ভারতে ১৩ বছরের শিশুকে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী মিলে ধর্ষণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
টাইম নিউজ বিডি,
০৭ জুলাই, ২০১৮ ১৬:১৯:৫৯
#

ভারতে গত ৭ মাস ধরে ১৩ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণ করার অভিযোগ উঠেছে ৩ জন শিক্ষক ও ১৫ জন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। ভারতের বিহার রাজ্যের ছাপড়া জেলায় এই ঘটনা ঘটে।


গতকাল শুক্রবার এই অভিযোগের ভিক্তিতে একই স্কুলের প্রিন্সিপলসহ মোট ২ জন শিক্ষক ও ২ জন শিক্ষার্থীকে গ্রেফতার করে পুলিশ।


অভিযোগে মেয়েটি জানায়, গত বছরের ডিসেম্বরে তার বাবা জেলে যাওয়ার পর থেকে একই স্কুলের ১৫ শিক্ষার্থী ও ৩ জন শিক্ষক মিলে তাকে ধর্ষণ করে। তাকে ব্লাকমেইল করে তারপর ধর্ষণ করা হয়।


অভিযোগে সে আরো জানায়, সে প্রথম ধর্ষণের শিকার হয় ডিসেম্বরে তার এক সহপাঠীর দ্বারা। তারপর ব্লাকমেইল করে তার অপর সহপাঠীরা এবং সর্বশেষ শিক্ষকও যোগ দেয় ধর্ষণে।


৭ মাস পর তার বাবা জেল থেকে ছাড়া পেলে তারপর সে থানায় অভিযোগ করতে আসে। অভিযোগে সবার নাম উল্লেখ করে দেয় বলে জানায় সে।


অভিযোগের ভিক্তিতে পুলিশ এ পর্যন্ত ঐই স্কুলের প্রিন্সিপল সহ মোট ২ জন শিক্ষক ও ২ জন শিক্ষার্থীকে গ্রেফতার করে ।


পুলিশ জানায়, অভিযুক্ত ১৮ জনেরই নাম পাওয়া গেছে। তাদের অভিযান অব্যাহত চলছে বাকীদের গ্রেফতারের জন্য।


পাশাপাশি মেয়েটির স্বাস্থ্য পরিক্ষার জন্য তাকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে বলেও জানায় পুলিশ।


উল্লেখ্য, নারীদের বিভিন্ন সমস্যায় বিশেষজ্ঞ এমন ৫৫০ জনের ওপর জরিপ চালায় লন্ডনভিত্তিক দাতব্য প্রতিষ্ঠান থমসন রয়টার্স ফাউন্ডেশন।


এতে দেখা যায়, নারীর ওপর যৌন নির্যাতন, গৃহপরিচারিকার কাজের জন্য তাদের পাচার, জোর করে কাজ করানো, জোর করে বিয়ে দেয়া এবং যৌন দাসীসহ বিভিন্ন অত্যাচারের কারণে ভারতকে নারীদের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক দেশ বলা হয়েছে।


জরিপে আরও দেখা গেছে, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের কারণে নারীরা বিভিন্ন ঝুঁকির মধ্যে থাকে এমন দেশগুলোর মধ্যেও সবচেয়ে বিপজ্জনক ভারত। নারীদের ওপর এসিড নিক্ষেপ, যৌনাঙ্গ কেটে ফেলা, বাল্য বিয়ে দেয়া এবং শারীরিক নির্যাতনসহ বিভিন্ন অত্যাচারের উল্লেখ করা হয় জরিপে।


একই জরিপে সাত বছর আগে ভারতকে মেয়েদের জন্য বিপজ্জনক দেশগুলোর মধ্যে চতুর্থ ছিল বলেও জানানো হয়।


বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারত এই তালিকার সবচেয়ে উপরের স্থান দখল করায় বুঝা যাচ্ছে যে, নারীরা যেসব বিপদের মধ্যে থাকে তা দূর করতে সেখানে যথেষ্ট পদক্ষেপ নেয়া হয় নি।


এমনকি ছয় বছর আগে দিল্লীতে চলন্ত বাসে ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনার পর নারীর প্রতি সহিংসতাকে জাতীয়ভাবে গুরুত্ব দেয়া হলেও অবস্থার উন্নতি হয় নি।


জেড


 


 

Print