পাহাড় ধস: রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অচলাবস্থা | timenewsbd.com

পাহাড় ধস: রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অচলাবস্থা

উখিয়া করেসপন্ডেন্ট
টাইম নিউজ বিডি,
১৪ জুন, ২০১৮ ০৩:১৮:২১
#

ভারি বর্ষণের কারণে গত ৫ দিন ধরে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায়। পানির নিচে তলিয়ে গেছে বালুখালী ক্যাম্প এলাকার সমতলের রোহিঙ্গা ঝুপড়িসহ চার শতাধিক পরিবার।  


আজ (বুধবার) সকাল ১১ টার দিকে উখিয়া উপজেলার পালংখালী শফিউল্লাহ কাটা নামক রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড় ধসে ৪ রোহিঙ্গা গুরুতর আহত হয়েছে। স্থানীয়রা উদ্ধার করে আহতদের এমএসএফ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।  


পাহাড় ধ্বসের ঘটনায় আহতরা হলেন- ডি ব্লকের বাসিন্দা আলী আজগরের স্ত্রীমরিয়ম খাতুন (৪৫), মো. ইব্রাহীমের স্ত্রী সমুদা খাতুন, মো. শাকের আলমের স্ত্রীরোকেয়া (২৫) ও তাঁর ৩ বছরের শিশু উম্মে হাবিবা।


স্থানিয় ডিব্লকের মাঝি জয়নাল আবেদীন জানান, পাহাড়ের পাদস্থলে থাকা দুইটি রোহিঙ্গা পরিবারের উপর বড় একটি পাহাড়েরর অংশ ধসে পড়ে ৪ জন আহত হয়েছে। হ্যাড মাঝি নুরুল কবির জানান, সকাল ১১ টার দিকে পাহাড়টি ধসে পড়ে ৪ জন আহত হয়েছে। তাদেরকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি বলেন, যদি টানা বৃষ্টি না থামে তাহলে আরও পাহাড় ধসে পড়তে পারে।  



খবর পেয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্স ও এনজিও কর্মীরা দ্রুত এসে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করে।   


পাহাড় ধসে বিধ্বস্ত হয়েছে ৪ শতাধিক ঝুপড়ি ঘর। সোমবার পাহাড় ধসে এক শিশুর মৃত্যুও হয়েছে, আহত হয়েছে তিন শতাধিক। ক্যাম্প এলাকার অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় ৪৮ ঘণ্টা যোগাযোগ বন্ধ ঘোষণা করেছে স্থানীয় প্রশাসন।



স্থানীয়রা জানিয়েছেন, অনিয়ন্ত্রিত পাহাড় কাটার কারণে পরিস্থিতি বিরূপ আকার ধারণ করেছে। কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের জি ব্লক, জি-সেভেন ব্লক,বালুখালী ক্যাম্প, থাইংখালির ১৩ নম্বর ব্লকসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় ভূমিধস হয়েছে।  


বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের কারণে গত কয়েকদিন ধরে ঝড়ো হাওয়া আর টানা বৃষ্টিপাত হচ্ছে কক্সবাজারে। ক্যাম্পে থাকা রোহিঙ্গারা জানান, যারা পাহাড়ের ওপরে ঘর বেঁধেছিলেন তারা জখম হয়েছেন, যারা পাহাড়ের নিচে ঘর বানিয়েছেন তারা এখন বন্যার কবলে পড়েছেন। ৭০ কিলোমিটার গতির বাতাসের সঙ্গে ভারি বর্ষণের কারণে পাহাড় ধসের কবলে পড়েছেন তিন সহস্রাধিক মানুষ। গত শনিবার থেকে কক্সবাজার অঞ্চলে ৪০০ মিলিমিটারেরও বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।


টানা এ বর্ষণের কবলেই দিনযাপন করছেন রোহিঙ্গা শিবিরগুলোর ১০ লক্ষাধিক আশ্রিত রোহিঙ্গা। এদিকে কুতুপালং ক্যাম্পে পাহাড় ধসের ঘটনায় নিহত আড়াই বছরের শিশু ফারুকের পিতা কুতুপালং ক্যাম্পে বসবাসকারী মো. শুক্কুর জানান, ভোর রাতে হঠাৎ করে তার বাড়িটি ধসে পড়লে স্ত্রীকে নিয়ে কোনো রকম একটি গাছের খুঁটি ধরে রক্ষা পেলেও ফারুকে রক্ষা করা যায়নি।


বালুখালী ২ নম্বর ক্যাম্পের আবু তাহের মাঝি জানান, এই ক্যাম্পের অধিকাংশ ঘর পাহাড় কেটে তৈরি করা হয়েছে। যা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। প্রশাসন ক্যাম্পের ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার কথা বললেও তা হয়নি। পাহাড়ের খাদে ও ওপরে বসবাসরত বালুখালী-২ নম্বর ক্যাম্পের প্রায় ২৩০টি ঘর, তাজনিমার খোলা ক্যাম্পে ৪০টি, বালুখালী-১ নম্বর ক্যাম্পে ৬০, কুতুপালং ক্যাম্পে ৭০টি ঘরসহ মোট চার শতাধিক ঘর ধসে পড়েছে।  


উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নিকারুজ্জামান চৌধুরী জানান, তিনি ক্যাম্প পরিদর্শনকালে বেশ কিছু ধসে পড়া ঘর দেখেছেন। স্থানীয় যোগাযোগের রাস্তাগুলো ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। তাই জরুরি যোগাযোগ ছাড়া কোনো মানুষ বা যান চলাচল যেন না হয় সেজন্য সোমবার সকাল থেকে মঙ্গলবার (১২ জুন) সন্ধ্যা পর্যন্ত ক্যাম্প এলাকা বন্ধ ঘোষণা করা হয়।


এমবি 

Print