিনি। শিশুদের লেখা পড়ার জন্য রয়েছে মোক্তারটারী মাসুদ রানা হাফেজিয়া মাদরাসা।


সকল শিশু তাকে চাচ্চু বলেই ডাকে। এ মাদরাসার শিক্ষক ও কেয়ারটেকারের বেতনসহ শিশুদের যাবতীয় খরচ মিটাতে তার প্রতি মাসে ৩০ হাজারেরও অধিক টাকা খরচ হয়।


খরচ মেটানোর বিষয়ে মাসুম পারভেজ জানান, পৈত্রিক বাসাবাড়ি থেকে প্রাপ্ত ভাড়া ও সার ডিলারী ব্যাবসার আয়ে চলে তার সংসার। ব্যবসার পরিধি বাড়াতে উত্তরা ব্যাংকের কাছে ঋনের জন্য ঘুরেও নিস্ফল হয়েছেন তিনি।


তবুও অল্প পুজি দিয়েও চালিয়ে নিচ্ছেন সব কিছু। প্রতিবন্ধী হওয়ায় নিজে প্রতিষ্ঠানিক শিক্ষা বঞ্চিত হলেও এতিমখানা তৈরীর বিষয়ে তিনি বলেন, ছোট ভাই বেঁচে থাকলে সংসারের অর্ধেকের মালিকানা পেত।


আমি চাচ্চু ডাক শুনতাম। কিন্তু ভাই নেই তাই চাচ্চু ডাক শুনতে ও ভাইয়ের স্মৃতি ধরে রাখতে এতিমখানা তৈরী করি। এসব শিশুর শিক্ষার ব্যবস্থা করেছি। কাজে ফাঁকে তাদের নিয়ে মাঝে মধ্যে গাড়ি করে বিভিন্ন এলাকায় বেড়াতে যাই। এতে তাদেরও যেমন ভাল লাগে। আমারও ভাল লাগে।


এসব শিশুকে প্রতিষ্ঠিত করে আজীবন চাচ্চু ডাক শুনাই তার লক্ষ্য বলে জানান তিনি। প্রতিবন্ধিরাই জানে সমাজে তাদের কতখানি কষ্ট। এটা অনুধাবন করে এখন প্রতিবন্ধি শিশুদের চিকিৎসা ও পুর্নবাসনের জন্য পৃথক ফান্ড তৈরী করেছেন। সেখান থেকে প্রতিবন্ধিদেরও সহায়তা করা হচ্ছে, যোগ করেন মাসুম।


তিনি বলেন, প্রতিবন্ধিদের বোঝা না ভেবে তাদের সহায়তা করলে তারাও সমাজে অবদান রাখতে সক্ষম হবে। এ ভাবে এতিম ও প্রতিবন্ধীদের ভরসা স্থলে পরিনত হয়েছেন প্রতিবন্ধী মাসুম পারভেজ। এতিম ও প্রতিবন্ধিদের সহায়তা করতে সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহবান জানান তিনি।
সরকার/জেড


 

Print