পরমাণু ইস্যুতে ট্রাম্পের ইচ্ছা পূরণ নাও হতে পারে: মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী | timenewsbd.com

পরমাণু ইস্যুতে ট্রাম্পের ইচ্ছা পূরণ নাও হতে পারে: মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
টাইম নিউজ বিডি,
২৩ জানুয়ারি, ২০১৮ ২৩:১৭:২৬
#

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ঘোষিত সময়সীমার মধ্যে ছয় জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে ইরানের স্বাক্ষরিত পরমাণু সমঝোতার বিষয়বস্তুতে পরিবর্তন আনা সম্ভব নাও হতে পারে। তিনি বলেন, এ ব্যাপারে আমরা অন্য কাউকে সময়সীমা বেধে দিতে পারি না।


মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ছয় জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে ইরানের স্বাক্ষরিত পরমাণু সমঝোতা প্রত্যয়ন করার সময় চুক্তির নীতি ভঙ্গ করে হুমকি দিয়েছিলেন, আগামী ১২০ দিনের মধ্যে পরমাণু সমঝোতার বিষয়বস্তুতে সংস্কার বা পরিবর্তন করা না হলে তিনি ওই চুক্তি আর নবায়ন করবেন না। অর্থাৎ ইরান বিরোধী নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।


তবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি, চীন ও রাশিয়া পরমাণু সমঝোতা নিয়ে ফের আলোচনার সম্ভাবনাকে নাকচ করে দিয়েছে। ইরানও সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তারা কোনো আলোচনায় বসবে না এবং পরমাণু সমঝোতায় পরিবর্তন আনার চেষ্টা মেনে নেবে না।


ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মুহাম্মদ জাওয়াদ জারিফ বলেছেন, "পরমাণু সমঝোতা নিয়ে ফের আলোচনার কোনো সুযোগ নেই। এ কারণে আমেরিকার উচিত অযথা বাগাড়ম্বর বন্ধ করে ইরানের মতো পরমাণু সমঝোতার ধারাগুলো পুরোপুরি মেনে চলা।" 


মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী টিলারসন বর্তমানে পরমাণু ইস্যুতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হুমকির ফলে সৃষ্ট অচলাবস্থা কাটিয়ে ওঠার জন্য ইউরোপ সফর করছেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যদি এরপর পরমাণু সমঝোতা প্রত্যয়ন না করেন তাহলে তার হবে এ চুক্তি থেকে আমেরিকার বেরিয়ে যাওয়া এবং চুক্তির মৃত্যু।


তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক উপদেষ্টারা চান না পরমাণু সমঝোতার মৃত্যু ঘটুক। এ ছাড়া, মার্কিন কর্মকর্তারা মনে করেন পরমাণু ইস্যুতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মর্যাদা প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছে।


চুক্তি সংশোধনের জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ঘোষিত সময়সীমা পার হওয়ার পরও তিনি যদি আবারো এটি নবায়ন করেন তাহলে তা হবে আমেরিকা ও ট্রাম্পের জন্য বিরাট পরাজয়।


এ কারণে মার্কিনীরা আশা করছেন, ইউরোপ অন্তত ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেবে যাতে এই অচলাবস্থা থেকে ট্রাম্প বেরিয়ে আসতে পারেন এবং বিশ্ববাসীকে এটা বোঝাত পারেন যে, পরমাণু সমঝোতার বাইরে অন্য বিষয়ে ইউরোপ ও আমেরিকার মধ্যে মিল রয়েছে।


কিন্তু পরমাণু সমঝোতা টিকিয়ে রাখার জন্য ইউরোপের শক্ত অবস্থানের কারণে ধারণা করা হচ্ছে আমেরিকার সে আশা পূরণ হবে না এবং পরমাণু সমঝোতায় পরিবর্তন আনার মার্কিন চেষ্টা শেষ পর্যন্ত সফল হবে না।


পরমাণু সমঝোতায় পরিবর্তন আনার চেষ্টা সফল হবে না বলে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী টিলারসন যে মন্তব্য করেছেন তা থেকে বোঝা যায়, মার্কিন কর্মকর্তারা অনেকটা হতাশ হয়ে পড়েছেন।


প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এমন এক চুক্তিতে পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছেন যা কিনা গত ১০ বছরের বেশি সময় ধরে সাতটি দেশ দীর্ঘ আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় পৌঁছান। এই সাতটি দেশ ছাড়াও ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ২৮টি দেশের প্রতিনিধিরা এতে জড়িত ছিলেন।


জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদেরও এর প্রতি সমর্থন রয়েছে। অর্থাৎ সবার সম্মতিতে পরমাণু সমঝোতা হয়েছিল। এ অবস্থায় পরমাণু সমঝোতার বিরুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হুমকি যে কাজে আসবে না তা আগে থেকেই বোঝা যাচ্ছিল।


এমআর

Print