কানাডার ম্যানিটোবায় রোহিঙ্গা সমস্যা বিষয়ক বিশেষ বিশেষজ্ঞ সংলাপ

হেলাল মহিউদ্দীন, উইনিপেগ, ম্যানিটোবা, কানাডা
টাইম নিউজ বিডি,
২৩ মে, ২০১৮ ২৩:২৭:৪৮
#

“অদ্যাবধি রোহিংগা সমস্যা সমাধানের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণে নেতৃত্ব দেবার ক্ষেত্রে কানাডাই বিশ্ব সমাজের কাছে সবচে’গ্রহণযোগ্য শক্তি, এবং কানাডাকেই নেতৃত্ব দিতে হবে একদল কানাডিয় বিশেষজ্ঞ এই মতামতটি জানান কানাডার ম্যানিটোবাস্থ থিংক ট্যাংক কনফ্লিক্ট অ্যান্ড রেজিলিয়ান্স রিসার্চ ইনস্টিট্যুট (ক্রিক) এর আয়োজনে ১৫ মার্চ ২০১৮ ‘রোহিঙ্গা সংঘাত, সমাধান ও রণকৌশল’(রোহিংগা কনফ্লিক্ট, সল্যুশ্যনস, স্ট্র্যাটেজি) শীর্ষক পলিসি নির্ধারণী সংলাপে্র মাধ্যমে।


ম্যানিটোবা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেইন্ট পল’স কলেজে ক্রিক আয়োজিত সংলাপটিতে অংশগ্রহণকারী ৩৫ জন বিশেষজ্ঞের মধ্যে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, নিরাপত্তা গবেষক, উদ্বাস্তু ও অভিগামী গবেষণা বিশেষজ্ঞ, মানবাধিকার আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ, এনজিও নির্বাহীগণ, কানাডায় অভিবাসী রোহিংগা জনগোষ্ঠীর কয়েকজন প্রতিনিধি, এবং কানাডিয়ান মিউজিয়াম অব হিউম্যান রাইটসের কর্মকর্তাবৃন্দ।  


সংলাপটির প্রেক্ষাপট হিসেবে দুইজন গবেষক ড. কাওসার আহমেদ এবং ড. হেলাল মহিউদ্দীন দুইটি পর্বে রোহিংগা সমস্যা ও সংঘাতের নৃতাত্ত্বিক, সমাজতাত্ব্বিক এবং শান্তি ও নিরাপত্তা বিষয়ক বিবেচ্যগুলোর চুলচেরা বিশ্লেষণ করেন, এবং কানাডার বব রে’র অতি সাম্প্রতিক রিপোর্টের পুংখানুপুংখ আলোচনা করেন।


মায়ানমার ও বাংলাদেশে কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর বিশেষ দূত বব রে’২০১৭ সালের শেষভাগে বাংলাদেশের রোহিংগা ক্যাম্পগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। সে সময় তিনি মায়ানমার এবং বাংলাদেশের উচ্চ পর্যায়ের নীতি নির্ধারক মহলে সমস্যাটি সমাধানের যথার্থ পথ ও মত বিষয়ে গভীর অনুসন্ধান চালান। তিনি তাঁর সরেজমিন পরিদর্শন অভিজ্ঞতার আলোকে ২০১৭ সালের অক্টোবরে খসড়া রিপোর্ট এবং ২০১৮ সালের ৩ এপ্রিল পূর্ণাংগ রিপোর্ট প্রকাশ করেন। এই রিপোর্টে চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ১৭টি পরামর্শ প্রদান করা হয়। পরামর্শগুলোতে একটি রোহিংগা ওয়ার্কিং গ্রুপ, একটি আঞ্চলিক ওয়ার্কিং গ্রুপ এবং একটি আন্তর্জাতিক ওয়ার্কিং গ্রুপ এর প্রস্তাব রাখা হয়।  


বব রে’রিপোর্টের বাইরে সাংবাদিক সম্মেলনেও কানাডার নেতৃস্থানীয় ভূমিকা পালনের পরামর্শটির উপর সবিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। 


বিশেষজ্ঞ আলোচকগণ রোহিংগাদের প্রত্যাবর্তন ও প্রত্যাবাসন এবং আন্তর্জাতিক সমাজে রাজনৈতিক অভিবাসন দান এই দুইটি বিষয়ে সবিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। এই দুইটি মূল কৌশলের জন্য প্রয়োজন ‘রাজনৈতিক’দায়িত্ব গ্রহণে বিশ্বসমাজকে একাত্ম করা। বব রে’র রিপোর্টে এই বিষয়টিতে স্পষ্ট আলোকপাত না থাকায় বিশেষজ্ঞগণ নীতিনির্ধারকদের এ বিষয়ে আরো স্পষ্ট রূপরেখা তৈরির পরামর্শ দেন। ইন্সটিটিউটের পক্ষ হতে ২১শে সেপ্টেম্বর বিশ্ব শান্তি দিবসে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, সৌদি আরব ও কম্বোডিয় প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক সংলাপ আয়োজনের পরিকল্পনাও উত্থাপিত হয়। আলোচকগণ আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত-এর পক্ষ হতে বাংলাদেশের কাছে চাওয়া তিনটি মতামতের সৎ ও সুচিন্তিত মতামত দানে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবার পরামর্শও প্রদান করেন।


হেলাল মহিউদ্দীন/এসএম

Print