ফেসবুক ব্যবহারকারীদের স্পর্শকাতর তথ্য ডিভাইস মেকারদের হাতে!

মো: কামরুজ্জামান
টাইম নিউজ বিডি,
০৪ জুন, ২০১৮ ২২:১৩:৫৩
#

পৃথিবীর সবচেয়ে প্রভাবশালী সামাজিক মিডিয়া হওয়ার লক্ষ্যে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ ফোন কম্পানিসহ অন্যান্য ডিভাইস প্রস্তুতকারীদের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিল। আর সেই চুক্তির বদৌলতে ওইসব ডিভাইস মাধ্যম ফেসবুক ব্যবহারকারীদের একান্ত ব্যক্তিগত তথ্যসহ যে কারো ফেসবুক একাউন্টের বিস্তারিত তথ্য ঘাটার সুযোপ পায়।


আমেরিকার প্রভাবশালী ইংরেজি দৈনিক দি নিউউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য ফাঁস করা হয়। স্থানীয় সময় রোববার (৩জুন) “Facebook Gave Device Makers Deep Access to Data on Users and Friends”- এই শীরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এমনটি দাবি করা হয়।


প্রতিবেদনে বলা হয়, ফেসবুক অন্তত ৬০টি ডিভাইস প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের সাথে তথ্য আদান-প্রদানের ব্যাপারে চুক্তিবদ্ধ হয়। এসব ডিভাইসের মধ্যে রয়েছে অ্যাপল, আমাজান, ব্লাকবেরি, মাইক্রোসফট ও স্যামসাংয়ের মতো বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলো।


স্মার্টফোনে ফেসবুক অ্যাপসের ব্যবহার ব্যাপকভাবে সহজলভ্য হওয়ার আগ পর্যন্ত বিগত এক দশকের বেশি সময় ধরে তথ্য আদান-প্রদানের নামে এভাবে ফেসবুক ব্যবহারকারীদের তথ্য অবাদে ডিভাইস ব্যবহারকারীরা ঘাটাঘাটি করেছে বলেও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে।


তথ্য আদান প্রদান সংক্রান্ত এসব চুক্তির ফলে ফেসবুকের ব্যাপক বিস্তৃতি ঘটেছে বলেও জানান কর্মকর্তারা। অপরদিকে, ডিভাইস মেকাররা মেসেজিং, লাইক ও অ্যাডড্রেস বকুসহ ফেসবুকের জনপ্রিয় বিভিন্ন ফিচারের ক্ষেত্রে নানা ধরনের অফার প্রদানের সুযোগ পায়।   


কিন্তু এই ধরনের শেয়ারিং বা অংশীদারিত্ব যা আগে থেকে ব্যবহারীদের জানানো হয়নি তা ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষার জন্য খুবই হুমকি হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে। তাছাড়া ২০১১ সালে আমেরিকার ওয়াশিংটনে ফেডারেল ট্রেড কমিশনকে দেয়া ফেসবুকের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নিয়মিত ব্যবহারকারীদের তথ্য সুরক্ষা সংক্রান্ত অডিট প্রতিবেদন দাখিলের বাধ্যবাধকতা রয়েছে ফেসবুক কর্তৃপক্ষের ওপর। কিন্তু বিগত বছরের পর পর এর কিছুই মানা হয়নি।


এমনকি এসব ডিভাইস প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে ফেসবুক তার ব্যবহারীদের আইডির গভীরে প্রবেশ করে তথ্য নাড়াচাড়া করার সুযোগ দিয়েছে। এমনকি একজন ফেসবুক ব্যবহারীর বন্ধুর আইডিতে প্রবেশ করে ব্যক্তিগত তথ্য দেখার সুযোগ পায় ওইসব প্রতিষ্ঠান। অথচ ফেসবুকের পক্ষ থেকে স্পষ্টতই প্রতিশ্রুতি ছিল যে কারো কোনো ব্যক্তিগত তথ্য বহিরাগতদের হস্তগত হবে না। কিন্তু ফেসবুক এই তথ্য ঘাটাঘাটিকে বহিরাগত প্রবেশাধিকার হিসেবে মানতেই নারাজ।


দি নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত দীর্ঘ প্রতিবেদনে এসব বিষয় উঠে এসেছে।  


উল্লেখ্য, এর আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণার সাথে যুক্ত ডেটা ফার্ম ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকা ব্যবহারকারীদের অনুমতি ছাড়া ৮ কোটি ৭০ লাখ মতান্তরে ৫ কোটি লোকের তথ্য ঘেঁটেছিল বলে গণমাধ্যমে তথ্য ফাঁস হয়ে যায়।


প্রকাশিত খবরে জানা যায়, ২০১৪ সালে একটি পারসোনালিটি কুইজের মাধ্যমে পাঁচ কোটি ফেইসবুক গ্রাহকের তথ্য হাতিয়ে ট্রাম্পের প্রচারণায় কাজে লাগিয়েছিল কেমব্রিজ অ্যানালিটিকা। এই ফেইসবুক গ্রাহকদের অধিকাংশই ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দা।


পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ৫ কোটি ফেসবুক ব্যবহারকারীর তথ্য কেলেংকারীর ঘটনায় নতুন করে নাম এসেছিল কানাডিয়ান এক কোম্পানির।


লন্ডনভিত্তিক রাজনৈতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান কেমব্রিজ অ্যানালিটিকা নামের পাশাপাশি কানাডিয়ান কোম্পানি অ্যাগ্রেগেটেল আইকিউয়ের নাম উঠে আসার ওই ঘটনা রীতিমতো ভাবিয়ে তোলে এই সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ব্যবহারকারীদের।


বিশ্লেষকরা ফেসবুকের এই ধরনের ভূমিকাকে ঘর তালাবদ্ধ করে মাল সুরক্ষার কথা বলে চোরের হাতে চাবি তুলে দেয়ার সাথে তুলনা করেছেন।


সবশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সারা বিশ্বে ২.১৯ বিলিয়ন বা ২১৯ কোটি ফেসবুকের একটিভ ব্যবহারকারী রয়েছে। অর্থাৎ- বিশ্বের মোটি জনগোষ্ঠীর প্রায় এক তৃতীয়াংশই ফেসবুক ব্যবহার করছে।

Print