যুক্তরাষ্ট্রে পত্রিকা অফিসে বন্দুকধারীর হামলা, নিহত ৫

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
টাইম নিউজ বিডি,
২৯ জুন, ২০১৮ ১৪:২১:২১
#

যুক্তরাষ্ট্রের ম্যারিল্যান্ডের 'ক্যাপিটাল গেজেট' নামের একটি স্থানীয় দৈনিক পত্রিকার কার্যালয়ে এক বন্দুকধারীর হামলায় পাঁচজন নিহত হয়েছে। এতে আরো আহত হয়েছে প্রায় ২০ জন।


পুলিশ জানিয়েছে, সংবাদপত্রটি আগে থেকে টার্গেট করে হামলা চালানো হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ওই পত্রিকাটিকে এরআগে ভয়ভীতি দেখানো ও হুমকি দেয়া হয়েছিল।-খবর বিবিসি অনলাইনের।


নিহতরা হলেন, গেরাল্ড, ওয়েনডি, রব, জন ও রেবেকা। নিহতদের সহকর্মী চেস কুক টুইটারে লিখেছেন, এটা আমার জন্য বোঝানো অসম্ভব। তাদের সবাই চমৎকার মানুষ ছিলেন। আমার হৃদয় ভেঙে টুকরা টুকরা হয়ে গেছে।


এ ঘটনায় সন্দেহভাজন জেরড রামোস নামের একজনকে আটক করেছে পুলিশ । সে মেরিল্যান্ডেই বসবাস করে। যার বয়স প্রায় ৩০ বলে জানিয়েছে পুলিশ


সিবিএস নিউজকে পুলিশের সূত্র জানিয়েছে, তাকে যেন শনাক্ত করতে না পারে, সেজন্য সে তার আঙুলের ডগা ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তার পেছনে ঝোলানো ব্যাগে একটি ভুয়া গ্রেনেড ও ধোঁয়া বোমা পাওয়া গেছে।


পুলিশের বরাতে সিবিএস নিউজ জানায়, দীর্ঘ নলের একটি বন্দুক ব্যবহারের কথা জানিয়ে আর কোনো তথ্য দিতে সে অস্বীকার করেছে।


১৮৮৪ সালে চালু হওয়া দৈনিক দা ক্যাপিটাল দেশটির সবচেয়ে পুরোনো পত্রিকাগুলোর মধ্যে একটি। এটির অনলাইন ভার্সনও রয়েছে।


ক্যাপিটাল গেজেট কমিউনিকেশনসের প্রকাশনায় এটি ছাড়াও আরও কয়েকটি স্থানীয় দৈনিক ছাপা হচ্ছে। এটির মালিক বাল্টিমোর সান মিডিয়া গ্রুপ।


অ্যানি আরুনডেল কাউন্টি পুলিশের উপ-প্রধান উইলিয়াম ক্রাম্ফ বলেছেন, ভবনের আঙিনায় বিস্ফোরকের মতো একটি বস্তু পাওয়া গেলে সেটি ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে।


তিনি বলেন, ১৭০ জনের বেশি লোককে ভবন থেকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। ভবনটিতে আরও বিভিন্ন ধরনের ব্যবসায়িক অফিস রয়েছে।


প্রতিবেদক ফিল ড্যাভিস টুইটারে লিখেছেন, যখন বার্তা কক্ষে আপনি কাজ করছেন, তখন শুনতে পেয়েছেন, বন্দুকধারী তার বন্দুকে ফের গুলি ভরছেন, এর চেয়ে ভয়ঙ্কর কিছু হতে পারে না। তার কাছে পত্রিকা অফিসটিকে তখন যুদ্ধে আক্রান্ত অঞ্চল বলে মনে হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।


বাল্টিমোর সান পত্রিকাকে তিনি বলেন, বন্দুকধারী যখন গুলি ছোড়া বন্ধ করেছে, লোকজন তখনো ডেস্কের আড়ালে লুকিয়ে ছিল। আমি জানি না, সে কেনো গুলি ছোড়া বন্ধ করেছে।


পত্রিকাটির অন্য এক প্রতিবেদক ড্যানিল ওহল বলেন, বার্তা কক্ষটি খুবই ছোট। সেখানে প্রায় ২০জন কর্মী ছিলেন। কয়েকজন বিজ্ঞাপন কর্মকর্তাও ছিলেন। তিনি বলেন, আমরা খুবই ঘনিষ্ঠ ছিলাম। যেন আমরা একটি পরিবার। আমি বিপর্যস্ত। পত্রিকাটির সম্পাদক জ্যামি ডিবাট বলেন, এই ঘটনার পর তার হৃদয় ভেঙে গেছে।


জেড

Print