সমালোচনা থাকবেই, তবুও জীবন থেমে থাকবে না’

স্পোর্ট ডেস্ক
টাইম নিউজ বিডি,
০৮ জুলাই, ২০১৮ ১৬:১৪:২৬
#

শেষ চারটি বিশ্বকাপের মধ্যে তিনটি থেকেই কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নিল ব্রাজিল। পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের জন্য এই পারফরম্যান্স মোটেও আশাব্যঞ্জক নয়।


তাই সমালোচনা হবেই। ব্রাজিল নিজেদের সামর্থ্যের শতভাগ কাজে লাগায়নি বলেও অনেকে দাবি করছেন।

দলের মধ্যমাঠের প্রাণভোমরা ফিলিপে কোটিনহো মনে করছেন, দল হারের পর সমালোচনা হবেই। আর সেই সমালোচনা মেনে নেওয়ার সত্ সাহস আছে ব্রাজিলিয়ানদের।


তিনি বেলজিয়ামের বিপক্ষে ২-১ গোলে হারের পর বলেন, ‘আমরা ফাইনাল পর্যন্ত যেতে চেয়েছিলাম।


আমরা আমাদের সেরা চেষ্টাটাই করেছিলাম। সবাই নিজের সর্বোচ্চ চেষ্টাটাই করেছে। আমি নিশ্চিত চারিদিক থেকে সমালোচনা ধেয়ে আসবে। জীবন থেমে থাকবে না, এটাই ফুটবল। আপনি জিতবেন এবং হারবেন।’

কোটিনহো’র দাবি জয়ের জন্য নিজেদের সবোর্চ্চ চেষ্টাটাই করেছেন ব্রাজিলিয়ানরা। কিন্তু, দুর্ভাগ্য যে তারা জয় আদায় করে নিতে পারেননি। তিনি বলেন, ‘আমরা ব্যথিত কারণ পুরো ব্রাজিলের মতো আমরাও খুব করে জিততে চেয়েছিলাম। দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা পারলাম না।’

রাশিয়াতে হয়তো শেষবারের মতো বিশ্ব মঞ্চে খেলে ফেলেছেন ব্রাজিলের এই দলের অনেকেই। ২৩ জনের দলে নয়জনের বয়স ত্রিশের ঘরে। ৩৩ বছর বয়সী সেন্টার ব্যাক মিরান্ডা অবশ্য এখনই ভবিষ্যত্ নিয়ে কথা বলতে রাজি নন।


তিনি বলেন, ‘এই বিষয়ে কথা বলা কঠিন। কারণ এখানকার সব খেলোয়াড়ই একটি প্রজন্মের অংশ। আমি বিদায় বলছি না। কিন্তু আমি এও নিশ্চিত করছি না যে পরের বিশ্বকাপে আমি থাকব।’

ব্রাজিলের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় দুর্ঘটনা বলা যায় ২০১৪ সালে ঘরের মাঠে জার্মানির কাছে ৭-১ গোলে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয়া। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এত বড় ব্যবধানে আর কখনো হারেনি ব্রাজিল। তবু ২০১৪ সালের সেই হতাশার চেয়েও কঠিন ব্রাজিলের এবারের বিশ্বকাপের বিদায় নেয়াটা।

এমনটাই জানিয়েছেন দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য পওলিনহো। ম্যাচ শেষে সংবাদ মাধ্যমের কাছে বার্সেলোনার এই তারকা ফুটবলার বলেন, ‘আমার কাছে দুইটাই অনেক কঠিন। ২০১৪ সালের সেই ম্যাচটা ছিল অনেক বেশি জটিল ও হতাশার। তবে এবারের বাদ পড়াটা তার চেয়েও বেশি কঠিন।’

মূলত হারার আগে না হারার মানসিকতার কারণেই এমনটা মনে করছেন পওলিনহো। ম্যাচের শেষ মিনিট পর্যন্ত লড়াই করেও জয় না পাওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেন এই মিডফিল্ডার। তিনি বলেন, ‘আমরা যেভাবে বিদায় নিলাম তা মেনে নেয়া কঠিন।


একদম শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়েছি আমরা। আমরা নিঃসন্দেহে তাদের ছাড়িয়ে গেছি কিন্তু জিততে পারিনি।’

চার বছর বাদে বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে কাতারে।

সেলেসাওদের এবার সেই বিশ্বকাপের জন্য অপেক্ষা করা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। সর্বশেষ ব্রাজিল কোরিয়া-জাপান থেকে ২০০২ সালে বিশ্বকাপ জিতে ফিরেছিল। ২০ বছর পর আবারো বিশ্বকাপের আসর ফিরবে এশিয়াতে। এটাই হয়তো ব্রাজিলকে এখন আশাবাদী করতে পারে। এএস

Print