ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের কতকথা | timenewsbd.com

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের কতকথা

-সৈয়দ মাসুদ মোস্তফা-
টাইম নিউজ বিডি,
২৭ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০১:৪১:০৩
#

কথা ও কাজের মধ্যে অমিলটা এখন মরণ ব্যাধির মত আমাদেরকে পেয়ে বসেছে। অনেক সময় আমরা এ নিয়ে আত্মপ্রতারণায় লিপ্ত হই। শুধু তাই নয় বরং আমরা নিকটজন থেকে থেকে শুরু করে সমাজ, রাষ্ট্র সহ দেশের সাথেও এমনটা করতে কুন্ঠাবোধ করি না। তাই এর ফলাফলটা হয় খুবই নেতিবাচক।


মূলত একবিংশ শতাব্দীতে এসে মানুষ যখন মঙ্গলগ্রহে অভিযান চালায় তখন আমরা আত্মকলহে ব্যস্ত থাকি। তাই দেশ, জাতি-রাষ্ট্র ও সমাজের জন্য কিছু করার সুযোগ আমাদের জন্য তেমন একটা থাকে না। যা কিছু করি তার প্রায় সবই আত্মকেন্দ্রীক। দেশের মানুষের ভাগ্যে জোটে একেবারেই অশ্বডিম্ব। যেমনটি ঘটতে যাচ্ছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) আইনের ৫৭ ধারার ক্ষেত্রে। যা সত্যিই দুর্ভাগ্যজনক।


মূলত তৃতীয় বিশ্বের রাষ্ট্রগুলোতে যারাই একবার ক্ষমতায় আসে তারা আর কোন ভাবেই ক্ষমতা থেকে বিদায় নিতে চায় না। ক্ষমতাসীনরা দেশটাকে নিজেদের তালুক-সম্পতি মনে করে। ভাবে দেশ শাসনের অধিকার শুধু তাদেরই আছে। হয়তো মনে করে যে, তারাই ঐশ^রিক রাষ্ট্রের ঈশ্বরের প্রতিনিধি। তাই ক্ষমতাচর্চার ক্ষেত্রে অন্যরা একেবারেই অপাক্তেয়। তৃতীয় বিশ্বের রাষ্ট্রগুলোর ক্ষমতাসীন এমন মুদ্রাদোষ কর্মবেশী লক্ষ্য করা গেলেও আমাদের দেশে এই প্রবণতাটা একেবারে প্রান্ত সীমায় এসে পৌঁছেছে। একেবারে দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার মত। যা আমাদের জাতিস্বত্ত্বাকেই হুমকীর মুখোমুখী ফেলে দিয়েছে।


গণমানুষের কল্যাণের ধারণা থেকে রাষ্ট্র ও রাজনীতির ব্যুৎপত্তি ঘটেছে। কিন্তু আমাদের দেশের প্রচলিত রাজনীতির লক্ষ্যচ্যুতি ঘটেছে বলেই মনে করছেন আত্মসচেতন মানুষ। ক্ষমতাসীনদের ধ্যান-জ্ঞান জনকল্যাণের  পরিবর্তে হয়েছে আত্মকেন্দ্রীক। আর যারা ক্ষমতার প্রভাব বলয়ের বাইরে রয়েছেন তাদের অবস্থাটা প্রায় একই রকম। তাই প্রচলিত রাজনীতি জনগণের কল্যাণে খুব একটা সহায়ক হচ্ছে না। কারণ, ক্ষমতাসীনরা নিজেদের ক্ষমতা রক্ষায় সব সময় ব্যস্ত থাকছেন। প্রয়োজনে তারা গণনিগ্রহ ও মানুষের অধিকার ক্ষুন্ন করতেও কুন্ঠাবোধ করা হচ্ছে না। মূলত ক্ষমতা রক্ষায় যেখানে মুখ্য হয় সেখানে জনগণের অধিকার তো গৌণ হবেই। আমাদের দেশের চলমান রাজনীতির প্রেক্ষাপটে এমনটা অস্বীকার করার কোন সুযোগ নেই বরং এটিই বাস্তবতা।


গণতন্ত্র আমাদের দেশের সংবিধানের উন্নতম স্তম্ভ। আর গণতন্ত্রের উন্নতম উপাদানই হচ্ছে বাকস্বাধীনতা। আর এসব কেতাবী কথার পূর্ণ প্রতিফলন থাকলে তো ক্ষমতাসীনদের ক্ষমতা নিরাপদ হয় না। মূলত বিপত্তিটা তো সেখানেই। আর এজন্যই নানা ধরনের কালাকানুনের আয়োজন করা হয়। আর সে উদ্দেশ্যকে সামনে রেখেই তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) আইন প্রণয়ন করা হয়। আইন প্রণয়নের সময় অনেক গালগল্প করা হলেও এই আইনে গণনিগ্রহের বিষয়টি খুবই সুষ্পষ্ট হয়ে ওঠে। এই আইন প্রণয়নের বিষয়ে মহতি উদ্যোগের কথা বলা হলেও শেষ পর্যন্ত আইনের প্রয়োগ-অপপ্রয়োগের কারণে তা কালো আইনে পরিণতি হয়। সরকারের পক্ষে স্বাধীন গণমাধ্যমের কথা বলা হলেও এই আইনে প্রায় ক্ষেত্রে সাংবাদিক নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে। এমন কী ছাগল মরার খবর শেয়ার করায় খুলনার ডুমুরিয়ার স্থানীয় পত্রিকার  সাংবাদিক আব্দুল লতিফ মোড়ল গ্রেফতারের ঘটনাও ঘটেছে এই আইনেই। যা গণতন্ত্র, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও আইনের শাসনের জন্য মোটেই সহায়ক নয়।


সরকার পক্ষ দাবি করে বসে যে এই আইনের ৫৭ ধারার কোন অপ্রয়োগ করা হয়নি বা কোন সাংবাদিক নিগ্রহের ঘটনা ঘটেনি। কিন্তু পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, এই আইনের আওতায় অনলাইন পোর্টাল বাংলা মেইলের সাংবাদিক শাহাদাত উল্লাহ খান, মাকসুদুল হায়দার চৌধুরী ও প্রান্ত পলাশ এবং শিক্ষা ডটকম সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান,  দৈনিক ইনকিলাবের রবিউল্লাহ রবি, রফিক মোহাম্মদ, শাখাওয়াত হোসেন বাদশাহ, শাখাওয়াত হোসেন, আহমদ আতিক ও আফজাল বারী গ্রেফতার হয়েছিলেন। এছাড়াও রাজধানী ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এই আইনে সাংবাদিক নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে। মূলত এই আইন প্রণয়নে মহতি উদ্যোগের কথা বলা হলেও সংকীর্ণ আত্মকেন্দ্রীক অপরাজনীতির কারণেই তা  রীতিমত নিবর্তনমূলক আইনে পরিণত হয় এবং তা বাতিলের পক্ষে জোড়ালো জনমত গড়ে ওঠে।


যাহোক বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের তীব্র সমালোচনার মুখে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) আইনের বিতর্কিত ৫৭ ধারা বিলুপ্ত করতে যাচ্ছে সরকার। এমনটিই গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর থেকে জানা গেছে।  তবে এখানেও একটা মারাত্মক শুভঙ্করের ফাঁকির বিষয়টি সুষ্পষ্ট হয়ে উঠেছে। প্রস্তাবিত নতুন আইনে আগের বিষয়বস্তুগুলো ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে নতুন ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে’ রাখা হচ্ছে। ৫৭ ধারায় অপরাধের ধরনগুলো একসঙ্গে লেখা ছিল, নতুন আইনে সেগুলো বিভিন্ন ধারায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রাখা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। কারণ সরকার পুরনো বিষয়কে নতুন মোড়কে উপস্থাপন করে দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করছে বলে মনে করা হচ্ছে।


সম্প্রতি সচিবালয়ে আন্তমন্ত্রণালয় সভায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।  প্রস্তাবিত নতুন আইনের খসড়ায় বলা হয়েছে, এই আইন কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আইসিটি আইনের ৫৪, ৫৫, ৫৬, ৫৭ ও ৬৬ ধারা বিলুপ্ত হবে। আইসিটি আইনের ৫৭ ধারায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি যদি ইচ্ছাকৃতভাবে ওয়েবসাইটে বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক বিন্যাসে এমন কিছু প্রকাশ বা স¤প্রচার করেন, যা মিথ্যা ও অশ্লীল বা সংশ্লিষ্ট অবস্থা বিবেচনায় কেউ পড়লে, দেখলে বা শুনলে নীতিভ্রষ্ট বা অসৎ হতে উদ্বুদ্ধ হতে পারেন অথবা যার দ্বারা মানহানি ঘটে, আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটে বা ঘটার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়, রাষ্ট্র ও ব্যক্তির ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয় বা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে বা করতে পারে বা এ ধরনের তথ্যাদির মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের বিরুদ্ধে উসকানি প্রদান করা হয়, তাহলে এ কাজ অপরাধ বলে গণ্য হবে। এই অপরাধে সর্বোচ্চ ১৪ বছর ও সর্বনিম্ন ৭ বছর কারাদন্ড এবং সর্বোচ্চ ১ কোটি টাকা অর্থদন্ড দেওয়ার বিধান আছে।


অপরাধের এই সংজ্ঞা, আইনের অজামিনযোগ্য ধারা ও শাস্তির বিষয়গুলো আইনটিকে বিতর্কিত করে তোলে। এর অপব্যবহার এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় মামলা নেওয়ার আগে পুলিশ সদর দপ্তরের অনুমতি নিতে দেশের থানাগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়। এ ছাড়া আসামি সাংবাদিক হলে এ ধরনের মামলার বিষয়ে দলের সঙ্গে পরামর্শ করতে সরকারি দল আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকেও কর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়।


ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের খসড়ায় অপরাধের ধরনগুলো বিভিন্ন ধারায় অন্তর্ভুক্ত করে শাস্তির মাত্রা কমানো হয়েছে। খসড়ার ২৭ ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী ইচ্ছাকৃতভাবে বা জ্ঞাতসারে ধর্মীয় মূল্যবোধ বা অনুভূতিতে আঘাত করার ইচ্ছায় ওয়েবসাইট বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক বিন্যাসে এমন কিছু প্রকাশ বা স¤প্রচার করেন বা করান, যা ধর্মীয় অনুভূতি বা ধর্মীয় মূল্যবোধের ওপর আঘাত করে, তাহলে ওই ব্যক্তির সেই কাজ হবে অপরাধ। এই অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ ৫ বছর কারাদন্ড বা সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা অর্থদন্ড বা উভয় দন্ড ভোগ করতে হবে। একই অপরাধ দ্বিতীয় বা তার বেশি বার করলে সর্বোচ্চ ৭ বছর কারাদন্ড বা সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা অর্থদন্ড বা উভয় দন্ড হবে। এই ধারার অপরাধ আমলযোগ্য ও অ-জামিনযোগ্য হবে।


আইনের খসড়ার ২৮ ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি ওয়েবসাইট বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক বিন্যাসে মানহানি-সংক্রান্ত দন্ডবিধির (১৮৬০) সেকশন ৪৯৯-এ বর্ণিত অপরাধ সংঘটন করেন, তাহলে তাঁকে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদন্ড বা সর্বোচ্চ তিন লাখ টাকা অর্থদন্ড বা উভয় দন্ড ভোগ করতে হবে। আর ওই অপরাধ দ্বিতীয় বা তার বেশিবার করলে অনধিক পাঁচ বছর কারাদন্ড বা অনধিক ১০ লাখ টাকা অর্থদন্ড বা উভয় দন্ড হবে। এই ধারার অপরাধ অ-আমলযোগ্য, জামিনযোগ্য ও আদালতের সম্মতি সাপেক্ষে আপোষযোগ্য হবে।


প্রস্তাবিত আইনের ৩০ ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে ওয়েবসাইটে বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক বিন্যাসে এমন কিছু প্রকাশ বা সম্প্রচার করেন বা করান, যা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন শ্রেণি বা সম্প্রদায়ের মধ্যে শত্রুতা, ঘৃণা বা বিদ্বেষ সৃষ্টি করে বা সাম্প্রদায়িক সম্প্রতি বিনষ্ট করে, অস্থিরতা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটায় বা ঘটানোর উপক্রম হয়, তাহলে ওই ব্যক্তির সেই কাজ হবে একটি অপরাধ। এ জন্য তিনি সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদন্ড বা সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা অর্থদন্ড বা উভয় দন্ডে দন্ডিত হবেন। আর একই অপরাধ যদি দ্বিতীয় বা তার বেশিবার করেন, তাহলে সর্বোচ্চ ৭ বছর কারাদন্ড বা সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা অর্থদন্ড বা উভয় দন্ডে দন্ডিত হবেন। এই ধারার অপরাধ আমলযোগ্য ও অ-জামিনযোগ্য হবে।


আইনের একটি ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি ডিজিটাল বা ইলেকট্রনিক মাধ্যমে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ বা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বা জাতির পিতার বিরুদ্ধে কোনো প্রকার প্রোপাগান্ডা ও প্রচারণা চালান বা তাতে মদদ দেন, তাহলে ওই ব্যক্তির যাবজ্জীবন কারাদন্ড বা অনধিক এক কোটি টাকা অর্থদন্ড বা উভয় দন্ড হবে।


আরেকটি ধারায় বলা আছে, কোনো ব্যক্তি বেআইনি প্রবেশের মাধ্যমে কোনো সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত বা বিধিবদ্ধ সংস্থার গোপনীয় তথ্য-উপাত্ত কম্পিউটার, ডিজিটাল যন্ত্র, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক, ডিজিটাল নেটওয়ার্ক বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক মাধ্যমে ধারণ, প্রেরণ বা সংরক্ষণ করেন বা করতে সহায়তা করেন, তাহলে সেই কাজ হবে কম্পিউটার বা ডিজিটাল গুপ্তচরবৃত্তির অপরাধ। এই অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ ১৪ বছরের কারাদন্ড বা সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা অর্থদন্ড বা উভয় দন্ড হবে। কেউ যদি এই অপরাধ দ্বিতীয় বা তার বেশিবার করেন, তাহলে তাঁর যাবজ্জীবন কারাদন্ড  বা সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা অর্থদন্ড বা উভয় দন্ড হবে। এ ছাড়া কোনো ব্যক্তি যদি বাংলাদেশের বাইরে এই আইন অনুযায়ী কোনো অপরাধ করেন, যা দেশে করলে দন্ড যোগ্য হতো, তাহলে সেটি দেশের ভেতরে হয়েছে বলে বিবেচনা করা হবে।


আইসিটি আইনের ৫৭ ধারা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক চলছে। এতে মানুষ হয়রানির শিকার হয়েছেন। প্রাপ্ততথ্যে এ বছরের জানুয়ারি মাসে আইসিটি আইনে ৪২টি মামলা হয়। জুনে তা বেড়ে হয়েছে ৭৯টি। এই ছয় মাসে মোট মামলা হয়েছে ৩৯১টি। ওইসব মামলার বেশির ভাগই হয় ৫৭ ধারায়। এসব মামলায় আসামি ৭৮৫ জন, যাঁদের ৩১৩ জন গ্রেপ্তার হন। এই সময়ে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ১৯টি মামলা হয় ৫৭ ধারায়। সর্বশেষ এ সপ্তাহে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আসিফ নজরুলে নামে আইসিটি আইনের ৫৭ ধারায় মামলা হয়। মাদারীপুর সদর থানায় করা এই মামলার বাদী নৌমন্ত্রী শাজাহান খানের ভাগ্নে সৈয়দ আসাদউজ্জামান মিনার।


আইসিটি আইনটি প্রথমে প্রণয়ন করা হয় ২০০৬ সালে। পরে ২০১৩ সালে সংশোধন করে শাস্তি বাড়িয়ে সেটিকে আরও কঠোর করা হয়। সাইবার নিরাপত্তা, ডিজিটাল নিরাপত্তা এবং এ-সংক্রান্ত অপরাধের শাস্তির বিষয়ে নতুন আইন প্রণয়নের কাজ শুরু হয় ২০১৫ সালে। প্রথমে ‘সাইবার নিরাপত্তা আইন, ২০১৫’ নাম দেওয়া হলেও পরে সেটি ‘ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন, ২০১৬’ নাম দেওয়া হয়। এটি মন্ত্রিসভায় উত্থাপন হলে তা নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়। আইনটি পর্যালোচনার জন্য আইনমন্ত্রীর নেতৃত্বে গঠিত কমিটির কাছে পাঠানো হয়। সম্প্রতি কমিটি খসড়াটি চূড়ান্ত করেছে।


মূলত তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন (আইসিটি) বিশেষ করে ৫৭ ধারা সহ এই আইনের নিবর্তনমূলক ধারা এবং বর্তমানে প্রস্তাবিত ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন’ এর মধ্যে তেমন কোন পার্থক্য দেখছেন না অভিজ্ঞমহল। তারা কারণ, প্রস্তাবিত নতুন আইনে কথামালার মারপ্যাচ ছাড়া অভিনবত্ব বলে কিছুই নেই। ৫৭ ধারায় যা একত্রে ছিল তা নতুন আইনের বিভিন্ন ধারায় সন্নিবেশ করা হয়েছে। যা ‘চর্বিত চর্বন’ বলা ছাড়া কোন উপায় থাকে না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘আইসিটি আইনের ৫৭ ধারাটি মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী। নতুন আইন সম্পর্কে সরকার ছেলে ভোলানোর মতো বলছেন ৫৭ ধারা থাকবে না। এখন যদি ওই ধারার অপরাধগুলো ভিন্ন ভিন্ন ধারায় রাখা হয়, তাহলে ৫৭ ধারা বিলুপ্ত হলো কোথায়?’ এ প্রশ্ন এখন সর্বমহলে।


সৈয়দ মাসুদ মোস্তফা   ()


(বি. দ্র. মতামত লেখকের একান্ত নিজস্ব। টাইমনিউজবিডির সম্পাদকীয় নীতিমালার সাথে এর কোন সম্পর্ক নেই)


মুস্তাঈন    

Print