প্রতিপক্ষের বলি বিউটি, হত্যায় জড়িত বাবা-চাচা

স্টাফ রিপোর্টার
টাইম নিউজ বিডি,
০৮ এপ্রিল, ২০১৮ ০১:৫১:২৫
#

''বাবা কেন খুনি''কোন সিনেমার নাম নয়। হবিগঞ্জের স্কুলছাত্রী বিউটি হত্যার ঘটনা এটি।


গভীর রাতে শরীরে ছুরি চালিয়ে নিজের মেয়ে বিউট আক্তারকে যখন খুন করে ভাড়াটে খুনিরা, তখন দূরে থেকে দাঁড়িয়ে সে দৃশ্যই দেখেন জন্মদাতা পাশান বাবা সায়েদ আলী। রাস্তার খালের পাশে হত্যার পর মেয়েটির লাশ ফেলে রাখা হয় হাওরে।


হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিল ১০ হাজার টাকা। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি বাবুল মিয়া ধর্ষণে জড়িত থাকলেও সরাসরি সম্পৃক্ততা নেই হত্যাকাণ্ডে।


শনিবার (৭ এপ্রিল) সন্ধ্যায় জেলা পুলিশ সুপার বিধান ত্রিপুরা সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য দেন।


এভাবেই মেয়েকে হত্যার বর্ণনা দিয়েছেন হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার সায়েদ আলী। আর এই হত্যায় উসকানি দেন সায়েদ আলীর ভাই ময়না মিয়া। ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নির্বাচনে ‘ধর্ষক’ বাবুল মিয়ার মায়ের কাছে স্ত্রীর পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে এবং বাবুল ও তাঁর পরিবারকে ফাঁসাতে এই উসকানি দেন ময়না মিয়া।


দুই ভাই এসব কথা স্বীকার করে হবিগঞ্জের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম তৌহিদুল ইসলামের আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। এর মধ্যে সায়েদ আলী আজ শনিবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত জবানবন্দি দেন। শুক্রবার রাতে জবানবন্দি দেন ময়না মিয়া। ওই দিন বিকেলে জবানবন্দি দেন বাবুল মিয়া। তিনি বিউটিকে অপহরণ ও ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন।


বিউটি আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করে জবানবন্দির এসব বর্ণনা তুলে ধরেন হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার বিধান ত্রিপুরা। আজ বিকেল ৬টায় পুলিশ সুপারের সভাকক্ষে তিনি সাংবাদিকদের এ বিষয়ে ব্রিফিং করেন।



পুলিশ সুপার জানান, শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার ব্রাহ্মণডোরা গ্রামের সায়েদ আলীর মেয়ে বিউটি আক্তারকে বাড়ি থেকে অপহরণ করে নিয়ে যান বাবুল মিয়া ও তাঁর লোকজন।


তাকে অপহরণ করে প্রায় এক মাস বিভিন্ন স্থানে আটকে রেখে ধর্ষণ করেন বাবুল। এ ঘটনায় বাবুল মিয়ার বিরুদ্ধে মামলা করেন বিউটির বাবা সায়েদ আলী। মামলায় সাক্ষী করা হয় বিউটির চাচা ময়না মিয়াকে।


অপরদিকে, গত ইউপি নির্বাচনে বাবুল মিয়ার মা কলম চান সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে প্রার্থী হন। তিনি ময়না মিয়ার স্ত্রী আছমা আক্তারকে পরাজিত করে নির্বাচিত হন।


এ নিয়ে বাবুল মিয়া ও ময়না মিয়ার মধ্যে বিরোধ চলছিল। এদিকে, বিউটি আক্তার ধর্ষণের শিকার হওয়ায় বাবুল মিয়া ও তাঁর মায়ের বিরুদ্ধে প্রতিশোধের সুযোগ নেন ময়না মিয়া।


পুলিশ সুপার বিধান ত্রিপুরা জানান, ময়না মিয়া বিউটির বাবা সায়েদ আলীকে বুঝান, তোমার মেয়ে ধর্ষণের শিকার হয়ে কলঙ্কিনী হয়ে গেছে। এই মেয়ে রেখে লাভ কি। তোমার মেয়েকে খুন করে ধর্ষক বাবুলের ওপর খুনের দায় চাপিয়ে দিলে তার উপযুক্ত শাস্তি হবে।


ময়না মিয়ার কথায় সায় দেন সায়েদ আলী। কথা মতো ১৬ মার্চ রাত ১২টার দিকে সায়েদ আলী লাখাই উপজেলার গুনিপুর গ্রামে গিয়ে বিউটি আক্তারকে তার নানা বাড়ি থেকে এনে তুলে দেন ময়না মিয়ার হাতে। রাত ৩টার দিকে ময়না মিয়া ও এক ভাড়াটে খুনি মিলে বিউটি আক্তারকে খুন করে। খুনের সময় কিছু দূরে দাঁড়িয়ে ছিলেন বাবা সায়েদ আলী।


আসামি গ্রেপ্তারের স্বার্থে ভাড়াটে খুনির নাম প্রকাশ করেননি পুলিশ সুপার।


এএস


 

Print