অসুস্থ মাকে বাঁচাতে ২ পথশিশুর লড়াই,চিকিৎসার পর সুস্থ

টাইম ডেস্ক
টাইম নিউজ বিডি,
১০ জুলাই, ২০১৮ ০১:৫০:১৫
#

রোববার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সবার হৃদয় ছুঁয়ে গেছে একটি ছবি। যেখানে দেখা গেছে ফুটপাতে শুয়ে আছেন জ্বরে বেহুঁশ এক মা।


আর মাথার কাছে বসে ছোট্ট একটি শিশু পরম যত্নে মায়ের মাথায় পানি ঢালছে। ছোট ছোট হাতে ধুয়ে মুছে দিচ্ছে মায়ের কপাল-মাথা, চোখ। কিন্তু ছোট ছোট হাতের পরম মমতার পরেও যেন সাড়া মেলে না মায়ের।


তবে সুবিধাবঞ্চিতদের সেবায় নিয়োজিত পারবেস হাসানের কল্যাণে সেই মা এখন সুস্থ হয়ে ফিরেছেন। হাসি ফুটেছে তার সন্তানদের মুখে। গণস্বাস্থ্য হাসপাতালে তাকে বিনামূল্যে চিকিৎসা দিয়েছেন চিকিৎসকরা।


সেই মায়ের ছবি তোলা ও তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশ করা পারবেস হাসান জানান: অন্যদিনের মত সেদিনও ফুটপাত ধরে ধানমন্ডি ২৮ নম্বর ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির বিপরীত পার্শ্বের রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন তিনি।


সন্ধ্যার ঠিক আগে দেখতে পান জ্বরে কাতর এক মায়ের সেবায় ব্যস্ত দুই শিশু। তাদের সাথে কথা বলে তিনি জানতে পারেন, ওষুধ কেনার টাকা নেই। তাই পানি ঢালছে মায়ের মাথায়। বাবা কোথায় সে উত্তরও দিতে পারেনা শিশু দুটো।


তারপর ব্যক্তি উদ্যোগে সেই মাকে নিয়ে যান গণস্বাস্থ্য হাসপাতালে। সেখানে চিকিৎসা শেষে এখন সুস্থ হয়ে সন্তানদের কাছে ফিরেছেন মা।


জানা গেছে সেই মায়ের নাম ফরিদা। বয়স ৩০ এর কোঠা ছুঁই ছুঁই। স্বামী আনসার আলী দীর্ঘদিন যাবত ভুগছেন হার্টের রোগে। বছর সাত হল জীবিকার সন্ধানে ঢাকায় এসেছে পরিবারটি। তারপর থেকে তারা ভাসমান জীবন-যাপন করছে।


কখনো ফুলের মালা বিক্রি করে কখনো ফুল বিক্রি করে চলে এই চার জনের সংসার। ছোট শিশু দুটোও মায়ের কাজে সহায়তায় কখনো ফুল কখনো বা চকলেট বিক্রি করে।


ফরিদার বড় সন্তানের নাম আকলিমা বয়স ১১বছর। আর ৫ বছরের ছোট সন্তানের নাম ফরিদুর। অপুষ্টি আর খাদ্যাভাবে শিশুগুলো বাড়েনি বয়স অনুপাতে।।


যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিগুলোতে দেখা যায়, একজন অসুস্থ মা ফুটপাতে শুয়ে কাতরাচ্ছেন। পাশে তার দুই ছোট ছোট সন্তান। পানি রাখার কোনো পাত্র নেই তাদের।


আর তাই একটি বোতলের ছিপিতে করে আর হালিমের একটি খালি পাত্রে করে পানি ঢালছে মায়ের মাথায়। আরেকটি শিশু মায়ের পাশে অসহায়ভাবে বসে রয়েছে।


পাশেই একটি পলিথিনের প্যাকেটে ছিলো পাউরুটি আর কলা। তাতে কোন আগ্রহ নেই শিশু দুটোর। মাকে সুস্থ করে তোলাই যেন তাদের একমাত্র দায়িত্ব।


তবে এখন তারা স্কুলে পড়বে। একটি সংগঠনের স্কুলে ভর্তি করিয়ে দেয়া হবে শিশু দুটোকে। তাদের বাবার জন্য ব্যবস্থা করা হবে কর্মসংস্থানের।


এই পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর কারণ কী এ প্রশ্নের উত্তরে সুবিধাবঞ্চিতদের নিয়ে কাজ করে যাওয়া পারবেস হাসান চ্যানেল অাই অনলাইনকে বলেন: একটা জিনিস ভাইরাল হয়েছে তার মানে এই না যে ওটা নিয়ে পড়ে থাকতে হবে।


বা এটাই আমাদের শেষ কাজ। এমন অনেক সুবিধাবঞ্চিতরা আমাদের আশে-পাশে রয়েছে তাদের সবার সহায়তায় আমরা একজন করে এগিয়ে আসলেও আমাদের সমাজটা বদলে যাবে।


ফেসবুকে ছবিগুলো পোস্ট করার বিষয়ে পারবেস জানান: আমাদের তরুণ সমাজের জন্য এটা একটা শিক্ষা হতে পারে। আমরা স্বচ্ছল সন্তানরা মা-বাবাকে দেখি না। কিন্তু এই ছোট্ট শিশুগুলো যেভাবে মায়ের মাথায় পানি ঢালছে তা সত্যিই অণুকরণীয়। এএস

Print