বিডিএস- আন্দোলনকে কেন এত ভয় পায় ইসরাইল?

মো: কামরুজ্জামান (বাবলু)
টাইম নিউজ বিডি,
১১ জানুয়ারি, ২০১৮ ১৯:১৬:২১
#

পবিত্র জেরুজালেম  নগরীকে যায়নবাদী ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণার মধ্য দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্ববাসীর কাছে আবারো যেই বিষয়টি নিশ্চিত করলেন তা হলো – আমেরিকা কখনো ফিলিস্তিন ও ইসরাইলের মধ্যকার অচলাবস্থার নিরসন চায় না। মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে দীর্ঘদিনের পর্যবেক্ষকদের অনেকেই এমনটা মনে করেন।


তাদের মতে আন্তর্জাতিক আইনের সাথে সামঞ্জস্য রেখে ইসরাইল-ফিলিস্তিন বিরোধের নিস্পত্তি না করে যুক্তরাষ্ট্র ক্রমাগত ইসরাইলের দাবি পূরণ করে আসছে। এর ফলে যতটা সম্ভব ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ করে সেই ভূখন্ডে একটি জাতিগত বিদ্বেষপ্রবণ ইসরাইলি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছে আমেরিকা।


এদিকে, এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে না হলেও জেরুজালেমই যে কার্যত ইসরাইলের রাজধানী সেই বিষয়টিরই যেন জানান দিতে প্রতিনিয়ত পশ্চিম জেরুজালেম থেকে ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ করা হচ্ছে।


এছাড়া অপরাপর রাষ্ট্রগুলোকে ইসরাইলের পৃষ্ঠপোষকতা করার জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প (Donald Trump) এবং জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিক্কি হ্যালি (Nikki Haley) যে কতটা বেপরোয়া তা এরই মধ্যে তাদের নানাবিধ কর্মকান্ডের মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয়েছে ।


এমতাবস্থায় বর্হিবিশ্বের দিকে না তাকিয়ে নিজেদের সাধ্য অনুযায়ী সাধারণ কোন উপায়ে হলেও ইসরাইলকে আন্তর্জাতিক রীতি-নীতি ও নিয়মকানুন মানতে বাধ্য করা যায় কিনা এমন চিন্তা-ভাবনা শুরু করেন অনেকেই। সে লক্ষ্যে শুরু হওয়া নানাবিধ ততপরতার খবরও পাওয়া যায় প্রায়শই।  


আর এমনই এক পটভূমিতে জন্ম লাভ করেছে বিডিএস আন্দোলন (BDS movement). ফিলিস্তিনের সুশীল সমাজের ২৫০ জনের মতো সদস্য ছোট্ট পরিসরে ২০০৫ সালে এই আন্দোলনের ডাক দেয়। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ইসরাইল তথা ইসরাইলি পণ্য বয়কট, ইসরাইল থেকে বিনিয়োগ সরিয়ে নেয়া এবং ইসরাইলের ওপর অবরোধ আরোপের আহবান জানানোর মধ্য দিয়ে শুরু হয় বিডিএস আন্দোলন।  Boycott, Divestment and Sanctions – এই তিন শব্দের প্রথম অক্ষর নিয়ে সংক্ষেপে আন্দোলনটির নামকরণ করা হয় BDS (বিডিএস).


বিডিএসের অর্জন


এই আন্দোলন ১৩ বছরে পা রাখলো। উল্লেখ করার মতো বড় কোন অর্জন না থাকলেও বিগত ১২ বছর বা একযুগে এই আন্দোলনের বদৌলতে ফিলিস্তিনে ইসরাইলি দখলদারিত্বের ইস্যুটি কিছুটা হলেও বৈশ্বিক আলোচনায় স্থান করে নিয়েছে।


এই আন্দোলনের সবচেয়ে বড় সফলতা হলো – এতে যে কোন দেশের অতি সাধারণ মানুষও শরিক হতে পারেন যে কোন ধরনের চাপ কিংবা চিহ্নিত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা ছাড়াই। এই আন্দোলনের ফলে কারো চেতনায় পরিবর্তন আসলে এবং সে একটু সচেতনভাবে সব ধরনের ইসরাইলি পণ্য ত্যাগ করলে তাকে বাধ্য করার কোন উপায় নেই। কিংবা এ কারণে তার চিহ্নিত হয়ে যাওয়ারও কোন সম্ভাবনা নেই।


বিডিএস আন্দোলনের কোন বড় ধরনের উচ্চাভিলাস নেই যা কারো মনে এই আন্দোলনের প্রতি বিরুপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। মোটা দাগে এই আন্দোলনের তিনটি লক্ষ্য- ফিলিস্তিনে ইসরাইলের দখলদারিত্বের অবসান, ফিলিস্তিনি নাগরিকদের সমঅধিকার প্রতিষ্ঠা এবং সব ফিলিস্তিনি উদ্বাস্তুদের নিজ মাতৃভূমিতে পুনর্বাসন।


One-state versus two-state solutions তথা এক-রাষ্ট্র কিংবা দুই-রাষ্ট্র সমাধান তত্ত্বের মতো জটিল ও অনিস্পন্ন ইস্যূতে না গিয়ে এবং কঠিন বিতর্কিত বিষয়কে বাদ দিয়ে বিডিএস আন্দোলন একেবারে বাস্তবিক কিছু বিষয়ের দিকেই সবার নজর কাড়ে। কিভাবে একটি সরকারের অধীনে কেবলমাত্র ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে এক সম্প্রদায়ের লোকেরা নিস্পেষিত হচ্ছে, মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে তাই গুরুত্ব পাচ্ছে এই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে।


ফিলিস্তিনে মাববিক অধিকার রক্ষার ওপর গুরুত্ব প্রদানের ফলে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে মানবাধিকার ইস্যুতে কর্মরত অন্যান্য আন্দোলনের সাথে বিডিএস আন্দোলনের একটি সংযোগ স্থাপিত হয়েছে। উদাহরণস্বরুপ আমেরিকায় কালো মানুষের অধিকার নিয়ে সংগ্রামরত ব্লাক লাইভস ম্যাটার আন্দোলন (Black Lives Matter movement) এর কথা উল্লেখ করা যেতে পারে।


বিডিএস আন্দোলনকে ভয় পাবার কারণ


এদিকে, এই আন্দোলনকে ইসরাইলের এত ভয় পাবার মূল কারণটি হলো ক্রমাগত প্রচেষ্টা সত্ত্বেও এই আন্দোলনের জনপ্রিয়তা দিনকে দিন বেড়েই চলছে। আর এর ফলে ইসরাইলি অর্থনীতি হুমকির মুখে পড়ছে। বহির্বিশ্বে ইসরাইলের বিনিয়োগ বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে। 


অপরদিকে, বিডিএস আন্দোলনকে অজনপ্রিয় করতে লাখ লাখ ডলার খরচ করছে যায়নবাদী ইসরাইল সরকার। শুধুমাত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন কলেজ ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের মাঝে বিডিএস আন্দোলনের ব্যাপারে নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টি এবং মার্কিন সরকারকে বিষয়টি বোঝাতে যে লবিস্ট নিয়োগ করেছে ইসরাইল তার পেছনেই এরইমধ্যে খরচ হয়েছে ‍মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার।


ইসরাইল এই আন্দোলনের ভয়ে যে কতটা সন্ত্রস্ত তার প্রমাণ মেলে ২০১৭ সালের আরেক ঘটনায়। ওই বছরে আমেরিকার ডিকিনসন (Dickinson) ও টেক্সাস (Texas) অঙ্গরাজ্যে ভয়াবহ ঘুর্ণিঝড় (Hurricane Harvey) আঘাত হানলে ইসরাইল ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ত্রান বিতরণ করে। সেখানে ইসরাইলের পক্ষ থেকে শর্ত দেয়া হয় ত্রানপ্রাপ্তরা বিডিএস আন্দোলনকে কখনো সমর্থন করবেন না।


বিডিএসের আন্দোলন কৌশল


উল্লেখ্য, ফিলিস্তিনিদের অধিকার আদায়ের এই আন্দোলনে উদাহরণ হিসেবে সামনে নিয়ে এসেছে জাতিসঙ্ঘের এ সম্পর্কিত বিভিন্ন সময়ে পাস হওয়া প্রস্তাব এবং বর্ণবাদী দক্ষিণ আফ্রিকার বিগত শতাব্দীর সংখ্যালঘু শ্বেতাঙ্গদের শাসনবিরোধী বয়কট আন্দোলনকে।


এই আন্দোলনকারীরা মনে করে ইসরাইলের বিরুদ্ধে ততক্ষণ বয়কট, ডিভেস্টমেন্ট ও স্যাঙ্কশন চালিয়ে যেতে হবে, যতক্ষণ না ইসরাইল আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে ফিলিস্তিনের ওপর থেকে দখলদারিত্বের অবসান ঘটাবে।


বিডিএস সমর্থকদের মধ্যে রয়েছেন শিক্ষাবিদ, বুদ্ধিজীবী, ট্রেড ইউনিয়ন, রাজনৈতিক দলসহ ইসরাইলি কিছু নাগরিকও। বিডিএস সমর্থকেরা বলেন, দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদী শাসনসময়ের বয়কট আন্দোলনের মতোই বিডিএস আন্দোলনের লক্ষ্য অর্জনে বিভিন্ন দেশে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ ও সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়া অব্যাহত আছে।


ভারতে বিডিএস আন্দোলন


গত ৬ মার্চ (২০১৬) ভারতের রাজধানী নয়া দিল্লির গান্ধী পিস ফাউন্ডেশনে আয়োজন করা হয়েছিল ‘বিডিএস ইন্ডিয়া কনভেনশন’। এই কনভেনশনে ইসরাইলকে পুরোপুরি বয়কটের আহ্বান জানানো হয়। ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরাইলের অব্যাহতভাবে চলা বর্ণবাদী নীতি অবলম্বন ও গণহত্যা অভিযান চালিয়ে যাওয়ার প্রতিবাদ হিসেবে ইসরাইলের বিরুদ্ধে এই সামগ্রিক বয়কটের আহ্বান জানানো হয়।


ভারতের বিভিন্ন অংশ থেকে আসা বুদ্ধিজীবী ও সক্রিয়বাদীরা এ কনভেনশনে যোগ দেন। এরা ঐকমত্যের ভিত্তিতে ইসরাইলবিরোধী এই বয়কটের প্রস্তাব পাস করেন। এই বিডিএস কনভেনশনের আয়োজন করে ‘ইন্ডিয়ান পিপল ইন সলিডারিটি উইথ প্যালেস্টাইন’।


এই বয়কট প্রস্তাবে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রস্তাবিত ইসরাইল সফরও বাতিল করার আহ্বান জানানো হয়। সেই সাথে আহ্বান জানানো হয়, ইসরাইলের সাথে সব সহযোগিতা চুক্তি বাতিলসহ সব ধরনের অর্থনৈতিক, শিক্ষাসম্পর্কিত ও সাংস্কৃতিক বয়কটের।


কনভেনশনে যোগদানকারীরা একমত হন ইহুদিবাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযানই কার্যকরভাবে পরিচালনা করা যাবে না, যদি না এদের আদর্শগত সাথী হিন্দুত্ববাদী ফ্যাসিস্টদের দমন না করে। কনভেনশনে যোগদানকারীরা বলেন আমাদের প্রয়োজন সাধারণ মানুষকে বোঝানো, গাজার ইসরাইলি খুনিরা ও গুজরাটের হিন্দৃত্ববাদী খুনিদের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠতা প্রমাণ করে, এরা জনগণের শত্রু।


বিশেষজ্ঞদের মন্তব্য


কনভেনশনে ‘ইন্ডিয়ান পিপল ইন সলিডারিটি উইথ প্যালেস্টাইন’-এর পক্ষে রিপোর্ট উপস্থাপন করেন আনন্দ সিং। রিপোর্টে বলা হয়, গাজা একটি অব্যাহত কারাগারে রূপ নিয়েছে। পশ্চিম তীরে অবাধে চলছে অবৈধ ইহুদি বসতি গড়ে তোলার কাজ। ইসরাইলি সরকার ও সেনাদের নির্লজ্জ সহযোগিতা পেয়ে বসতি স্থাপনকারী ইহুদিরা এতটাই দুর্বিনীত হয়ে উঠেছে যে, এরা ফিলিস্তিনিদের ওপর শুধু নগ্ন হামলাই করছে না, হামলা করছে সংহতি আন্দোলনকারী, তদন্তকারী দলের সদস্য ও সাংবাদিকদের ওপরও।


আনন্দ সিং বলেন, ইসরাইল শক্তিকে চ্যালেঞ্জ করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায় হচ্ছে বয়কট। ফিলিস্তিনিরা ইসরাইলকে বয়কটের মাধ্যমে সে চ্যালেঞ্জই ছুড়ে দিচ্ছে।


বিডিএস অর্থাৎ ‘বয়কট, ডিভেস্টমেন্ট, স্যাঙ্কশন’ সরাসরি বিরূপ প্রভাব ফেলছে ইসরাইলি অর্থনীতির ওপর। ইহুদিবাদীরা বেপরোয়া হয়ে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ব্রিটেন ও ফ্রান্স সরকারের ওপর সরাসরি চাপ দিচ্ছে ইসরাইলের বিরুদ্ধে বয়কট অভিযান নানা ষড়যন্ত্রের পথ ধরে বন্ধ করার জন্য। বিভিন্ন দেশকে চাপ দিচ্ছে বয়কট অবৈধ ঘোষণা করতে। ভেনিজুয়েলা, বলিভিয়াসহ আরো কয়েকটি দেশ ইসরাইলকে বর্ণবাদী দেশ হিসেবে ঘোষণা করেছে। বলিভিয়া তো ইসরাইলকে কার্যত সন্ত্রাসী রাষ্ট্রই ঘোষণা করে বসেছে।


অস্ত্র রফতানি ইসরাইলি অর্থনীতির শক্তিশালী খাত। আর ইসরাইলি অস্ত্রের সবচেয়ে বড় ক্রেতা হচ্ছে ভারত। বিডিএস কনভেনশনের দাবি, ভারতীয়দের উচিত প্রতিবাদ জানিয়ে সরকারকে বলা আমাদের কষ্টার্জিত করের অর্থ ফিলিস্তিনি শিশুদের হত্যার কাজে ব্যবহার করতে ইসরাইলের হাতে তুলে দিতে পারি না।


ইসরাইল প্রতিদিন দখল করছে ফিলিস্তিনিদের জমি। প্রতিনিয়ত লঙ্ঘন করে চলেছে ফিলিস্তিনিদের মৌল অধিকার। বর্বর নির্যাতনের শিকার করছে সাধারণ ফিলিস্তিনিদের। এ সমস্যা সমাধানে জাতিসঙ্ঘের বিভিন্ন প্রস্তাব অমান্য করে চলেছে দখলদার দেশটি। ইসরাইলিরা গাজায় যাদের হত্যা করছে, তাদের বেশির ভাগই শিশু, নারী ও বুড়ো মানুষ।


সেন্টার ফর ওয়েস্ট এশিয়ান স্টাডিজের ফ্যাকাল্টি মেম্বার ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক কামার আগা জোর দিয়ে বলেন, ইসরাইলি বর্বরতা ও নিষ্ঠুরতা সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করতে ছোট ছোট শহরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করে প্রচারাভিযান চালাতে হবে। তিনি বলেন, ইসরাইল চায় ফিলিস্তিনিদের পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন করে পুরো অঞ্চলে সাম্রাজ্যবাদীদের যড়যন্ত্র পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে।


ইন্দোনেশিয়ায় বিডিএস আন্দোলন


২০১৬ সালের ৬-৭ মার্চ ইন্দোনেশিয়ায় অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ফিলিস্তিন ও আল-কুদস আল-শরিফ সম্পর্কিত ওআইসি’র পঞ্চম অতিরিক্ত বিশেষ সম্মেলন। এ সম্মেলনে বিশ্ব ইসলামি নেতারা ওআইসি’র সদস্য দেশগুলো ও আন্তর্জাতিক সমাজের প্রতি ইসরাইলের ভেতরে ও বাইরে ইসরাইলের তৈরি পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির জন্য আহ্বান জানান।


তারা বলেন, এই নিষেধাজ্ঞা জারির মাধ্যমে ইসরাইলের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে হবে, ফিলিস্তিনের ওপর থেকে ইসরাইলের দখলের অবসান ঘটাতে।


দুই দিনব্যাপী এই ওআইসি সম্মেলনের শেষ দিনে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট বলেন, আজ আমরা, ইসলামি বিশ্বের নেতারা একমত প্রকাশ করছি প্যালেস্টাইনের ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেয়ার ব্যাপারে। ওআইসি সদস্যরা ইসরাইলের কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানাচ্ছে। আমরা আহ্বান জানাচ্ছি, অবৈধ ইসরাইলি বসতি স্থাপন অবসানের। সমর্থন ঘোষণা করছি দুই-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের মাধ্যমে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতার প্রতি।


৫৫টি দেশের ও দুই আন্তর্জাতিক সংস্থা জাতিসঙ্ঘ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মোট ৬০৫ জন প্রতিনিধি এই সম্মেলনে অংশ নেন।


বিডিএসের ভবিষ্যত


তবে, জটিল ও কুটিল ষড়যন্ত্র ও কুটনীতিতে অত্যন্ত পারদর্শী ইসরাইলিদের মোকাবেলায় এ ধরনের মুভমেন্ট বা আন্দোলন সাময়িক প্রভাব ফেললেও তা ফিলিস্তিনে ইসরাইলি দখলদারিত্বের অবসান ঘটাতে কিংবা ফিলিস্তিনিদের অধিকার রক্ষায় খুব বড় ধরনের ও দীর্ঘস্থায়ী কোন প্রভাব ফেলবে না বলেই মনে করেন বিশ্লেষকরা।


অবশ্য তথ্য-প্রযুক্তির উন্নতি সাধন এবং বিশ্বব্যাপী তরুণ ও যুব সম্প্রদায়ের মধ্যে গবেষণা ও সত্য উদঘাটনের যে মানসিকতা পরিলক্ষিত হচ্ছে তাতে মিডিয়া সন্ত্রাসসহ নানা অপপ্রচার ও প্রপাগান্ডার মাধ্যমে বিশ্ববাসীকে অন্ধকারে রেখে ফিলিস্তিনে ইসরাইলের আগ্রাসন নিরবচ্ছিন্নভাবে নাও চলতে পারে – এমন সম্ভাবনাও দেখছেন অনেকে।


বেশি কিছু করার সামর্থ্য না থাকায় শেষমেষ বিবেকবান বিশ্বসম্প্রদায়ের কাছে বিডিএস আন্দোলনই হতে পারে ইসরাইলবিরোধী প্রতিবাদের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার বা কৌশল। তাই অদূর ভবিষ্যতে বিডিএস আন্দোলন যে ইসরাইলের বড় ধরনের মাথা ব্যাথার কারণ হতে পারে সে সম্ভাবনাও একেবারে উড়িয়ে দেয়া যায় না। (তথ্য সূত্র: আলজাজিরা, নয়াদিগন্ত ও ইন্টারনেট)


কেবি 

Print