রমজানে আত্মিক পরিশুদ্ধি ও আত্মত্যাগের মহান শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ হতে জামায়াতের আহবান

টাইম ডেস্ক
টাইম নিউজ বিডি,
১৬ মে, ২০১৮ ০১:৩৯:৪৮
#

“আত্মিক পরিশুদ্ধি অর্জন, সামাজিক সহমর্মিতা ও আত্মত্যাগের মহান শিক্ষা এবং রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের সওগাত নিয়ে বছর ঘুরে আবারও সমাগত পবিত্র মাহে রমজান।” মাসটি মুসলিম উম্মাহর জন্য মুত্তাকী হওয়ার প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে। মানবতার মুক্তির সনদ মহাগ্রন্থ আল কুরআন নাযিলের মাস হওয়ায় মাহে রমজানের গুরুত্ব ও মহাত্ম অনেক বেশী।”


সিয়াম সাধনার এই মাসের পবিত্রতা রক্ষা, ব্যক্তি ও সমাজ জীবনে তাকওয়া অর্জন এবং কুরআনের আলোকে জীবন পরিচালনার জন্য নগরবাসীর প্রতি উদাত্ত আহবান  জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ।


সেই সাথে তারা নগরবাসীসহ মুসলিম উম্মাহকে পবিত্র মাহে রমযানের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়েছেন। আজ (মঙ্গলবার) দলটির ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের প্রচার সহকারী মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ সাইফ স্বাক্ষরিত এক যৌথ প্রেসবার্তায় এইসব কথা বলা হয়।  


ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির ও সেক্রেটারী বলেন, “ক্বিয়ামত পর্যন্ত মানুষের হেদায়াত এবং মুক্তির নির্দেশনা দিয়ে রমযান মাসেই আল্লাহপাক পবিত্র কুরআনুল ক্বারিম নাযিল করেন। কুরআন নাজিল হওয়ার কারণেই রমযান মাস অন্যান্য মাসের চেয়ে অধিক গুরুত্বপূর্ণ। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের পক্ষ থেকে আমাদের জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ নিয়ামত হলো আল কুরআন। পবিত্র কুরআনের যথাযথ অনুসরণের মধ্যেই রয়েছে মানবজাতির একমাত্র উন্নতি, অগ্রগতি ও প্রকৃত কল্যাণ।”“পৃথিবীর মুসলমানগণ আজ এক ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। দিকে দিকে মুসলমানদের উপর ইসলাম বিরোধী শক্তি জুলুম-নিপীড়নের স্টিম রুলার চালাচ্ছে। মুসলমানগণ আজ এক অসহায় জাতিতে পরিণত হয়েছে। এই দুর্গতি ও পশ্চাৎপদতার মূল কারণ পবিত্র কুরআন থেকে দূরে সরে যাওয়া। বর্তমান সংঘাতময় পৃথিবীতে পবিত্র কুরআনই একমাত্র মানবতার মুক্তি সনদ।”


নেতৃবৃন্দ বলেন, “আত্মশুদ্ধি-আত্মগঠন ও তাকওয়া অর্জনের মাস পবিত্র মাহে রমযান। শুধু পানাহার ও কামাচার থেকে বিরত থাকার নাম সিয়াম সাধনা নয় বরং যাবতীয় পাপাচার থেকে নিজের নফস ও প্রবৃত্তির উপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে সকল লোভ-লালসা ও ইন্দ্রিয়পরায়নতার উর্ধ্বে থেকে একটি ন্যায়-ইনসাফ ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার মহান দায়িত্ব পালনে সর্বোচ্চ ত্যাগ-কুরবানী করাই রমযানের প্রকৃত শিক্ষা। মানুষ একমাত্র আল্লাহর ভয়ে সারাদিন যেমন অনাহারি থাকবে তেমনি জীবনের সকল ক্ষেত্রে আল্লাহর নিষিদ্ধ জিনিস থেকে নিজেকে বিরত রাখবে এটাই রমযানের শিক্ষা।


রমযানে অনাহারে থেকে ক্ষুধার কষ্ট অনুভব করার মাধ্যমে অভাবী-দরিদ্রদের অবস্থা উপলব্ধি করা যায়। এ মাসের একটি নফল ইবাদত অন্য মাসের একটি ফরজের সমান ফজিলত এবং এ মাসের একটি ফরজ ইবাদত অন্য মাসের ৭০ টি ফরজের সমান ফজিলত বহন করে। রমযানের শেষ দশকের বেজোড় রজনীতে এমন এক মহিমান্বিত রাত আছে যার মর্যাদা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। তাই এই মহিমান্বিত রজনী ও মাসের হক যথাযথভাবে আদায় করে সকলকে আত্মশুদ্ধি ও আত্মগঠনের কাজে আত্মনিয়োগ করতে হবে।”


জামায়াত নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, “রমযান মাস শুরুর পূর্বেই চাল, ডাল, তেলসহ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের উর্দ্ধগতির ফলে সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছে।


নেতৃবৃন্দ মাহে রমজানের পবিত্রতা রক্ষায় দ্রব্যমূল্যের উর্ধগতি রোধ, দিনের বেলায় হোটেল রেস্তোরা বন্ধ, নগরীর অশ্লীল পোষ্টার ও বিলবোর্ড অপসারণ, অসামাজিক কার্যকলাপ, অশ্লীলতা ও বেহায়াপনা বন্ধ, নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, গ্যাস ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ নিশ্চিত, যানজট দুরীকরণ, শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা পরিশোধ, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে বিরত থেকে আইন-শৃংখলা পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ ও অন্যায়ভাবে গ্রেফতারকৃত জামায়াত-শিবিরসহ ২০ দলীয় জোটের সকল নেতা-কর্মীদের মুক্তির জন্য সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহবান জানান।


এমবি    

Print