হ্রাস পাচ্ছে পোশাক খাতে নারী শ্রমিকের সংখ্যা

অর্থনীতি ডেস্ক
টাইম নিউজ বিডি,
০৪ মার্চ, ২০১৮ ২৩:৩১:৪৫
#

গেলো কয়েক বছরে তৈরি পোশাক খাতে কর্মসংস্থানের প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি নারী শ্রমিকের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। তৈরি পোশাক খাত নিয়ে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপিডির করা এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। সিপিডির গবেষণা প্রতিবেদনের অধিকাংশ বিষয়ে একমত হলেও বিজিএমইএ সভাপতি মজুরীর বিষয়টা নিয়ে কিছুটা দ্বিমত পোষণ করেছেন।


দেশের তৈরি পোশাক খাতের ১৯৩ টি প্রতিষ্ঠানের ২ হাজার শ্রমিকের উপর জরিপ করেছে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপিডি। গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয় রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পরে প্রচুর কারখানা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে দেশের তৈরি পোশাক খাতে অনেক সংস্কার হলেও অনেক বিষয়ে পিছিয়ে রয়েছে এ খাত। এখনও ৪১ শতাংশ কারখানা ভাড়া ভবনে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।


প্রতিবেদনে বলা হয় তৈরি পোশাক খাতে নারীর তুলনায় পুরুষ কর্মীরা ৩ শতাংশ বেশি মজুরি পাচ্ছে। যেখানে পুরুষের গড় মজুরী ৭২৭০ টাকা সেখানে নারী শ্রমিকের মজুরি ৭০৫৮ টাকা।


সিপিডি'র সম্মানীয় ফেলো দেবপ্রিয় বলেন, 'রানা প্লাজার উত্তরণ পরিস্থিতিতে বিনিয়োগ থেমে থাকে নি। নতুন প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে গার্মেন্টস খাতে। এটা একটা বড় উৎসাহব্যঞ্জক ফলাফল। এসময় অনেকেই নতুন ভবনে গেছেন কিন্তু এখন ১২ শতাংশ প্রতিষ্ঠান পুরনো ভবনে অবস্থান করছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল হলো ১৬ শতাংশের মতো বিদেশি কর্মকর্তা গার্মেন্টস খাতে কাজ করছেন।'


পোশাক শ্রমিকদের নতুন বেতন কাঠামো জরুরি উল্লেখ করে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন নতুন ওয়েজ বোর্ডের ক্ষেত্রে মালিকের সক্ষমতা ও শ্রমিকের প্রয়োজনীয়তা দুটো বিষয়েই সমান গুরুত্ব দিতে হবে।


বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, 'এখানে কিছু কিছু ক্ষেত্র আছে, যেটা পুরোপুরিভাবে উঠে আসে নি। বেতনের বিষয়গুলো, শ্রমিকের প্রয়োজনীয়তা ও মালিকের সক্ষমতা এই বিষয় নিয়ে ওয়েজ বোর্ড একটি পারিশ্রমিক ঠিক করবে, এটিই আমি আশা করি।'


প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে বড় কারখানার প্রয়োজন রয়েছে উল্লেখে করে সাবেক শ্রম সচিব মিখাইল শিপার বলেন এই খাতে প্রচলিত পদ্ধতিতে শ্রমিক সংগঠন করা সম্ভব নয়।


প্রযুক্তি ব্যবহারে বড় প্রতিষ্ঠান এগিয়ে থাকলেও ছোট প্রতিষ্ঠান অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছে বলে সিপিডির গবেষণায় উল্লেখ করা হয়।


এসএম

Print