জানা-অজানা ইসলামীক প্রশ্ন এবং উত্তর

টাইম ডেস্ক
টাইম নিউজ বিডি,
০৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:৪৭:৩৫
#

প্রশ্ন : বিভিন্ন সময় ওয়াজে শুনি, আল্লাহর কাছে চাইতে হলে কোনো একটা মাধ্যম দরকার। বিষয়টি যদি একটু বুঝিয়ে বলতেন?


উত্তর : না, এটি আল্লাহতায়ালার নির্দেশনা পরিপন্থী। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তুমি আমাকে ডাকো, আমি তোমার ডাকে অবশ্যই সাড়া দেবো।’ এটি আল্লাহ সুবহানাহুতায়ালার সুন্নাহ যে, আল্লাহর বান্দা আল্লাহকে ডাকবেন, আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তাঁদের ডাকে সাড়া দেবেন। এ জন্য কোনো তৃতীয় ব্যক্তির প্রয়োজন নেই, মধ্যস্বত্বভোগীর কোনো প্রয়োজন নেই, এটি কোনো যুগেই ছিল না। আল্লাহতায়ালার নৈকট্য লাভের জন্য অন্য কোনো মধ্যস্বত্বভোগী লাগবে, এটি মূলত ভুল কাজ, এটি বিভ্রান্তি।



প্রশ্ন : গায়েবের মালিক তো একমাত্র আল্লাহ। অনেক সময় বিভিন্ন লোক বিভিন্নভাবে দাবি করেন যে তাঁরা গায়েব জানেন। এই বিষয়টি নিয়ে আমরা দ্বিধায় পড়ে যাই। একটু বুঝিয়ে বলবেন?
উত্তর : আল্লাহ সুবহানাহুতায়ালা কোরআনে কারিমের মধ্যে এরশাদ করেন, ‘আল্লাহ ছাড়া পাঁচটি জিনিস কেউ জানে না’। তার মধ্যে একটি হচ্ছে গায়েবের বিষয়টি। এই একটি নাম আল্লাহরাব্বুল আলামিন কোরআনে কারিমে একাধিকবার ব্যবহার করেছেন, ‘তিনি অদৃশ্য এবং দৃশ্যের জ্ঞানী’। দুনিয়ার সবাই দৃশ্যমান যে বিষয়গুলো আছে, যেগুলো মানুষ দেখতে পায়, সেগুলোর জ্ঞান অর্জন করতে পারেন। কিন্তু আল্লাহতায়ালা দৃশ্যমান অদৃশ্যমান সব বিষয়ের সম্পর্কে জানেন। এটি আল্লাহ তায়ালার রবিয়তের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বৈশিষ্ট্য। সুতরাং কেউ যদি এই দাবী করে, এই কথা বলে যে, আমি গায়েব সম্পর্কে জানি, তাহলে সে ব্যক্তি সবচেয়ে বড় তাগুদ এবং আল্লাহরাব্বুল আলামিনের রবিয়তের সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত করেছে। যেটি ইতিপূর্বে কোনো ধরণের কাফের ব্যক্তিও করে নাই এমনকি ফেরাউন পর্যন্তও করে নাই। আল্লাহতায়ালার রবিয়তের সাথে এই ধরণের বেয়াদবি করা অত্যন্ত জঘন্য অপরাধ।
গায়েবের বিষয়টি রাসুল (সা.) স্পষ্ট করে বলে দিয়েছেন, ‘আপনি বলে দেন, আমি গায়েব সম্পর্কে কিছুই জানি না’। কোরআনের মাধ্যমে আল্লাহ নবি (সা.)কে স্পষ্ট করে এই বিষয়টি জানিয়ে দিয়েছেন। সূরা আরাফের মধ্যে রাসুল (সা.) বলেন, ‘যদি আমি গায়েব সম্পর্কে জানতাম, তাহলে কোনোভাবেই কোনো অনিষ্ট, কোনো ক্ষতি, কোনো সমস্যা, কোনো সংকট আমাকে পেত না।’ অথচ আল্লাহর নবি (সা.) তায়েফের ময়দানে রক্তাক্ত অবস্থায় বেহুশ হয়ে গিয়েছিলেন। ওহুদের ময়দানে মাথার হেলমেট নবির (সা.) মাথায় ঢুকে গিয়েছিল, নবির সামনের দুই দাঁত শহিদ হয়ে গিয়েছিল। এই গুজব চারিদিকে ছড়িয়ে গিয়েছিল, নবি (সা.) নিহত হয়ে গিয়েছেন।
যারা এই গায়েবের বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে তাঁরা যে ভিত্তির ওপর এই বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন সেটি হল, আল্লাহরাব্বুল আলামিন নবিকে (সা.) কিছু বিষয় সম্পর্কে এলম দিয়েছেন। আল্লাহ তায়ালা যেটি জানিয়েছেন, সেটি গায়েবি নয়। জানিয়ে দেওয়ার পরে তো সেটি আর গায়েব থাকবে না। যেমন : নবিকে (সা.) জান্নাত, জাহান্নাম দেখানো হয়েছে, দশজন সাহাবির সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে। এগুলো গায়েব নয়, এগুলো নবিকে জানানো হয়েছে। জানানোর পরে কোনো বিষয় আর গায়েব থাকে না। এটিই মূলত বড় বিভ্রান্তি।



প্রশ্ন : শিরক করে, পীরকে সেজদা করে, পীর যেখানে বসে, সেই খালি আসনে সেজদা করে, আরো অনেক শিরকি ও বেদআতি কাজ করে এমন মুরিদকে কি জাকাত-সদকা দেওয়া যাবে?
উত্তর : না। যারা কোনো পীরকে সেজদা করে থাকে, কবরে সেজদা করে থাকে অথবা আপনি যেগুলো বলেছেন, এ ধরনের কোনো শিরকি কাজে লিপ্ত থাকে, তাদের সদকা-জাকাত কোনোটাই দেওয়া জায়েজ নেই। এটি সম্পূর্ণরূপে হারাম, এদের জাকাতের টাকা দিলে জাকাত আদায় হবে না।



প্রশ্ন : মানুষ তো মৃত্যুর পরে জান্নাত বা জাহান্নামে যাবে। হুজুররা বলেন, কিছু মানুষ জাহান্নাম থেকে আবার জান্নাতে আসবে। আমার প্রশ্ন হচ্ছে, যারা জাহান্নামে যাবে তারা কি জান্নাতে আসবে, নাকি যারা জাহান্নামে আছে তারা জাহান্নামেই থাকবে?
উত্তর : আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা যাদের ক্ষমা করবেন অথবা যাদের ওপর আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের রহমত বর্ষিত হবে, তাদের একদল জাহান্নাম থেকে জান্নাতে আসবে। এটি সহিহ হাদিস দ্বারা সাব্যস্ত হয়েছে।
সুতরাং, জাহান্নাম থেকে জান্নাতে আসার সুযোগ আছে, আসতে পারবেন।



প্রশ্ন : বিতরের নামাজের কোনো নির্দিষ্ট সূরা আছে কি? নাকি যেকোনো সূরা পড়া যায়?
উত্তর : না, বিতরের নামাজের জন্য নির্দিষ্ট কোনো সূরা নেই। বিতরের নামাজ মূলত ইবাদতের জন্য, নামাজের জন্য। বিতরের নামাজ আদায়ের জন্য নবী (সা.) কোনো নির্দিষ্ট সূরা নির্ধারণ করে যাননি; বরং আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা কোরআনে কারিমের মধ্যে স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘কোরআন থেকে তোমাদের সাধ্যে যতটুকু কুলায়, তোমাদের পক্ষে যতটুকু সম্ভব হয়, তোমরা ততটুকু তিলাওয়াত করো।’
কিন্তু নবী (সা.) বেশিরভাগ সময় সুনির্দিষ্ট কিছু সূরা বিতরের নামাজে তিলাওয়াত করতেন। এই মর্মে নবীর (সা.) হাদিস সাব্যস্ত হয়েছে। যেহেতু নবী (সা.) এই সূরাগুলো তিলাওয়াত করতেন, সুতরাং কেউ যদি এই সূরাগুলো তিলাওয়াত করেন, তাহলে নবীর সুন্নাহ অনুসরণ করার জন্য তাঁর এই কাজ সুন্নাহ হিসেবে গ্রহণযোগ্য হবে এবং ফজিলতের কাজ হবে।
যেমন : নবী (সা.) বিতরের নামাজের প্রথম রাকাতে সূরা আলা পড়তেন, দ্বিতীয় রাকাতে সূরা কাফিরুন এবং তৃতীয় রাকাতে সূরা ইখলাস পড়তেন। সুতরাং এই পদ্ধতি যদি কেউ অনুসরণ করেন, তাহলে করতে পারেন। কোনো কোনো রেওয়াতে এসেছে নবী (সা.) প্রথম রাকাতে সূরা আলা পড়তেন, দ্বিতীয় রাকাতে সূরা জিলজাল এবং তৃতীয় রাকাতে সূরা ইখলাস পড়তেন।
সূত্র: ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ্

Print