ফুটবল নিয়ে যত সিনেমা

বিনোদন ডেস্ক
টাইম নিউজ বিডি,
২০ জুন, ২০১৮ ০২:৩৪:০২
#

বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় একটি খেলা হলো ফুটবল। সারা বিশ্ব জুড়েই চলছে ফুটবল বিশ্বকাপের জোয়ার। আনন্দে মেতেছে মানুষ। মূল কথা সেই বিষয় নিয়ে নয়। সিনেমা নিয়ে। ক্রিকেট , দৌড়, এমন অনেক খেলা নিয়ে সিনেমা নির্মাণ হয়েছে । ফুটবল নিয়েও সিনেমা নির্মাণ হয়েছে। সিনেমায় ফুটবল এসেছে। কি কি সিনেমা? একটু খুঁজে দেখা যেতে পারে ফুটবল নিয়ে নির্মিত সিনেমাগুলো।


১৯৩৯ সালে ‘দ্য আর্সেনাল স্টেডিয়াম মিস্ট্র’নামে একটি সিনেমা মুক্তি পায়। ফুটবল নিয়ে নির্মিত প্রথম দিকের সিনেমা হিসেবে এই সিনেমাটি এখনো ইতিহাস হয়ে আছে। আর্সেনাল স্টেডিয়ামে ঘটে যাওয়া এক খুনের ঘটনা নিয়ে নির্মাণ হয়েছিল এটি। ছবিতে আর্সেনালের ফুটবলার ও স্টাফ ক্লিফ বেস্টিন, এডি হেপগুড অভিনয় করেন।


বাংলা সিনেমায় ফুটবল


খিজির হায়াত খান ২০১০ সালে মুক্তি দিয়েছিলেন ‘জাগো’নামের একটি সিনেমা। এই সিনেমায় অভিনয় করেছিলেন আরিফিন শুভ। সিনেমাটির একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল ফুটবল। ফুটবল নিয়ে বাংলাদেশের একমাত্র এটি। ফুটবলকে কেন্দ্র করে কলকাতায় নির্মিত হয়েছে বাংলা সিনেমা। কলকাতার সিনেমা ‘এগারো’। অরুণ রায় পরিচালিত ছবিটি ১৯১১ সালের ব্রিটিশ শাষিত ভারতে মোহন বাগান ও ব্রিটিশ আর্মির ইয়র্কশায়ার রেজিমেন্টের মধ্যকার ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে নির্মিত হয়েছে।


এছাড়া ফুটবল ম্যানেজারের জীবন নিয়ে নির্মিত সিনেমা ‘এ শট অ্যাট গ্লোরি’সিনেমাটি মুক্তি পায় ২০০০ সালে। ডেভিড বেকহ্যাম তখন সুপার ফর্মে। তখনই ভারতীয় বংশোদ্ভূত পরিচালক গুরিন্দর চাঁদা নির্মাণ করলেন ‘বেন্ড ইট লাইক বেকহ্যাম’। গ্রেগরিস গার্ল (১৯৮১) ফুটবল নিয়ে ব্রিটিশ রোমান্টিক কমেডি আছে অনেকেরই পছন্দের তালিকায়। ফুটবল নিয়ে দেখার মতো সিনেমাগুলোর মধ্যে আরও আছে হংকংয়ের অ্যাকশন কমেডি ছবি শাওলিন সকার, রুডো এন্ড কার্সি (২০০৮), ড্যামনেড ইউনাইটেড, হোয়েন স্যাটারদে কামস, মিন মেশিন, গ্রেসি ছবিগুলো।


বলিউডে ফুটবল


বলিউড সিনেমায় ফুটবল নেই তেমন। কিছু কিছু সিনেমায় ফুটবলের দৃশ্য দেখানো হয়েছে। যেমন ‘কাভি আলভিদা না কেহনা’য় শাহরুখের দৃশ্য। সেক্ষেত্রে ‘ধান ধানা ধান গোল গোল’ছবিটাকে পূর্নমাত্রার সিনেমা বলা চলে। ‘সিকান্দার’ছবিরও অনেকটা জুড়ে ছিল ফুটবল।


ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিনেমা-


ফুটবল খেলার গল্পকে আশ্রয় করে নির্মিত বিশ্ববিখ্যাত সিনেমাগুলোর না বলতে গেলে আসবে ‘দ্য কাপ’, ‘দ্য মিরাকেল অব বার্ন’, ‘দ্য গেমস অব দেয়ার লাইভস’, ‘দ্য গেমস অব দেয়ার লাইভস’ও ‘দ্য টু এসকোবারস’ছবিগুলোর নাম। এই পাঁচ সিনেমার টুকিটাকি জেনে নেওয়া যেতে পারে।


বিশ্বকাপ ফুটবলকে কেন্দ্র করে নির্মিত ‘দ্য কাপ’সিনেমাটি আলোচিত হয় ১৯৯৯ সালে। তিব্বতের ফুটবলপ্রেমী দুই খুদে সন্ন্যাসী ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখার জন্য টেলিভিশন সংগ্রহ করতে নামে। গল্প নিয়ে নির্মিত সিনেমাটি ১৯৯৯ সালে ভুটানে মুক্তি পায়।


বিশ্বকাপ ফাইনালে শক্তিশালী হাঙ্গেরির বিরুদ্ধে অপ্রত্যাশিতভাবে পশ্চিম জার্মানির জয়ের গল্প নিয়ে নির্মাণ হয়েছে ‘দ্য মিরাকেল অব বার্ন’ছবিটি। ১৯৫৪ সালের ফিফা ওয়াল্ড কাপের গল্প আবর্তিত হয়েছে এই ছবিতে। ছবিটি মুক্তি পেয়েছে ২০০৩ সালে। ছবিটির নির্মাতা সোনকে ওয়াটম্যান।


১৯৫০-এর বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডকে আমেরিকার অপ্রত্যাশিতভাবে ১-০ গোলে হারানোর ঘটনা নিয়ে নির্মাণ করা ‘দ্য গেমস অব দেয়ার লাইভস’ছবিটি। মঙ্গোলিয়ার প্রত্যন্ত এলাকার তিন সাহসী লোকের গল্প ‘দ্য গেমস অব দেয়ার লাইভস’। ফুটবল যে মহাদেশ, ধর্ম, গোত্র সবকিছু ছাপিয়ে যেতে পারে। সেটা উঠে আসে এ ছবিতে। ‘দ্য গেমস অব দেয়ার লাইভস’ছবিটি মুক্তি পায় ২০০৫ সালে।ছবিটি আন্তর্জাতিকভাবেও বেশ সমাদৃত হয়।


‘দ্য টু এসকোবারস’ফুটবল নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি সিনেমা। ২০১০ সালে মুক্তি পায় ছবিটি। ছবিতে লাতিন আমেরিকার দেশ কলম্বিয়ার কুখ্যাত এক দুর্নীতিবাজ পাবলো এসকোবার ও ফুটবলার আন্দ্রে এসকোবারের কাহিনি তুলে ধরা হয়েছে। ছবিটি মুক্তি পায় ২০০৬ সালে। ইরানি পরিচালক জাফর পানাহির ছবিটি বেশকিছু পুরস্কারও পায়।


ফুটবল নিয়ে সর্বকালের সেরা সিনেমার তালিকায় রাখা হয় ‘এসকেপ টু ভিক্টরি’ছবিটাকে। জন হস্টনের পরিচালনায় ছবিটি মুক্তি পায় ১৯৮১ সালে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার এক গল্প নিয়ে নির্মিত এই সিনেমায় অভিনয় করেছেন সিলভেস্টার স্ট্যালোন, আরও আছেন কিংবদন্তি ফুটবলার পেলে এবং ববি মুরও।


২০০৫ সালে মুক্তি পাওয়া ‘গ্রিন স্ট্রিট হুলিয়ান’মুভিটি আছে এরপরই। ১০৯ মিনিটের সেই সিনেমায় ফুটবল হুলিগানদের নির্মমতার ব্যাপারটাও উঠে এসেছে।


২০০৫ সালে মুক্তি পেয়েছিল সিনেমা ‘গোল! দ্য ড্রিমস বিগেইনস’। অখ্যাত এক ক্লাবের এক ফুটবলারের তারকা হয়ে ওঠার গল্প নিয়ে সিনেমাটি। এর সিক্যুয়েল ও প্রিকুয়েলও নির্মাণ হয়েছে। তারকা ফুটবলারদের সমাগম ছিল সিক্যুয়েলে।


সর্বকালের সেরা ফুটবলার পেলেকে নিয়ে ২০১৬ সালে হলিউডে নির্মিত হয় ছবি ‘পেলে-বার্থ অফ অ্যা লিজেন্ড’। ছবিটি দেখলে পেলের বেড়ে ওঠার পুরো ব্যাপারটা ভালো করে বোঝা যাবে।


এছাড়াও মদের নেশায় আসক্ত সাবেক এক ফুটবলারের জীবনের গল্প নিয়ে নির্মিত হয়েছে ‘ইয়েস্টারডেস হিরো’। ১৯৭৯ সালে মুক্তি পাওয়া ছবিটি মন ছুঁয়েছে অনেকেরই।


এসএম

Print