রোহিঙ্গা নির্যাতন ও বিচার নিয়ে বাংলাদেশের মতামত চেয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত  | timenewsbd.com

রোহিঙ্গা নির্যাতন ও বিচার নিয়ে বাংলাদেশের মতামত চেয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত 

স্টাফ রিপোর্টার
টাইম নিউজ বিডি,
০৯ মে, ২০১৮ ০৩:০৮:১৭
#

রোহিঙ্গা নির্যাতনের বিষয়ে মামলা চালানোর অধিকার আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) আছে কিনা -এ বিষয়ে বাংলাদেশের মতামত জানতে চেয়েছে রোমভিত্তিক আদালতটি।   


আইসিসি’র প্রি-ট্রায়াল চেম্বার সোমবার (০৭ মে) এ সংক্রান্ত একটি চিঠি পাঠিয়েছে বাংলাদেশকে। এতে আগামী ০৮ জুনের মধ্যে প্রকাশ্যে বা গোপনীয়ভাবে মতামত জানানোর জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। 


এ বিষয়ে পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল বলেন, “আমরা তাদের অনুরোধ পেয়েছি এবং বিষয়টি বিবেচনা করছি।” 


আইসিসি’র ওই পত্রে বলা হয়েছে, “মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গাদের বিতাড়নের কারণে বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে চেম্বার মনে করে বাংলাদেশের কাছ থেকে এ বিষয়ে মতামত চাওয়াটা সঠিক।”    


বাংলাদেশের কাছে আন্তর্জাতিক আদালতটি ৩ বিষয়ে মতামত চেয়েছে। প্রথমত,মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসার পর রোহিঙ্গাদের অবস্থা কী; দ্বিতীয়ত,রোহিঙ্গা বিতাড়ন বিষয়ে শুনানির জন্য আইসিসি’র কোনও অধিকার আছে কিনা এবং তৃতীয়ত,এ সংক্রান্ত অন্য যেকোনও প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান।   


গত ৯ এপ্রিল আইসিসি’র প্রসিকিউটর ফাতু বেনসৌদা রোহিঙ্গা নির্যাতনে মামলা শুনানির অধিকার সংক্রান্ত একটি রুলের জন্য ওই আদালতে আবেদন দাখিল করেন। এর ২ দিন পর আইসিসি ৩ জন বিচারকের সমন্বয়ে একটি প্রি-ট্রায়াল চেম্বার গঠন করে। এরপর বাংলাদেশের মতামত চাওয়া হলো।


মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও উগ্র-বৌদ্ধরা রোহিঙ্গা মুসলমানদের উপর গণহত্যা-ধর্ষণ ও অগ্নিসংযোগের মত ভয়াবহ নির্যাতনের মূখে গত কয়েক বছরে ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে।  


জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী- গত বছরের ২৫ আগস্টের পর থেকে গণহত্যা-ধর্ষণ ও অগ্নিসংযোগের মুখে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয় রোহিঙ্গার সংখ্যা ৬ লাখ ৮০ হাজার।  তাদের মধ্যে ৩০ হাজার অন্তঃসত্ত্বা নারী, ৩৬ হাজার অনাথ এবং ৭ হাজার ৮০০ শিশু, যাদের বাবা ও মা উভয়েই নিখোঁজ।


এর আগে বিভিন্ন সময় সেনাবাহিনী ও উগ্র-বৌদ্ধদের নির্যাতনে পালিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়ে আছে ৪ লাখের বেশি রোহিঙ্গা।


আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স এর অনুসন্ধানে গণহত্যারপ্রমানও মিলেছে। তাঁরাবলছে, বর্মী সৈন্যরা গ্রামবাসীদের সাথে নিয়ে রাখাইনের উত্তরাঞ্চলীয় ইন দিন গ্রামে গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর গণহত্যার ঘটনা ঘটেছিলো। এই গ্রামে ১০ জন রোহিঙ্গাকে হত্যার বিষয়ে তাদের দুই সাংবাদিক ওয়া লো এবং চ সো উ-কে সেখানে তথ্য প্রমাণ সংগ্রহ করে।


রয়টার্সেরঅনুসন্ধানে বলা হয়, ওই গ্রামে অভিযানের সময় রোহিঙ্গা পুরুষদের একটি দল নিজেদের জীবন বাঁচাতে একটি জায়গায় গিয়ে জড়ো হয়। তখন ওই গ্রামের কয়েকজন বৌদ্ধ পুরুষ একটি কবর খনন করার নির্দেশ দেন। তারপর ওই ১০ জন রোহিঙ্গা পুরুষকে হত্যা করা হয়। বৌদ্ধ গ্রামবাসীরা অন্তত দু’জনকে কুপিয়ে এবং বাকিদেরকে সেনাবাহিনী গুলি করে হত্যা করেছে।


মুস্তাঈন 

Print