বাঁধের উপর অবৈধ বসবাস, ইঁদুরের গর্তে ধসের আশংকা

বগুড়া করেসপন্ডেন্ট
টাইম নিউজ বিডি,
১৬ আগস্ট, ২০১৭ ২১:৫৯:৫২
#

বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে।


বুধবার দুপুরে কালিতলা হার্ড পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ১২৬ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।


গাইবান্ধা সংলগ্ন বগুড়ার সোনাতলা থেকে সিরাজগঞ্জ সংলগ্ন বগুড়ার ধুনট পর্যন্ত ৪৫ কিলোমিটার ব্রহ্মপুত্র বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে অন্তত ১৩ হাজার পরিবার বসবাস করেন। নতুন করে আরও পরিবার আসায় বাঁধটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।


পাশাপাশি ইঁদুরের গর্তের কারণে শতাধিক স্থানে লিকেজ দিয়ে পানি ঢুকছে। এতে বাঁধের অনেক স্থান ধসে যাওয়ার আশংকা করা হচ্ছে।


সারিয়াকান্দির দীঘলকান্দি হার্ড পয়েন্টের কাছে বন্যা নিয়ন্ত্রণ পরিত্যাক্ত বাঁধে ফাটল ও ধসের সৃষ্টি হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয়রা পাইলিং ও বালুর বস্তা ফেলে মেরামত করছেন।


বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের সূত্র ও স্থানীয়রা জানান, বগুড়ার সোনাতলা থেকে ধুনট উপজেলা পর্যন্ত পাউবোর পরিচালন ও সংরক্ষণ বিভাগের নিয়ান্ত্রাধীন ৪৫ কিলোমিটার ব্রহ্মপুত্র বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ (বিআইই) আছে। এ বাঁধের উপর বিভিন্ন স্থানে অন্তত ১৩ হাজার পরিবার বসবাস করেন।


বন্যা শুরুর পর নতুন করে আরও অনেক পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। ইঁদুরের গর্ত ও ফাটল দিয়ে পানি চুইয়ে পড়ছে। এতে গোদাখালি, ইছামারা, সহরাবাড়ি, ভান্ডারবাড়ি, রৌহাদহ, কুতুবপুর, শেখপাড়া, দিঘলকান্দি, হাটশেরপুর, পাকুল্লা, পারতিতপরল পয়েন্টে বাঁধের নাজুক অবস্থা।


বাঁধের এক পাশে পানি অন্য পাশে ফাঁকা থাকায় দুর্বল এ বাঁধ ভেঙে যে কোনো সময় জানমালের ব্যাপক ক্ষতির আশংকা করা হচ্ছে।


এদিকে সারিয়াকান্দির দীঘলকান্দি হার্ড পয়েন্টের কাছে পরিত্যাক্ত বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের অন্তত ২০০ মিটার অংশ ফাঁটল ধরে ধসে যাচ্ছে।


পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকজন ও স্থানীয়রা বাঁধটি রক্ষায় মেরামত করছেন। এ বাঁধ রক্ষা করা সম্ভব না হলে অন্তত ১৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়বেন।


পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী বাবুল চন্দ্র শীল জানান, ৪৫ কিলোমিটার ব্রহ্মপুত্র বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে ১০ সহস্রাধিক হাজার পরিবার ঘর তুলে বসবাস করছেন। বন্যা শুরুর পর নতুন করে লোকজন আসতে শুরু করেছেন। তারা বাঁধের মাটি কেটে ঘর তুলছেন।


তিনি জানান, বাঁধের উপর গবাদি পশু রাখছেন, খড়ের গাদা করেছেন। এ খড়ের কারণে ইঁদুর মাটি খুঁড়ে বাঁধের ক্ষতি করছে। বাঁধের অন্তত ১০০ স্থানে পানি লিকেজ করছে। যেসব পাইলিং ও বালুর বস্তা ফেলে মেরামত করা হয়।


তিনি বাঁধে বসবাসের বিরোধিতা করে বলেন, পৃথিবীর কোনো দেশে এ নজির নেই। সম্প্রতি চীন থেকে একটি প্রতিনিধি দল বাঁধের উপর বসবাস করা দেখে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।


তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী বলেন, বাঁধের উপর বসতি গড়া বন্ধ না করলে বাঁধ কখনও রক্ষা করা যাবে না।


বাঁধে বসতি বন্ধে কোনো উদ্যোগ নেবেন কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, নানামুখী চাপ থাকায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না।


এবি সিদ্দিক

Print