মস্তিষ্ক সমস্যায় নুর, চিকিৎসায় অর্থ সংকট

স্টাফ রিপোর্টার
টাইম নিউজ বিডি,
০৮ জুলাই, ২০১৮ ১৭:৪৯:১২
#

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পিটুনিতে আহত কোটা আন্দোলনের নেতা নুরুল ইসলাম নুরের নানা ধরনের শারীরিক সমস্যা দেখা দিয়েছে।


হাতের পাশাপাশি মেরুদণ্ড, কিডনি এমনকি মস্তিস্কে কিছু অস্বাভাবিকতা দেখা গেছে। আর টানা এক সপ্তাহ ধরে বেসরকারি হাসপাতালে ব্যয়বহুল চিকিৎসা চালাতে হিমশিম খাচ্ছে পরিবারটি।


গত ৩০ জুন হামলায় আহত হন নুর। এরপর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসার পর আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয় নুরকে। কিন্তু দুই দিনের মাথায় তাকে ওই হাসপাতাল ছাড়তে বাধ্য করার অভিযোগ উঠে।


এরপর তাকে অন্য একটি বেসরকারি হাসপাতাল ভর্তি করা হয়। কিন্তু নিরাপত্তাহীনতার কারণে সেই হাসপাতালের নামও বলতে চাইছেন না স্বজনরা।


এক সপ্তাহ পর ৭ জুলাই নুরের ভাবির সঙ্গে কথা হয়েছে । তিনিই এই তরুণের শারীরিক অবস্থা এবং তার চিকিৎসা চালিয়ে যেতে তাদের অসুবিধায় পড়ার তথ্য জানান।


কোটা আন্দোলনের নেতার এই স্বজন বলেন, ‘শনিবার (৭ জুলাই) মাথার এমআরআই করতে বলেছে ডাক্তাররা। তবে টাকা তো লাগবে। যেভাবে ওষুধের পেছনে টাকা যাচ্ছে, এখন পর্যন্ত লাখ ছাড়িয়েছে, যা সামাল দেওয়া খুবই সমস্যা।


বিশেষ করে মেরুদণ্ড, হাতের হাড় এবং কিডনির চিকিৎসা তো ব্যয়বহুল। ওর শরীরে এখন বড় বড় রোগ দেখা দিলেও চিকিৎসা করানোর মত টাকা আমাদের নেই।’


‘বর্তমানে বলতে পারেন ভীষণ অর্থ সংকটে ভুগছি। আমরা খুবই খারাপ অবস্থায় আছি। না পারছি রোগীকে দূরে সরিয়ে দিতে, না পারছি ভিটেমাটি রক্ষা করতে। ওর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কিছু সাহায্যের আশ্বাস পেলেও সেটা মেলেনি। হয়ত তারা দেবে না।’


বিষয়টি নিয়ে এক ধরনের ভয়ও কাজ করছে নুরের ভাবির মধ্যে। বলেন, ‘আমরা তো ওকে চিকিৎসা করাচ্ছি অচেনা জায়গায়। এখন পর্যন্ত আমাদের আত্মীয় বা নূরের বন্ধুদের বলিনি আমরা কোথায় কোন অবস্থায় আছি।’


নুর মাকে হারিয়েছেন যখন তার বয়স আড়াই। এরপর বাবাই বড় করেছেন। কিন্তু ছেলের এত সমস্যা তাকে জানানো হয়নি।


নুরের ভাবি বলেন, ‘তিনি (নুরের বাবা) জানেন না, শরীর এতো খারাপ। সে দেখতে আসতে চায়। কিন্তু আমরা বলেছি নূর ভালো আছে।’


‘পাঁচ ভাই বোনের মধ্যে নূর সবার ছোট। তার বাবা বারবার দেখবে বলছে। কিন্তু আমরা তাকে কেবল টাকার কথা বলি, ছেলে কথা বলি না।


তবে সে এখন বলছে চোখের দেখা দেখবে। কিন্তু ছেলের এই অবস্থা দেখলে তিনি সহ্য করতে পারবেন না। সেটা আমি কীভাবে ঠেকাবো বুঝছি না।’


নূরের শারীরিক অবস্থা এখন কেমন- এমন প্রশ্নে তার ভাবি বলেন, ‘ও যে ওয়াশ রুমে যাবে সেখানেও দুই জন মিলে নিয়ে যাওয়া লাগছে। ডান হাতের কাঁধে আঘাত পেয়েছে। এতে প্রচণ্ড ব্যথা, হাত নাড়াতে পারছেন না তিনি। মেরুদণ্ডতে সমস্যা দেখা দিয়েছে। একটানা বেশিক্ষণ বসে থাকলে ব্যাথা হয়।’


‘কিডনি সমস্যার আশঙ্কা করছেন চিকিৎসক। একটি পরীক্ষার ফল পেলেই এটা নিয়ে বুঝা যাবে।’


“কিছুক্ষণ পর পর নিজেই নিজের চুলগুলো ধরে টানে। আর বিড়বিড় করে বলে, ‘আমার মাথা, আমার মাথা’। বিড়বিড় করে কথা বলার কারণে কী বোঝাতে চাই সেটা বুঝতে পারছি না। এটা নতুন করে সমস্যা দেখা দিয়েছে। আর ডাক্তাররা কম কথা বলতে বলেছে, যেটুকু বলা জরুরি সেটা ছাড়া।’


‘শুরু দিকে নূরের শরীরের এতো খারাপ দেখা যায়নি। যেগুলো এখন দেখা যাচ্ছে। হাই পাওয়ারের ব্যথানাশক দিয়ে তখন ওকে রাখা হয়েছিল কিন্তু এখন শরীরের অবস্থা খারাপ সেটা বোঝা যাচ্ছে কোথায় কোথায় ব্যথা পেয়েছে।’ এএস

Print