আর্জেন্টিনার বাঁচা-মরার লড়াই 

স্টাফ রিপোর্টার
টাইম নিউজ বিডি,
২৬ জুন, ২০১৮ ১১:০৩:২৪
#

চাপ, চ্যালেঞ্জ, পরীক্ষা-শব্দগুলো তার যাপিত জীবনেরই অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে গেছে। নিজের চিকিৎসার খরচ জোগাতে সেই শৈশবে পরিবার-পরিজন, জন্মভূমি ছেড়ে পাড়ি জমাতে হয়েছিল স্পেনের বার্সেলোনায়। কাঁটা ছড়ানো বন্ধুর পথে হেঁটে লিওনেলের আজকের মেসি হয়ে ওঠার বাকি গল্পটা সবারই জানা।


গত রোববার জীবনের বিষণ্ণতম জন্মদিনে সতীর্থদের মুখে চাপের কথা শুনে নাকি মুচকি হেসেছিলেন আর্জেন্টিনার দুঃখী রাজপুত্র। মনে মনে হয়তো বলেছিলেন, এ আর নতুন কী!


প্রত্যাশার চাপ বা সমালোচকদের ভুল প্রমাণের চ্যালেঞ্জ মেসির জন্য আসলেই নতুন কিছু নয়। তবে এবার যে পরিস্থিতিতে নিজেকে নতুন করে প্রমাণের চ্যালেঞ্জ তাকে নিতে হচ্ছে, সেটা নিঃসন্দেহে তার মহামহিম ক্যারিয়ারের কঠিনতম পরীক্ষা।


শুধু মেসি নন, আর্জেন্টিনার জন্যও এ এক অগ্নিপরীক্ষা। বিশ্বকাপে টিকে থাকতে গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচটি তাদের জন্য অলিখিত ফাইনালে রূপ নিয়েছে।


বাংলাদেশ সময় আজ রাত ১২টায় সেন্ট পিটার্সবার্গে সেই বাঁচা-মরার ম্যাচে নাইজেরিয়ার মুখোমুখি হবে দু’বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।


গত বিশ্বকাপের ফাইনালের চেয়েও আজ বেশি চাপে থাকবেন মেসিরা। এ যে মহাফাইনাল! আসল ফাইনালে শুধু নিজেদের নিয়ে ভাবলেই চলে। ৯০ মিনিটে সমতা ধরে রাখতে পারলে জেতার জন্য অতিরিক্ত ৩০ মিনিট সময় পাওয়া যায়। থাকে টাইব্রেকারে ভাগ্য পরীক্ষার সুযোগ। কিন্তু আজ যা করার ৯০ মিনিটেই করতে হবে।


শুধু জিতলেই হবে না, একই সময়ে শুরু হওয়া গ্রুপের অন্য ম্যাচে আইসল্যান্ড যেন ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে জয় না পায়, সে আশাও করতে হবে।


দুটি সমীকরণ মিললেই শুধু নকআউট পর্বের টিকিট পাবেন মেসিরা। না হলে গ্রুপপর্বেই শেষ আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ! টানা দুই জয়ে ডি-গ্রুপ থেকে এরই মধ্যে শেষ ষোলোতে চলে গেছে ক্রোয়েশিয়া। বাকি একটি জায়গার জন্য চলছে ত্রিমুখী লড়াই।


তিন পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের দ্বিতীয় স্থানে থাকা নাইজেরিয়ার জন্য সমীকরণটা সবচেয়ে সহজ। আর্জেন্টিনাকে হারাতে পারলে কোনো হিসাব ছাড়া সরাসরি দ্বিতীয় রাউন্ডে চলে যাবে সুপার ঈগলরা।


ড্র করলেও তাদের ভালো সুযোগ থাকবে। কিন্তু সমান এক পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের তলানিতে থাকা আর্জেন্টিনা ও আইসল্যান্ডের সামনে জয়ের কোনো বিকল্প নেই।


দু’দলই জিতলে তাদের পয়েন্ট হয়ে যাবে সমান চার। সেক্ষেত্রে প্রথমে দেখা হবে গোল-পার্থক্যে কারা এগিয়ে। আপাতত আর্জেন্টিনার চেয়ে এক গোলে এগিয়ে আছে আইসল্যান্ড।


আজকের ম্যাচের পর গোল ব্যবধান সমান হয়ে গেলে যাদের বেশি গোল থাকবে তারা পাবে শেষ ষোলোর টিকিট। সেখানেও সমতা থাকলে ফেয়ার প্লের হিসাব হয়ে উঠবে ভাগ্য নির্ধারক।


অর্থাৎ যারা কার্ড বেশি দেখবে তাদের কপাল পুড়বে। ফেয়ার প্লেতেও নিষ্পত্তি না হলে শেষ ভরসা টস। তবে প্রথম শর্ত হল আর্জেন্টিনাকে জিততে হবে। আর বড় ব্যবধানে জিতলে কোনো হিসাব-নিকাশের দরকার হবে না। যদিও আসল চ্যালেঞ্জটা এখানেই।


বিশ্বকাপে প্রথম খেলতে আসা পুঁচকে আইসল্যান্ডের সঙ্গে হতাশার ড্রর পর ক্রোয়েশিয়ার কাছে ৩-০ গোলে বিধ্বস্ত হওয়া ম্যাচে যে হরর শো দেখিয়েছে আর্জেন্টিনা, তাতে মেসিদের পক্ষে আজ বাজি ধরার আগে যে কেউ দু’বার ভাববেন।


বাকি সব বড় তারকারা যেখানে গোলের বন্যা বইয়ে দিচ্ছেন, সেখানে দুই ম্যাচে মেসির অবদান একটি পেনাল্টি মিস ও বিস্মরণযোগ্য পারফরম্যান্স! অধিনায়কের মতো গোটা দলই নিজেদের হারিয়ে খুঁজছে।


বিশ্বের অন্যতম সেরা আক্রমণভাগ নিয়ে দুই ম্যাচে মোটে একটি গোল করতে পেরেছে আর্জেন্টিনা। এমন বিপর্যয়ের জন্য কোচ হোর্হে সাম্পাওলির সঙ্গে দলের সিনিয়র খেলোয়াড়দের দ্বন্দ্বের খবর সামনে আসছে।


যদিও তা অস্বীকার করেছে আর্জেন্টিনা শিবির। তবে সাম্পাওলির ভুল কৌশল ও প্রশ্নবিদ্ধ একাদশ নির্বাচন নিয়ে সবাই একমত।


ঘোর দুঃসময়ে এ নিয়ে আর জল ঘোলা না করে মেসিরা এখন ঐক্যবদ্ধ হয়ে অগ্নিপরীক্ষায় উতরাতে মরিয়া। বিশ্বকাপে দু’দলের আগের চার দেখায় প্রতিবারই নাইজেরিয়াকে হারিয়েছে আর্জেন্টিনা। তবে এবারের আসরে পারফরম্যান্সের বিচারে নাইজেরিয়াই এগিয়ে।


আগের ম্যাচে আইসল্যান্ডের বিপক্ষে জোড়া গোল করে আর্জেন্টিনাকে জীবন দিয়েছিলেন নাইজেরিয়ার আহদেম মুসা। সেই মুসাই আজ কাঁদাতে চান মেসিদের, ‘আর্জেন্টিনার বিপক্ষে গোল করা আমার জন্য কঠিন কিছু নয়। এটা আমাদের জন্য বাঁচা-মরার ম্যাচ। আমরা জিতেই দ্বিতীয় রাউন্ডে যেতে চাই।’


মুসার হুঙ্কার শোনার পর মেসিও জানিয়ে দিয়েছেন বিশ্বকাপ না জিতে অবসর নেবেন না তিনি। বাছাইপর্বের শেষ ম্যাচে ইকুয়েডরের বিপক্ষে মহাকাব্যিক হ্যাটট্রিকে দলকে বিশ্বকাপের টিকিট এনে দিয়েছিলেন যিনি, বিশ্বকাপে টিকে থাকতে আজ সেই মেসিকেই দরকার আর্জেন্টিনার। (যুগান্তর)


কেবি

Print