পরমাণু চুক্তি বাতিলে সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হবে : তুরস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
টাইম নিউজ বিডি,
১০ মে, ২০১৮ ০০:৫৪:০৪
#

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানের এক মুখপাত্র বলেছেন, ইরানের পরমাণু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের একতরফাভাবে প্রত্যাখ্যান করায় নতুন আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা ও সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হবে।


টুইটারের এক পোস্টে এরদোগানের মুখপাত্র ইব্রাহীম কালিন বলেন, অন্যান্য দেশের সঙ্গে ইরানের এই বহুপক্ষীয় চুক্তি অব্যাহত থাকবে। তুরস্ক সবসময় সব ধরনের পারমাণবিক অস্ত্র নির্মাণের বিরোধিতা করে যাবে।-খবর আল আরাবিয়ার।


এদিকে আন্তর্জাতিক পরমাণু চুক্তি ও জাতিসংঘের প্রস্তাব লঙ্ঘনের অভিযোগে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোরতম অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবেন বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।


এতে ইউরোপে মার্কিন মিত্রদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চূড়ান্ত ভাঙন দেখা দিতে পারে। শুধু তাই নয়, উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে সংকট দেখা দেবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।


এক বিবৃতিতে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ট্রাম্প বলেছেন- ২০১৫ সালে অন্য বৃহৎ শক্তিগুলোর সঙ্গে মিলে করা চুক্তি থেকে তারা বেরিয়ে এসেছেন। তিনি হুশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে কোনো দেশ সহায়তা করলে তাদের ওপরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে।


দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে ২০১৫ সালে জয়েন্ট কমপ্রেহেনশিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন (জেসিপিওএ) নামে এ চুক্তিটি সই হয়েছিল। এতে ইরানের বিপরীতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, চীন, রাশিয়া ও জার্মানি ছিল।


চুক্তিতে পরমাণু কর্মসূচি সীমিত করার বিনিময়ে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা থেকে ছাড় পায় ইরান। এতে তেহরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে একযুগের অচলাবস্থার অবসান ঘটেছিল।


প্রায় দুই বছর নিবিড় আলোচনার পর ভিয়েনায় ওই চুক্তিটি সই হয়েছিল।


এসব কিছুর পরও ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে পরমাণুসংশ্লিষ্ট নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নেয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে তেহরানের ফের যোগাযোগ স্থাপিত হয়।


২০১৬ সালে মার্কিন নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিজয় চুক্তির ভাগ্য নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছিল। নির্বাচনের আগে তিনি প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হলে তিনি ওই বিপর্যয়কর চুক্তি থেকে সরে আসবেন।


এসএম

Print