খুলনা সিটিতেও সন্ত্রাসের পুনরাবৃত্তি: বিএনপি

স্টাফ রিপোর্টার
টাইম নিউজ বিডি,
১৫ মে, ২০১৮ ১৮:০২:৫২
#

খুলনার সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটের শুরুতেই ৪০টি কেন্দ্র থেকে ধানের শীষের প্রার্থীর এজেন্টদের বের করে দেওয়ার অভিযোগ করেছে বিএনপি।


মঙ্গলবার ভোট শুরুর পর আড়াই ঘণ্টার মাথায় ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এ অভিযোগ করেন।


তিনি বলেন, “ধানের শীষের প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু জানিয়েছেন, সকাল সাড়ে ৮টায় মধ্যে পুলিশের সহায়তায় ৪০টি কেন্দ্র থেকে বিএনপির এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে। আমরা খবর পাচ্ছি, অধিকাংশ কেন্দ্রে এজেন্টরা ঢুকতে পারছেন না। অতীতের মত সেই একই রূপ, একই সন্ত্রাসের পুনরাবৃত্তি।”


মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে খুলনা সিটি করপোরেশনের ২৮৯টি ভোট কেন্দ্রে একযোগে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। ৪ লাখ ৯৩ হাজার ভোটার এ নির্বাচনের মাধ্যমে সিটি করপোরেশনের নতুন নেতৃত্ব বেছে নেবেন।


বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মঞ্জুর বিপীরতে এ নির্বাচনে মেয়র পদে লড়ছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেক।


রিজভী বলেন, “ভোট ডাকাতির যে বিষয়টি আমরা অভিযোগ করেছি, ভোট গ্রহণ শুরুর পর থেকে ডাকাতির যে চরিত্র দেখছি- কেড়ে নেওয়া, বের করে দেওয়া, আটকে রাখা, রক্তাক্ত করা, ব্যালট বাক্স নিয়ে যাওয়া, ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানো, মহিলা এজেন্টদের হুমকি দেওয়া- এটা তো ডাকাতির নিদর্শন।”


আওয়ামী লীগের ‘সন্ত্রাসীরা’ কেন্দ্রে গিয়ে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর এজেন্টদের নৌকা মার্কায় ‘সিল মারতে’ উৎসাহ দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব।


তিনি বলেন, খুলনার ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের পাঁচটি কেন্দ্র, নজরুল নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র, খালিশপুরের ১৫ নম্বর কেন্দ্র, ৩১ নম্বর ওয়ার্ড কেন্দ্র, ১১ নম্বর ওয়ার্ড কেন্দ্র, ২২ নম্বর ওয়ার্ড কেন্দ্র, ২৬ নম্বর ওয়ার্ড কেন্দ্র থেকে ধানের শীষের এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে।


নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, ইসি ‘গ্রিক মূর্তির মত’ নির্বাক হয়ে আছে। বিভিন্ন জেলা থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে খুলনায় মোতায়েন করা হয়েছে। অথচ তাদের সামনেই আওয়ামী সন্ত্রাসীরা ভোটারদের বাধা দিচ্ছে।


“ধানের শীষের এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দিচ্ছে, ভোটারদের ভয়-ভীতি দেখাচ্ছে, ভোটারদের ঢুকতে দিচ্ছে না। এখন আপনারা উপলব্ধি করেন, সরকার কেন সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে চায় না।


“কারণ এই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী শেখ হাসিনা যা বলবেন, সেটা অক্ষরে অক্ষরে পালন করবেন। যেমন ইসি শেখ হাসিনার কথা অক্ষরে অক্ষরে পালন করছেন। তবু আমাদের প্রার্থী বলেছেন, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আমাদের প্রার্থী নির্বাচন থাকবেন। ভোটারা যদি সুযোগ পায়, এই অন্যায়, এই জুলুমের জবাব দেবে।”


নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেলের এই সংবাদ সম্মেলনে দলের কেন্দ্রীয় নেতা আবদুস সালাম আজাদ, তাইফুল ইসলাম টিপু, মুনির হোসেনও উপস্থিত ছিলেন।

Print