রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে বিদায় নিলেন প্রিয়াঙ্কা

স্টাফ রিপোর্টার
টাইম নিউজ বিডি,
২৪ মে, ২০১৮ ২২:৪৬:৫৭
#

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বললেন, দুর্দশার কথা শুনলেন বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও মডেল প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। রোহিঙ্গা শিশুদের সঙ্গে খেলেছেন, সময় কাটিয়েছেন। শিশুদের দুর্দশাও দেখলেন নিজ চোখে। এসব সারা বিশ্বকেও জানালেন তিনি। কক্সবাজারে চারদিনের সফর শেষে ঢাকায় ফিরেছেন প্রিয়াঙ্কা। জানা যায়, সন্ধ্যায় ঢাকায় সংবাদ সম্মেলনে কথা বলবেন তিনি। 


আজ বৃহস্পতিবার গত চারদিনের অভিজ্ঞতার কথা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘লাইভ’ করে জানান প্রিয়াঙ্কা। উখিয়ার কুতুপালংয়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দাঁড়িয়েই তিনি কথা বলেন। তিনি নারী ও শিশুদের অবস্থা তুলে ধরেন। সেখানে সারা বিশ্বের বহু মানুষ তাঁকে বিভিন্ন প্রশ্ন করে। তিনি এর উত্তর দেন। এসব শিশুকে সাহায্য করার জন্য আহ্বান জানান।


মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত এসব মানুষকে দেখতে গত ২১ মে কক্সবাজারে যান প্রিয়াঙ্কা। ইউনিসেফের শুভেচ্ছা দূত হিসেবে তিনি এ সফরে আসেন। আজ বৃহস্পতিবার কক্সবাজার ত্যাগ করেন তিনি।


‘লাইভে’ প্রিয়াঙ্কা বলেন, ‘এখানে শৌচাগার ও পানির টিউবওয়েলের জায়গা পাশাপাশি। ফলে বৃষ্টি হলে শৌচাগার থেকে পানি উপচে পড়ে এবং পানি দূষিত হয়ে যায়। এর ফলে নানা রোগজীবাণু ছড়িয়ে পড়ে।’ ভক্তদের উদ্দেশে প্রিয়াঙ্কা বলেন, ‘শিশুদের ধর্ম কী, বাবা-মাকে, এদের পরিচয় কী এগুলো বড় বিষয় না। এখন এদের দরকার আপনার সহানুভূতি।’


এক ভক্তের প্রশ্নের জবাবে বলিউড অভিনেত্রী বলেন, “শিশুদের আমি জিজ্ঞাসা করেছিলাম তোমাদের স্বপ্ন কী? তাদের সবাই বলে ওঠে, ‘আমি স্কুলে যেতে চাই।’” এ ছাড়া বলে, সে সাংবাদিক হতে চায়। এই শিশুরা তাদের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে কিছুই জানে না। কিন্তু এখন তারা মৌলিক শিক্ষা পাচ্ছে।’ প্রিয়াঙ্কা জানান, রোহিঙ্গা শিশুদের বার্মিজ, ইংলিশ ও গণিত শেখানো হচ্ছে। তিনি তাদের সহায়তায় সবাইকে এগিয়ে আহ্বান জানান।


কক্সবাজারে আসার পরই রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন ক্যাম্পে যান প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। তিনি হেঁটে হেঁটে এসব রোহিঙ্গার ঘর দেখেন। এমনকি যে পথ দিয়ে রোহিঙ্গারা প্রাণ নিয়ে পালিয়ে বাংলাদেশে আসে সেই পথও তিনি দেখতে যান। গত মঙ্গলবার হাঁড়িখালী এলাকায় যান। সেখান থেকে নাফ নদ ও মিয়ানমারের পাহাড় দেখা যায়।


গত বছর আগস্টের দিকে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতনের শিকার হয়ে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। কক্সবাজার ও উখিয়ার বিভিন্ন এলাকা দিয়ে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে প্রবেশ করে। সরকারি হিসাবে দেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গার সংখ্যা ৯ লাখেরও বেশি।


এমআর

Print