বন্যার কারণে দেশে খাদ্য সঙ্কটের আশঙ্কা

স্টাফ রিপোর্টার
টাইম নিউজ বিডি,
১৭ আগস্ট, ২০১৭ ১৩:০২:৪০
#

বন্যার কারণে দেশে খাদ্য সঙ্কট হতে পারে। চাল আমদানিতে ধীরগতির কারণে এ সঙ্কট তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ক একজন বিশেষজ্ঞ।


বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ (বিআইডিএস)-এর ড.এম আসাদুজ্জামান বলেন, বাজারকে প্রভাবিত করার মত মজুদ সরকারের হাতে নেই। "গত ছয় মাস ধরে আমরা শুনছি তারা আমদানি করবেন, কিন্তু আমদানি তারা এখন পর্যন্ত করেননি।"


তিনি বলেন, সরকার এখন পর্যন্ত মাত্র ৩৫ হাজার টন চাল আমদানি করতে পেরেছে, আর মজুদ আছে ২ লাখ ১৫ হাজার টন। দীর্ঘস্থায়ী বন্যায় যদি ব্যাপকভাবে ত্রাণ দিতে হয়, তাহলে সরকার সেটা 'কোথা থেকে দেবে' তা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।


সরকারী তথ্য বিবরণীতে দেখা যায়, বুধবার পর্যন্ত বন্যাদুর্গত ২০টি জেলায় ত্রাণের জন্য ৩১০০ টন চাল মজুদ রয়েছে। কয়েকদিন আগে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছিলেন, সরকারের হাতে অর্থ আছে এবং চাল আমদানি করা হবে।


সেই প্রসঙ্গে ড. আসাদুজ্জামান বলেন, চীনেও এ বছর ফলন কম হয়েছে। এরই মধ্যে তারা চালের বিশ্ববাজারে ঢুকে পড়েছে। আমরা কি চীনের সাথে প্রতিযোগিতা করে কিনতে পারবো? সেটা সম্ভব হবে না এখন টেন্ডার ডেকে চাল আমদানি করতে গেলেও দুই থেকে আড়াই মাস সময় লেগে যাবে।


দেশে এক বছরে তিন দফা বন্যায় বিপুল পরিমাণ ফসল নষ্ট হয়েছে এবং আরো অনেক ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছে। সরকারী হিসেবে হাওর এলাকার বন্যাতেই বোরো উৎপাদন ২০ লাখ টন কম হয়েছে। আর এবার উত্তরাঞ্চলের বন্যায় আমন ধানের উৎপাদনও ক্ষতিগ্রস্থ হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। শুধু মাঠের ফসলই নয়, অনেক কৃষকের মজুদ করা গোলার ধানও পচে গেছে এবং যাচ্ছে। এর ফলে সামনের দিনগুলোতে অনেককেই হয়তো ত্রাণের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পরতে পারে।


লালমনিরহাটের কৃষক শুক্কুর উদ্দিন জানান, তার চাষ করা ধানের ৯০ শতাংশই প্রায় এক সপ্তাহ ধরে পানিতে ডুবে আছে। সে ধারণা করছে, এই ধানের পুরোটাই নষ্ট হয়ে গেছে। অন্যদিকে গোলার ধানও পচে গেছে।


তবে ড. আসাদুজ্জামান আরো বলেছেন, পানি যদি দ্রুত সরে যায় এবং কৃষি অধিদপ্তর যদি চারা দিতে পারে, তাহলে হয়তো কৃষকরা আবার কিছুটা আমন ধান চাষ করতে পারবেন।


এএইচ

Print