বস্তুবাদ ও ইসলাম বিদ্বেষ

টাইম ডেস্ক
টাইম নিউজ বিডি,
২০ জানুয়ারি, ২০১৮ ১৯:৫০:৫৫
#

আমাদের সংবিধানের অন্যতম স্তম্ভ হচ্ছে গণতন্ত্র। আর গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার জন্যই আমরা অনেক ত্যাগের বিষয়ে স্বাধীনতা অর্জন করেছি। কিন্তু গণতন্ত্রের নামে আমাদের দেশে যে অশুভ মহড়া চলছে তা আর যাইহোক দেশ ও জাতির জন্য মোটেই কল্যাণকর নয়। মূলত সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মতামতের ভিত্তিতে যে শাসন ব্যবস্থা পরিচালিত হয় তাকে গণতন্ত্র বলে।


আধুনিক কালের শ্রেষ্ঠ চিন্তাবিদ লর্ডব্রাইস গণতন্ত্রের সংজ্ঞায়ন করতে গিয়ে বলেন, 'A government in which the will of the majority of the qualified citizens rules .....say, at least three-fourths so that the physical force of the citizens coincides with their voting power.’ অর্থাৎ যে শাসন পদ্ধতিতে অন্তত তিন-চতুর্থাংশ নাগিরেকের অধিকাংশের মতে শাসনকার্য পরিচালিত হয় তাই গণতন্ত্র। এ ক্ষেত্রে এও উল্লেখযোগ্য যে, নাগরিকের ভোটের শক্তি যেন তাদের শারীরিক বলের সমান হয়।


আমাদের দেশের ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এসব এখন কেতাবী হয়ে গেছে। কাজীর গরু কাগজে আছে গোয়ালে নেই।


আমাদের দেশের প্রায় ৯০ ভাগ মানুষ মুসলমান। তাই দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের আবেগ-অনুভূতি, চিন্তা-চেতনা, বোধ-বিশ্বাস অনুযায়ীই দেশ পরিচালিত হওয়ার কথা। এটি গণতন্ত্রের মূলমন্ত্রও। কিন্তু আমাদের চরমদূর্ভাগ্য যে, দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মতামতের ভিত্তিতে দেশ তো চলছেই না বরং তাদের ঘাড়ের ওপর চাপিয়ে বসেছে গণবিচ্ছিন্ন এক অপশক্তি। তারা প্রতিনিয়ত দেশের মানুষের চিন্তা-চেতনা ও বোধ-বিশ্বাস নিয়ে গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।


মূলত জনগণের মতামতকে উপেক্ষা করে ছিন্নমূল একটি অপশক্তি দেশ ও জাতিস্বত্ত্বাবিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। তারা একদিকে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর ধর্ম ইসলাম ও ইসলামী মূল্যবোধ নিয়ে গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে, অপরদিকে তারা দেশের প্রতিষ্ঠিত সরকারকেও আমল দিচ্ছে না বরং নিজেরা সরকারের সহায়ক শক্তি হিসেবে দায়ী করে এমন কিছু অপকর্মে লিপ্ত রয়েছে যা সরকারকেও বিতর্কিত করছে। মূলত সরকারের মধ্যে থাকা একশ্রেণির বিভীষণের আস্কারা পেয়ে তারা এখন রীতিমত অপ্রতিরোধ্যই হয়ে ওঠেছে। তারা এখন ধরাকে সরা জ্ঞান করতে শুরু করেছে। তারা এখন দেশের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে।


এমন কী এই অপশক্তির ভূত এখন পাবলিক সার্ভিস কমিশনের ঘাড়েও চেপে বসেছে। সদ্য অনুষ্ঠিত ৩৮তম বিসিএস পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের ২০০ প্রশ্নের মধ্যে স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, শহীদ রাষ্ট্র জিয়াউর রহমান, বীরশ্রেষ্ঠ-বীরোত্তম সহ খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা কিংবা দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ধর্ম ইসলাম সম্পর্কে একটি প্রশ্নও রাখা না হলেও শুধুমাত্র কমিউনিজম বস্তুবাদী আদর্শ নিয়েই রাখা হয়েছে ৪টি প্রশ্ন।


এ অবস্থায় প্রশ্নকর্তাদের উদ্দেশ্য নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। প্রশাসন ও শিক্ষাব্যবস্থা কি তাহলে কমিউনিষ্টরা নিয়ন্ত্রণ করছে? এমন প্রশ্নও তুলছেন অনেকে। যা আমাদের দেশের গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের জন্য মোটেই শুভ ইঙ্গিত বহন করে না।


জানা যায়, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বিসিএসের ৩৮তম প্রিলিমিনারী অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিসিএসের প্রশ্নপত্র পর্যালোচনা করে দেখা গেছে এর ২০০টি প্রশ্নের মধ্যে স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে ও ইসলাম বা অন্য কোনো ধর্ম সম্পর্কে একটি প্রশ্নও রাখা হয়নি। যদিও শুধু কমিউনিজম বা বাম রাজনীতি নিয়েই অন্তত ৪টি প্রশ্ন রাখা হয়েছে। ফলে জনমনে প্রশ্নের প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে যে, দেশে প্রায় অস্থিত্বহীন বামরা এত আস্কারা পাচ্ছে কোথা থেকে ? তারা দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর আবেগ-অনুভূতি, বোধ-বিশ্বাস নিয়ে এভাবে ষড়যন্ত্র করার সাহসই বা পায় কেমন করে ? যা আত্মসচেতন মানুষকে বেশ ভাবিয়ে তুলেছে।


সদ্য সমাপ্ত বিসিএস পরীক্ষার ৪ নং সেট ও সুরমা কোড নামের একটি প্রশ্ন গণমাধ্যমকর্মীদের হাতে এসেছে। এতে দেখা গেছে প্রথম প্রশ্নটিই করা হয়েছে লেলিনের একটি বইয়ের নাম দিয়ে। প্রশ্নটি ছিলো- `Imperialism, the highest stage of capitalism’ বইটি কার লেখা? এর উত্তর হবে ভি. আই. লেলিন।


এরপর ১৬নং প্রশ্নে বলা হয়েছে- ভারতের সবচেয়ে প্রাচীন রাজনৈতিক দল কোনটি? তার উত্তর হবে কমুনিষ্ট পার্টি। ২০ নং প্রশ্নে বলা হয়েছে- অক্টোবর বিপ্লবের নেতৃত্ব দিয়েছেন কে? এর উত্তর হবে ভি. আই. লেলিন। এছাড়া ৬নং এও মার্কসবাদ দিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছে। মার্কস-লেলিনদের নিয়ে এত প্রশ্ন রাখায় সবার মনে প্রশ্ন উঠেছে প্রশ্নকারীরা আসলে কি চান? তারা কি বিসিএস প্রশ্নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদেরকে কমিউনিজম শিক্ষা দিতে চান? এমন প্রশ্নও সবার মুখে মুখে।


আমাদের দেশের প্রায় ৯০ ভাগ মানুষ মুসলমান। কমিউনিজম ইসলাম ধর্মের সম্পূর্ণ বিপরীত একটি মতাদর্শ। এমন পরিস্থিতিতে ইসলাম কিংবা অন্য কোনো ধর্ম সম্পর্কেই একটিও প্রশ্ন না করে ধর্মবিরোধী কমিউনিজম নিয়ে ৪টি প্রশ্ন করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীরাও।


বিশ্লেষকরা বলছেন, কমিউনিজম নিয়ে প্রশ্ন রাখাটা দোষের কিছু নয়। কিন্তু দেশের স্বাধীনতার স্থপতিসহ জাতীয় নেতাদের নিয়ে কিংবা ধর্ম বিষয়ে একটিও প্রশ্ন না করে শুধুই বস্তুবাদী আদর্শ নিয়ে ৪টি প্রশ্ন করা সম্পূর্ণ নির্লজ্জ পক্ষপাতিত্ব। এখানে সুস্পষ্টভাবে একটি মতাদর্শকে হাইলাইট করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় অন্য বিষয়গুলোকে চেপে যাওয়া হয়েছে। যা দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষকে অবজ্ঞা ও গণতন্ত্র এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী।


বাংলাদেশে কমিউনিজমে বিশ্বাসী লোকের সংখ্যা ১ শতাংশেরও কম। অথচ তারাই এখন সরকারি দল আওয়ামী লীগের ঘাড়ে সওয়ার হয়ে শিক্ষাব্যবস্থা থেকে শুরু করে প্রশাসনিক সকল উঁচুস্তরে বসে আছে। সরকারের শিক্ষামন্ত্রীও ছাত্রজীবনে বাম দল করতেন। সম্প্রতি তিনি ঘুষকে সহনীয় পর্যায়ে রাখার কথা বলে লোক হাসিয়েছেন।


তার নেতৃত্বে প্রশ্নফাঁসের স্বর্গরাজ্য কায়েম করে বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। এবার তারা দেশের সর্বোচ্চ শিক্ষিত বিসিএস ক্যাডারদেরকে টার্গেট করেছে। বিষয়টি এখন বেশ পরিস্কার। মহল বিশেষ সরকারের ঘাড়ে বন্দুক রেখে নিজস্ব আদর্শের প্রচার ও প্রসার ঘটাতে চায়। আর এসব গণবিচ্ছিন্ন পরজীবীদের অপকর্মের দায়ভার সরকারকেই বহন করতে হচ্ছে।


বিশ্লেষকরা আরো বলছেন, ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর ট্যাংকের উপর উল্লাস করা ইনু, বঙ্গবন্ধুর চামড়া দিয়ে ডুগডুগি বাজানো মতিয়া, রাশেদ খান মেনন, নুহ-উল-আলম লেলিন, নুরুল ইসলাম নাহিদদের মত কট্টর বামরা আওয়ামী লীগ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো দখল করে বসে আছে।


তারা পাঠ্যপুস্তক থেকে অধিকাংশ মুসলিম লেখক ও কবিদের রচনা সম্ভারকে বিদায় করে দিয়েছে। তাদের উপর্যুপরি সাফলে তারা এখন বিসিএস প্রশ্নের মাধ্যমে নিজ ভূমে প্রত্যাখাত ও পতিত কমিউনিজমকে শিক্ষা দেয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। যা আমাদের জাতীয় পরিচয়কে অস্তিত্ব সংকটে ফেলবে।


এর আগে ঢাকা বোর্ডের উচ্চ মাধ্যমিকের বাংলা বিষয়ের পরীক্ষায় প্রশ্নপত্রে অতিকৌশলে ইসলামের প্রতি অবজ্ঞা এবং সুচতুরভাবে ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের চরিত্রহননের চেষ্টা করা হয়েছিল। প্রশ্ন প্রণেতারা ৯২ ভাগ মুসলমানের এই দেশে মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার অপচেষ্টায় লিপ্ত। ইসলাম, ইসলামী আদর্শ-ঐতিহ্য, ঈমান ও আমল নিয়ে আজগুবি মিথ্যা গল্পের অবতারণা করে ইসলাম ও ইসলামী আদর্শের ধারক-বাহকদের খারাপ হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে।


অবমাননা করা হয়েছে ইসলামী স্থাপনা, দাড়ি ও টুপি সহ ইসলামী আখলাক-সুরতকে। শুধু তাই নয়, চট্টগ্রাম বোর্ডের প্রশ্নপত্রে সাম্প্রদায়িকতা উস্কে দেয়া হয়েছে। মুসলমানকে সন্ত্রাসী এবং হিন্দুদের মহানুভব হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে। মূলত এসব বিভীষণরা দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীকে আসামীর কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে তাদের বস্তাপচা আদর্শের প্রচার ও প্রসার চালাতে চায়।


এখানেই শেষ নয়। পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নে ইসলাম ও ইসলামী মূল্যবোধকে আঘাত করে উস্কে দেয়া হয়েছে মুসলমানদের। জাতীয় পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে ইসলামপ্রিয় মানুষকে উস্কে দেয়ার রহস্য নিয়ে সর্বমহলে প্রশ্ন উঠেছে। বোর্ড পরীক্ষায় এধরণের উস্কানিমূলক প্রশ্নপত্র তৈরির মাধ্যমে কি ম্যাসেজ দিচ্ছেন শিক্ষা বিভাগের সংশ্লিষ্টরা? দেশের আলেম-উলামা ও শিক্ষাবিদরা মনে করেন যে, পাবলিক পরীক্ষায় এ ধরণের প্রশ্নপত্র প্রণয়ণ স্বাভাবিক নয়।


দেশে সাম্প্রদায়িক উম্মাদনা, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং বস্তুবাদী চিন্তা-চেতনাকে উস্কে দিতে উদ্দেশ্যমূলকভাবেই একটি মহল এই কাজ করেছে বলে মনে করেন তারা। ইসলাম ধর্মের বিষোদগার ও ইসলামী ব্যক্তিত্বদেরকে ভন্ড, ল্যাংটা ইত্যাদি অপবিশেষণে বিশেষিত করে তা ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে পরিচিত করিয়ে দেয়া হচ্ছে। এসব শব্দের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা যেন ইসলাম, ইসলামী মূল্যবোধ ও ইসলামের ধারক-বাহকদের সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা পায় এবং ইসলাম থেকে দূরে সরে আসে সেই চেষ্টারই অংশ।


গত বছর ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের এসএসসি পরীক্ষায় বাংলা প্রথম পত্রের প্রশ্নে ইসলাম, ইসলামী রীতিনীতি, মূল্যবোধ ও উলামা-মাশায়েখদের নিয়ে ইসলাম বিদ্বেষী তিনটি গল্প (উদ্দীপক) তুলে ধরা হয়। বাংলা আবশ্যিক প্রশ্নে ৮নং উদ্দীপকে বলা হয়, “আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত যুবক এমদাদ। ধর্ম-খোদা-রসুল কিছুই বিশ্বাস করে না। খেলাফত আন্দোলনে যোগ দিয়ে একেবারে বদলে গেল। পীরের মুরিদ হয়েছে এবং নিয়মিত নামাজ পড়ছে। পীরের ভন্ডামি ও লোলুপ দৃষ্টি এমদাদের কাছে ধরা পড়ল। মুরিদের সুন্দরী বউ কলিমনকে জোরপূর্বক তালাক পড়িয়ে নিজে বিয়ে করেছে। এমদাদ এতে ক্রুদ্ধ হয়ে পীরের মেহেদি রঞ্জিত দাঁড়ি ধরে হেঁচকা টানে মাটিতে ফেলে দিল।”


মূলত এটি প্রখ্যাত সাহিত্যিক, রম্য-লেখক ও রাজনীতিবিদ আবুল মনসুর আহমদের ‘আয়না’ রম্যগ্রন্থের ‘হুজুর কেবলা’ গল্পের অংশ বিশেষ। প্রশ্নেপত্রে উল্লেখিত অংশ গল্পের খন্ডাংশ হওয়ায় কোমলমতি শিক্ষার্থীরা বিভ্রান্ত হওয়ার সুযোগ থাকছে। কিন্তু প্রশ্ন প্রণেতারা গল্পের এমন একটি স্পর্শকাতর অংশকে কেন প্রশ্নের অংশ করলেন বা তারা শিক্ষার্থীদের কী বার্তা দিতে চাচ্ছেনা তা বুঝতে বিশাল পান্ডিত অর্জনের দরকার নেই। মূলত সম্পূর্ণ অসৎ উদ্দ্যেশেই প্রশ্ন পত্রে গল্পের খন্ডাংশকে উদ্ধৃত করা হয়েছে।


একই প্রশ্নের ৭ নং উদ্দীপকে বলা হয়েছে, “মহাসড়কের পাশে পুরাতন একটি কবরকে মাজার বানিয়ে জমজমাট ব্যবসায় চালিয়ে যাচ্ছে মোখলেছ। কবরটিকে মাজারে রূপান্তরিত করার ঘটনাটি ছিল বেশ নাটকীয়। একদিন একটি যাত্রীবাহী বাস কবরটির পাশে সামান্য ধাক্কা লেগে থেমে যায়। ঠিক তখনই কবরের পাশে দাঁড়ানো মোখলেছ ড্রাইভারকে ধমকে বলে, ল্যাংটা বাবার সাথে বেয়াদবি। সামনে তোর জন্য মহাবিপদ অপেক্ষা করছে। বাঁচতে চাইলে বাবার দরবারে যা আছে ফেলে যা। মুহুর্তের মধ্যে বাসের জানালা দিয়ে কবরের পাশে বৃষ্টির মতো পড়তে লাগলো দশ টাকা, বিশ টাকা এবং একশ টাকার নোট।” মূলত এসব গল্প ফাদিয়ে শ্রেণি বিশেষের চরিত্র হননের অপচেষ্টা চালানো হয়েছে।


৫নং উদ্দীপকে বলা হয়েছে, “মানুষ ধর্মই সবচেয়ে বড় ধর্ম। হিন্দু-মুসলমানদের মিলনের অন্তরায় বা ফাঁকি কোনখানে তা দেখিয়ে দিয়ে এর গলদ দূর করা এর অন্যতম উদ্দেশ্য। মানুষে মানুষে যেখানে প্রাণের মিল, আদত সত্যের মিল, সেখানে ধর্মের বৈষম্য কোনো হিংসার দুশমনীয় ভাব আনে না। যার নিজের ধর্মে বিশ্বাস আছে, যে নিজেকে ধর্মের সত্যকে চিনেছে, সে কখনো অন্য ধর্মকে ঘৃণা করতে পারে না।”


এই উদ্দীপকের খ নং প্রশ্নে বলা হয়েছে এই হৃদয়ের চেয়ে বড় কোন মন্দির কাবা নাই।- পংক্তিটি বুঝিয়ে লেখ। গল্পের ছলে ছলে এসব প্রশ্নে দেখা যায় ইসলাম ও মুসলমানকে খাটো করা হয়েছে। পীর, দাঁড়ি, টুপি, নামাজ-রোযাকে নেতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ইসলামের সাথে জুড়ে দেয়া হয়েছে ভন্ড ও ল্যাংটার মতো শব্দ।


আলেম, উলামা ও শিক্ষাবিদরা বলছেন, এই প্রশ্ন পুরোটাই উদ্দেশ্যমূলক এন্টি ইসলামিকদের কাজ। যদিও মুসলমানরা সেটা বুঝতে পারবে না। কারণ এখানে উদ্দেশ্যমূলক দ্বিধাবিভক্তি করে দেওয়া হয়েছে। ৫নং প্রশ্নে বলা হয়েছে, মানুষ ধর্মই সবচেয়ে বড় ধর্ম। হিন্দু-মুসলমানদের মিলনের অন্তরায় বা ফাঁকি কোনখানে তা দেখিয়ে দিয়ে এর গলদ দূর করা এর অন্যতম উদ্দেশ্য। এখানে হিন্দু-মুসলিম এক হতে বলা হচ্ছে।


৮নং প্রশ্নে অনর্থক গল্প বানিয়ে আপেক্ষিক বিষয় দিয়ে বিভেদ উস্কে দেওয়া হচ্ছে। গল্পের অজুহাত দিয়ে নামধারী খারাপ বিষয়গুলো সামনে নিয়ে এসে মুসলমানদের হীন করা হচ্ছে, ইসলামকে অপমান করা হচ্ছে। এ প্রশ্ন পুরোটাই উদ্দেশ্যমূলক, একটি জাতীয় পরীক্ষার প্রশ্নে এ ধরনের উস্কানিমূলক প্রশ্ন করা কখনই স্বাভাবিক নয় বরং অগ্রহণযোগ্য ও উস্কানীমূলক। বিশেষ করে ন্যাংটা ও ভন্ডদেরকে ইসলামের নামে ছাত্র-ছাত্রীদের পরিচিত করে দেয়া রীতিমত উদ্দেশমূলক।


আমাদের চরম দুর্ভাগ্য যে, গণতন্ত্রের জন্য অনেক লড়াই-সংগ্রাম করার পরও আমাদের দেশে গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ আজও প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়নি। কারণ,শাসিতগণের সক্রিয় সম্মতির ভিত্তিতেই দেশের শাসনকাজ পরিচালিত হওয়া উচিত। কিন্তু আমাদের দেশে হচ্ছে তার উল্টোটা। দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মতামতকে তোয়াক্কা না করে এক শ্রেণির পরজীবী পুরো জাতির ওপর ছড়ি ঘোড়াচ্ছেন। উপেক্ষিত হচ্ছেন দেশের সাধারণ ও সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ। এদের অপকর্মের দায়ভার বহন করতে হচ্ছে সরকারকেও। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে এরাই এখন রীতিমত অপ্রতিরোধ্য।



সৈয়দ মাসুদ মোস্তফা


(বি. দ্র. মতামত লেখকের একান্ত নিজস্ব। টাইমনিউজবিডির সম্পাদকীয় নীতিমালার সাথে এর কোন সম্পর্ক নেই)


 

Print