১২ লাখ কোটি টাকার বিকল্প বাজেট প্রস্তাবনা

স্টাফ রিপোর্টার
টাইম নিউজ বিডি,
২৭ মে, ২০১৮ ০০:৩১:৩৩
#

আসন্ন ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জন্য ১২ লাখ ১৬ হাজার ৪০০ কোটি টাকার বিকল্প বাজেট প্রস্তাবনা দিয়েছে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি। যা চলতি অর্থবছরের বাজেটের চেয়ে প্রায় তিনগুণ বড়।


শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশ বিনির্মাণে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির বাজেট প্রস্তাবনা ২০১৮-১৯’শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এ প্রস্তাব দেওয়া হয়।


প্রস্তাবনা তুলে ধরে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. আবুল বারকাত বলেন, আমাদের প্রস্তাবিত বাজেট যুক্তিসঙ্গত এবং দেশের অন্তর্নিহিত শক্তির বিচারে যৌক্তিক।


তিনি আরো বলেন, আমাদের প্রস্তাবিত বিকল্প বাজেটে বৈদেশিক ঋণের কোনো ভূমিকা থাকবে না। যার ৮১ শতাংশ বা ৯ লাখ ৯০ হাজার ৮২০ কোটি টাকার জোগান দেওয়া হবে রাজস্ব আয় থেকে।


রাজস্ব আয়ের প্রধান খাত সমূহ সম্পর্কে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এ শিক্ষক বলেন, খাতগুলো হবে আয় ও মুনাফার উপর কর, মূল্য সংযোজন কর, লভ্যাংশ ও মুনাফা, জরিমানা-দণ্ড, বাজেয়াপ্তকরণ, সম্পূরক কর, লভ্যাংশ ও মুনাফা, অর্থপাচার রোধ থেকে প্রাপ্তি, কর ব্যতীত অন্যান্য রাজস্ব ও প্রাপ্তি, কালো টাকা উদ্ধার থেকে প্রাপ্তি, সম্পদ কর, যান বহন কর, মাদক শুল্ক, ভূমি রাজস্ব থেকে।


প্রসঙ্গত, চলতি অর্থবছরের বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ২ লাখ ৮৭ হাজার ৯৯০ কোটি টাকা।


অর্থনীতি সমিতি এবারের বাজেটে বেশ কয়েকটি খাতে বরাদ্দ বাড়াতে বলছে। এর মধ্যে রয়েছে শিক্ষা ও প্রযুক্তিতে সবচেয়ে বেশি ব্যয়, এরপর বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, জনপ্রশাসন, পরিবহন ও যোগাযোগ, স্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তা ও কল্যাণ, কৃষি, স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন, জনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা, শিল্প ও অর্থনৈতিক সার্ভিস, গৃহায়ন।


সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক বারকাত বলেন, কেউ কেউ এটা উচ্চাকাঙ্খার বাজেট প্রস্তাব বলতে পারেন। আমাদের দেশে বিরোধী দলের কাজই হলো বাজেটের প্রস্তাবনার পর এটাকে ‘উচ্চাকাঙ্খার বাজেট’ও ‘গরিব মারার বাজেট’বলে থাকে।


এ অর্থনীতিবিদের মতে, দেশে এখন ৭০ থেকে ৮০ হাজার কোটি টাকার সমপরিমাণ অর্থপাচার হচ্ছে। বাজেটে এ সমস্যা সমাধানে পদ্ধতিগত নির্দেশনা থাকতে হবে। অর্থপাচার রোধ থেকে আগামী অর্থবছরে ৩০ হাজার কোটি টাকা আদায়ের প্রস্তাব করা হয়েছে বাজেট প্রস্তাবে।


অর্থনীতি সমিতি প্রস্তাবিত বাজেটের ১৯ শতাংশ বা ২ লাখ ২৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকার ঘাটতির ১ লাখ কোটি টাকা বা ৪৪ শতাংশ অর্থ সরকারি-বেসরকারি যৌথ অংশীদারিত্ব থেকে আনার পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে।


তারা বলছেন, বন্ড বাজার থেকে আসবে ঘাটতি বাজেটের ২১ শতাংশ বা ৪৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা। সঞ্চয়পত্র থেকে নেওয়া হবে ৬০ হাজার কোটি টাকা বা ২৭ শতাংশ এবং দেশীয় ব্যাংক ঋণ থেকে নেওয়া হবে ৯ শতাংশ বা ২০ হাজার কোটি টাকা।


সংবাদ সম্মেলনে সূচনা বক্তব্য রাখেন অর্থনীতি সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. জামালউদ্দিন আহমেদ।


এসএম

Print