কবি ফররুখ আহমদ জন্মশতবর্ষ উদযাপন

স্টাফ রিপোর্টার
টাইম নিউজ বিডি,
০৩ জুন, ২০১৮ ০২:১১:৩১
#

কালজয়ী কবি ফররুখ আহমদ (জন্ম ১০জুন ১৯১৮, মৃত্যু ১৯অক্টোবর ১৯৭৪) বাংলা সাহিত্যের এক অমর কবি-প্রতিভা। এ মহান কবির জন্মের একশত বছর পূর্ণ হচ্ছে এ বছরই। কবির জন্মশতবর্ষ উপলক্ষ্যে ২জুন ২০১৮খ্রি. রোজঃ শনিবার, রাজধানী ঢাকার বেইলি রোড গাইড হাউজ মিলনায়তনে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লোক-বিজ্ঞানী ড. আশরাফ সিদ্দিকী।


অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক মুস্তফা জামান আব্বাসী তার সভাপতিত্বে উক্ত সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন, সদস্য সচিব আব্দুল হান্নান, ড. মাহমুদ শাহ কোরেশী, অধ্যাপক মুহাম্মদ মতিউর রহমান, হাসনাত আব্দুল হাই, অধ্যাপক মোহাম্মদ আব্দুল গফুর, আজাদ রহমান, আলমগীর মহিউদ্দিন, প্রফেসর চেমন আরা, কবি আল মুজাহিদী, ড. মোহাম্মদ আব্দুল মজিদ, মিন্টু রহমান, প্রফেসর তুহিন মুখোপাধ্যায়, সেলিম আউয়াল, মাজহারুল হান্নান, অধ্যাপিকা গুলশান আরা প্রমূখ। আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন দেশের নবীন প্রবীণ কবি, লেখক ও শিক্ষাবিদগণ। অনুষ্ঠানে প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন কথা সাহিত্যিক মাহবুবুল হক।


জাতীয় মননের কবি ফররুখ আহমদকে নিয়ে এযাবত যত হীন ষড়যন্ত্র এবং বিমাতাসুলভ আচরণই করা হোক না কেন মৌলিক প্রতিভার অবিস্মরণীয় মহিমায় তিনি আজ বিশ্ব কাব্যসাহিত্যে এক অনন্য কবি হিসাবে স্বীকৃত। কবি ফররুখ আহমদের প্রতি সুধীমহলের দৃষ্টি নিবন্ধ হয়েছে এবং তার উপর চলছে প্রচুর আলোচনা ও গবেষণা। এক্ষেত্রে নতুন নতুন গবেষকদের মনোনিবেশ আমাদেরকে উৎসাহিত করছে। এভাবে কবি ফররুখ আহমদ আমাদের জাতীয় মননের অনিবার্য কবি হিসাবে সমাদৃত হচ্ছেন। ইতোমধ্যেই তার কাব্য-কবিতা বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত ও প্রকাশিত হচ্ছে। এ জন্য কবি ফররুখকে নিয়ে গবেষণা প্রতিষ্ঠান সমূহ প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে, এটা খুবই আশাব্যঞ্জক বিষয়।


সভাপতির ভাষণে মুস্তফা জামান আব্বাসী বলেন, ফররুখ আহমদ জাতীয় ঐতিহ্য ও মননকে ধারণ করে কাব্য-চর্চায় ব্রতী হন। তিনি একান্তভাবে স্বদেশ, স্বজাতি ও সমকালীনতাকে ধারণ করে স্বতন্ত্র ভাষা ও অসাধারণ শিল্প-নৈপুণ্যে বাংলা সাহিত্যে স্বাতন্ত্র্যিক উজ্জ্বল ধারা সৃষ্টি করেছেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পটভূমিতে সৃষ্ট মনান্তরে লাখ লাখ মানুষের দুর্দশাগ্রস্থ জীবন ও করুণ মৃত্যুর বিষয় নিয়ে তিনি অসাধারণ কবিতা লিখেছেন। তিনি বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী ছিলেন। একাধারে রোমান্টিক কাব্য, মহাকাব্য, সনেট, ব্যঙ্গকবিতা, শিশুসাহিত্য, কাব্যনাট্য, গীতিনাট্য, ব্যঙ্গনাট্য, ছোটগল্প, উপন্যাস ও প্রবন্ধ রচনা করেছেন। বিচিত্র ভাব-বিষয়, বৈশিষ্ট্যপূর্ণ ভাষা, আধুনিক শিল্প-কৌশল এবং সর্বশ্রেণির মানুষের উপযোগী কাব্য-কর্মের বিশাল ভান্ডার তিনি উপহার দিয়েছেন।


বক্তাগণ তাদের বক্তব্যে বলেন, ইসলামী রেঁনেসার কবি ফররুখ আহমদের বসতবাড়ি সরকারি ভাবে সংরক্ষণ করা হোক। সুনশান নীরবতা আর সৌন্দর্যের মাঝে ইসলামী রেঁনেসার কবি ফররুখ আহমদের কবিসত্তার নানা স্মৃতিচিহ্ন ধারণ করে আছে বাড়িটি। গ্রামীণ পরিবেশ আর সামনের গড়াই নদের নির্মল হাওয়া প্রাণ জুড়িয়ে দেয় দর্শনার্থীদের। মাগুরা শহর থেকে ১২ কি.মি. উত্তর-পূর্বে শ্রীপুর উপজেলার গড়াই নদীর পাড়ের মাঝআইল গ্রামের সৈয়দ বাড়িকে ঘিরে তাই পর্যটনকেন্দ্র গড়ার দাবি করছি। ফররুখ আহমদ জন্ম নেন ও দীর্ঘকাল বসত করেন বাড়িটিতে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বাড়িটির প্রবেশমুখে কবির পুরনো বসতঘর। এ ঘরে বসবাস করতেন তিনি। পাশেই উত্তর দিকের প্রবেশমুখের ডানদিকে কবির কবরস্থান। পেছনে কবির স্মৃতি সংসদের নির্মাণাধীন ভবন। সারা বাড়িজুড়ে কবির অশরীরি উপস্থিতি। সবখানেই যেন তিনি আছেন, আছে তার কালজয়ী কবিসত্তার প্রবল উপস্থিতিও।


আয়োজিত অনুষ্ঠানে কবি ফররুখ আহমেদ রচিত এবং তাঁকে নিবেদিত কবিতা গান নিয়ে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়, এতে দেশের বরেণ্য কবি, সাহিত্যিক ও শিল্পীবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।


সাইফুল ইসলাম মিঠু/এসএম

Print