অপহরণের ৫ দিনেও কলেজ শিক্ষার্থী সাগরের সন্ধান মেলেনি   | timenewsbd.com

অপহরণের ৫ দিনেও কলেজ শিক্ষার্থী সাগরের সন্ধান মেলেনি  

নোয়াখালী করেসপন্ডেন্ট
টাইম নিউজ বিডি,
১২ জুন, ২০১৮ ১৯:৫৯:৪৯
#

নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলা থেকে কলেজশিক্ষার্থী কামরুল ইসলাম সাগর অপহরণের ৫ দিনেও কোন সন্ধান করতে পারেনি পুলিশ। এই ঘটনায় পরিবারে বইছে উদ্বেগ-উৎকন্ঠা ও কান্নার রোল।


অপহরনের ঘটনায় নিখোঁজের বড় ভাই নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে শনিবার (০৯ জুন) রাত সাড়ে ১০ টার সময় ৫ জনকে আসামীকরে চরজব্বর থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করে।


অপহরণের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ মিঠুন চন্দ্র দাশ (২৪), মমতাজ (২০) ও হাসিনা আক্তার (৪০) কে আটক করেছে। আটককৃতদের মধ্যে ২ নারীকে গতকাল (সোমবার) দুপুরে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করেছে।


থানায় দায়ের করা মামলার সূত্রে জানা যায়, সুবর্ণচর উপজেলা রচরবাটা ইউনিয়নের মধ্য চরবাটা গ্রামের নূর ইসলাম ফরেষ্টার এর ছেলে কামরুল ইসলাম সাগর (২০) এর সঙ্গে একই এলাকার রহমতউল্যাহর মেয়ে স্থানীয় খাসেরহাট সৈকত ডিগ্রি কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী মমতাজ বেগমের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি জানাজানি হলে ছাত্রীটির পিতা কামরুল ও তার পরিবারের ওপর ক্ষিপ্ত ও প্রতিশোধ পরায়ণ হয়ে উঠে এবং বিভিন্ন সময় কামরুল কে মারধর করে।  গত শুক্রবার রাত ১০ টার সময় রহমতউল্যাহর ভাড়াটিয়া মাস্তান স্থানীয় মনোরঞ্জন দাসের ছেলে মিঠুন চন্দ্র দাসের সঙ্গে সাগরের তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। শুক্রবার রাতে সাগর তার নিজ শয়নকক্ষে ঘুমিয়ে পড়েছিল।


পাশের ঘরে থাকা তার বড় ভাই নজরুল ইসলাম শিমুল বলেন, রাত আনুমানিক ১২টার পর সাগরের মুঠোফোনে কে বা কারা কলকরে তাকেবাড়ির আঙ্গিনায় ডেকে নেয়। এর পর রাতে সে আর বাড়ি ফেরেনি। সাগর চলতি বছর স্থানীয় চরবাটা খাসেরহাট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশ করে সুবর্ণচর সৈকত ডিগ্রি কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেনিতে ভর্তির জন্য আবেদন করেছিল। পরিবারের লোকজন তাকে রাতে ও সকালে সম্ভাব্য সকল জায়গায় খোজকরেও তার সন্ধান পায়নি। তার ব্যবহৃত ২টি মুঠোফোন ও বন্ধ রয়েছে।


নজরুল ইসলাম বলেন, রহমতউল্যা তার ভাড়াটিয়া মাস্তান মিঠুন চন্দ্র দাশসহ একদল লোক তার ভাইকে অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। এরপর শুক্রবার রাত ও শনিবার সারাদিন সম্ভাব্য সকল স্থানে কামরুল ইসলাম সাগরকে খোঁজা খুঁজি করেও তার কোন সন্ধান পাননি।


এ ঘটনায় তিনি শনিবার রাতে চরজব্বর থানায় রহমতউল্যাকে ১ ম, মিঠুন চন্দ্র দাসকে ২য়, কলেজ ছাত্রী মমতাজকে ৩য় ও তার মা হাসিনা আক্তার এবং ছাত্রীটির ভাই দেলোয়ার হোসেন কিসমতকে আসামী করে চরজব্বর থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর স্থানীয় থানাপুলিশ আসামীদের গ্রেফতারে গড়িমসি করে।


গত রোববার সকালে মামলার আসামী মিঠুন্ চন্দ্র দাসের শয়ন কক্ষে রক্তমাখা একটিপ্যান্ট ও ১টি লুঙ্গি পাওয়া যায়।


খবর পেয়ে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) এ কে এম জহিরুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে রক্তমাখা কাপড় চোপড় জব্দ করে থানায় নিয়ে আসে।


অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নির্দেশে চরজব্বর থানা পুলিশ ও ডিবি কামরুলের প্রেমিকা কলেজ ছাত্রী মমতাজ ও তার মা হাসিনা আক্তারকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসে।  মমতাজের বাবা রহমতউল্যা শনিবার থেকে পলাতক রয়েছে।


এর আগে শনিবার সকালে রহমতউল্যার ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী মিঠুনকে পুলিশ আটক করলেও গতকাল সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত তাকে কোর্টে প্রেরণ করেনি।


সাগরের বড় ভাই নজরুল বলেন, সাগরের সাথে মমতাজের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠার পর মমতাজের বাবা রহমতউল্যা কামরুলকে একাধিকবার মারধরকরে এবং এক পর্যায়ে তাকে হত্যা করে লাশ গুমেরও হুমকি দিয়েছিল।


নজরুলের দাবি, রহমতউল্যা ও তার ভাড়াটিয়া মাস্তান সাগরকে অপহরণ শেষে হত্যা করে লাশ গুম করেছে। তিনি দ্রুত রহমতউল্যার গ্রেফতার দাবী করেছেন।


এদিকে সাগর নিখোঁজের পর থেকে তার পরিবারে উদ্বেগ উৎকন্ঠা বেড়েইচলছে। ছেলের জন্য মা জান্নাতুর নূর নাওয়া খাওয়া ছেড়ে শুধুই কান্না করছেন। তার ছেলেকে দ্রুত খুজে বেরকরার দাবি জানিয়েছেন আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর প্রতি।


জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ কে এম জহিরুল ইসলাম বলেন, নিখোঁজ শিক্ষার্থীর পরিবারের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে পুলিশ কাজ করছে।


কেবি/এমবি     

Print