ফেরদৌসী রহমানের জন্মদিন আজ

টাইম ডেস্ক
টাইম নিউজ বিডি,
২৮ জুন, ২০১৮ ১৭:০১:৪৪
#

বাংলা গানের পাখি যদি বলা হয় তখন নিঃসন্দেহে ফেরদৌসী রহমানের কথা আগে আসবে। ৩০ বা ৪০ বছর আগে তিনি যেমনটি ছিলেন, কণ্ঠে বা চেহারায়, এখনো তিনি তেমনই আছেন। অন্যদিকে এই শিল্পীর পিতা প্রখ্যাত লোকসংগীত শিল্পী আব্বাস উদ্দিন, যাঁর প্রতি শ্রোতাদের মুগ্ধতা অফুরান। সেই মুগ্ধতা ফেরদৌসী রহমানের ক্ষেত্রেও। তার আজ জন্মদিন। ১৯৪১ সালে এই দিনে তিনি ভারতের কুচবিহারে জন্মগ্রহণ করেন।


সংগীত-পরিবারের সদস্য হিসেবে তিনি তালিম নিতে শুরু করেন একদম ছোটবেলা থেকে। প্রথম সংগীতগুরু তাঁরই পিতা আব্বাস উদ্দিন। পরবর্তী সময়ে ওস্তাদ মোহাম্মদ হোসেন খসরু, ইউসুফ খান কোরেইশী, কাদের জামেরী, গুল মোহাম্মদ খান, নাজাকাত আলী খান ও সলামাত আলী খান প্রমুখ নামজাদা ওস্তাদরা ছিলেন তাঁর গুরু। রেডিওতে ‘খেলাঘর’ নামের একটা অনুষ্ঠানে যখন গান করেন, তখন বয়স ছিল মাত্র ৭ বছর, সেটা ১৯৪৮ সালের ঘটনা। তখন তিনি রবীন্দ্রসংগীত গাইতেন। এরপর ১৯৫৬ সালে প্রথমবারের মতো বড়দের অনুষ্ঠানে গান করেন। ১৯৫৭ সালে প্রথম গান রেকর্ড করেন এইচএমভি করাচি থেকে।


এখানেই শেষ নয়, খুব অল্প বয়সেই তার আরো উল্লেখ করার মতো অর্জন রয়েছে। সিনেমায় প্রথম প্লে-ব্যাক করার সময় তার বয়স ১৮। ‘আসিয়া’ নামে চলচ্চিত্রে তিনি প্লে-ব্যাক করেন ১৯৫৯ সালে, আর তা মুক্তি পায় ১৯৬০-এ। এই ছবি মুক্তির আগে অবশ্য মুক্তি পায় ‘এ দেশ তোমার আমার’ ছবিটি, যেখানে তিনি গান করেন। ফলে এটাকেই তার প্রথম চলচ্চিত্র বলা যায়। গেয়েছেন বাংলা এবং উর্দু অনেক জনপ্রিয় সিনেমায়, তার গানও তেমন জনপ্রিয় হয়েছে। ‘যে জন প্রেমের ভাব জানে না’, ‘যার ছায়া পড়েছে মনের আয়নাতে’, ‘প্রাণ সখিরে, ঐ শোন কদম্বতলে বংশী বাজায় কে’, ‘পদ্মার ঢেউরে মোর শূন্য হূদয় পদ্মা নিয়ে যা যারে’—এরকম অসংখ্য জনপ্রিয় গান রয়েছে তার। প্রথম প্লে-ব্যাক গাওয়ার এক বছর পর আরো একটি বিশেষ যোগ্যতা দেখান তিনি। ১৯৬০ সালে রবীন ঘোষের সঙ্গে সংগীত পরিচালনা করেন ‘রাজধানীর বুকে’ নামক চলচ্চিত্রে। এর মাধ্যমে তিনি বাংলা চলচ্চিত্রের প্রথম নারী সংগীতপরিচালক হিসেবে অভিষিক্ত হন।


’৬০ ও ’৭০-এর দশকের অনেক চলচ্চিত্রের গানে কণ্ঠ দিয়েছেন ফেরদৌসী রহমান। তাঁর চলচ্চিত্রে গাওয়া গানের পরিমাণ ২৫০-এর অধিক। বাংলা ছাড়াও উর্দু, ফারসি, আরবি, চীনা, রুশ, জার্মানসহ আরো কিছু ভাষায় গান গেয়েছেন। ২০টির মতো অ্যালবাম রয়েছে ফেরদৌসী রহমানের। তাঁর রেকর্ডকৃত গানের পরিমাণ ৫ হাজারের অধিক। বিচিত্র ঘরানার গানে কণ্ঠ দিয়ে সংগীতে তাঁর অনন্য দক্ষতাও দেখিয়ে যাচ্ছেন জীবনভর। তিনি একইসঙ্গে কাজ করেছেন উচ্চাঙ্গ সংগীত, পল্লীগীতি, রবীন্দ্রসংগীত, নজরুলসংগীত, আধুনিক, গজল—এরকম বিচিত্র ধারায়।


শিক্ষাজীবন
কৃতী ছাত্রী ছিলেন। পড়তেন সেন্ট ফ্রান্সিস জেভিয়ার্স কনভেন্ট স্কুলে। স্কুলে সব সময় থাকতেন এক থেকে তিনের মধ্যে। ১৯৫৬ সালে মাধ্যমিক পরীক্ষায় বাংলাবাজার গভঃ স্কুল থেকে ছেলে-মেয়ে উভয়ের মধ্যে সপ্তম এবং মেয়েদের মধ্যে প্রথম হয়ে গোল্ড মেডেল অর্জন করেন । উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায়ও একইরকম কৃতিত্ব দেখান। ১৯৫৮ সালে উচ্চ-মাধ্যমিক পরীক্ষায় ছেলে-মেয়ে উভয়ের মধ্যে ১২তম স্থান অর্জন করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজ বিজ্ঞানে যথাক্রমে ১৯৬১ ও ’৬২ সালে গ্রাজুয়েট ও পোস্ট গ্রাজুয়েট ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৬৩ সালে সংগীতে ইউনেস্কো থেকে একটি ফেলোশিপ পান। এই ফেলোশিপে ছয় মাসের কোর্সে ট্রিনিটি কলেজ অব মিউজিক লন্ডনে পড়তে যান।


পরিবার
বাবা বিখ্যাত শিল্পী ছিলেন, সেটা আগে বলা হয়েছে। তার দু’ভাই এবং তিনি অর্থাৎ তিন ভাই-বোনই খ্যাতিমান। পরববর্তী সময়ে বিচারপতি মোস্তফা কামাল হয়েছিলেন বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি। আরেক ভাই কণ্ঠশিল্পী ও গবেষক মোস্তফা জামান আব্বাসী।


তিনি বিয়ে করেন ১৯৬৬ সালে, স্বামী রেজাউর রহমান মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার। এর ফলে তিনি ফেরদৌসী বেগম থেকে হলেন ফেরদৌসী রহমান। এ দম্পতির দুই ছেলে- রুবাইয়াত ও রাজিন। আর তিন নাতি বিয়াশা রহমান, রাহিল রহমান এবং রাফান রহমান। এবং ছোট ছেলের ঘরে দুই নাতনি- তাসমিয়া ও নাবিবা।

Print