বেলজিয়াম-ফ্রান্স: ‘জিভে জল আসার মত ম্যাচ’  

স্পের্টস ডেস্ক
টাইম নিউজ বিডি,
১১ জুলাই, ২০১৮ ০০:৪০:২৮
#

"মাউথ ওয়াটারিং - যেটাকে বলে জিভে জল আসার মত একটি ম্যাচ।" সেন্ট পিটার্সবার্গে মঙ্গলবারের বেলজিয়াম এবং ফ্রান্সের সেমি-ফাইনাল ম্যাচটি কেমন হতে পারে? এই প্রশ্নে ছোটো একটি বাক্যে উত্তর দিলেন বিবিসির সাবেক ক্রীড়া সম্পাদক এবং ব্রিটেনের অন্যতম শীর্ষ ফুটবল ভাষ্যকার মিহির বোস।


"একবারে শুরুর দিকে গ্রুপ স্টেজে অসামান্য ম্যাচ হয়েছিল পর্তুগাল এবং স্পেনের মধ্যে, আমার মনে হয় আজকের ম্যাচটি তার চেয়েও ভালো হবে। এই ম্যাচটি যদি ফাইনাল ম্যাচ হতো, তাহলে হয়তো এই বিশ্বকাপের সবেচেয়ে কাঙ্ক্ষিত ফাইনাল হতো।"


কেন তিনি এতটা আশা করছেন?


মিহির বোসের উত্তর - এই বিশ্বকাপের দুই সেরা দল ফ্রান্স এবং বেলজিয়াম।


"এবং এই দুটো দল যে কৌশল অনুসরণ করছে, তাতে তারা দুজনেই ৯০ মিনিটের মধ্যে জেতার চেষ্টা করবে।, অ্যাটাকিং ফুটবল খেলবে, রক্ষণাত্মক খেলা খেলবে বলে মনে হয়না।"



বিশ্বকাপে ফাইনালের চেয়ে এমনিতেই সেমি-ফাইনালে অপেক্ষাকৃত ভালো খেলা হয়। ফাইনাল ম্যাচের মত চাপ থাকে না সেমিফাইনালে । খেলোয়াড়রা মনে করে, আর একটি ধাপ পেরুলেই ফাইনাল, তাই তাদের সবটুকু তারা ঢেলে দেয়।


আর এবার ফ্রান্স এবং বেলজিয়ামের মত দলের মধ্যে যুদ্ধ সেমিফাইনালের আকর্ষণ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে বলে মনে করছেন মিহির বোস।


অ্যাটাকিং ফুটবল খেলা এ দুটি দলের রয়েছে বিশ্বের সেরা বেশ ক'জন ফুটবলার।


ফ্রান্সের রয়েছে তরুণ কিলিয়ান এমবাপে, যাকে এখন ফুটবলে 'নতুন ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডো' হিসাবে ডাকা শুরু হয়ে গেছে, এবং 'গোল মেশিন' আন্তোয়ান গ্রীজম্যান। মাঝমাঠে পল পগবা।


অন্যদিকে বেলজিয়াম দলটিকেই এখন বলা হচ্ছে "গোল্ডেন জেনারেশন।" কেভিন ডি ব্রাইনা, রোমেলু লুকাকু, এডিন আজা বিশ্বের যে কোনো দলকে ছারখার করে দিতে পারে। জাপান এবং ব্রাজিলের সাথে পর পর দুটো ম্যাচে তা তারা করে দেখিয়েছে।



'সবাইসবাইকে চেনে'


সেইসাথে এই দুই দলের অধিকাংশ খেলোয়াড়রা প্রতিপক্ষের ফুটবলারদের কম-বেশি চেনে। তাদের অনেকে ক্লাব ফুটবলে সতীর্থ খেলোয়াড়।


যেমন, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ক্লাবে পল পগবার সহ-খেলোয়াড় বেলজিয়ামের লুকাকু এবং ফেলাইনি। ম্যানচেস্টার সিটি ক্লাবে ডি ব্রাইনা এবং ভিনসেন্ট কোম্পানির সহ-খেলোয়াড় ফ্রান্স দলের মেনদি এবং লাপোর্তে।


মিহির বোস মনে করেন, যেহেতু এরা সবাই সবাইকে মোটামুটি চেনে, কে কীভাবে খেলে তা জানে, ফলে ম্যাচটি আরো আকর্ষণীয় হবে।


তারপরও কোন দলকে তিনি এগিয়ে রাখবেন? "একটু হলেও ফ্রান্স," তার উত্তর ছিল।


কতগুলো কারণ দিলেন মি. বোস।


প্রথম কথা, ফ্রান্স এর আগে বিশ্বকাপ জিতেছে - কিন্তু বেলজিয়াম কখনো জেতেনি, যেটার একটা মনস্তাত্ত্বিক গুরুত্ব আছে। "ফ্রান্সের বর্তমান কোচ দেশাম্প বিশ্বকাপ জয়ী দলে খেলেছেন, অভিজ্ঞতা রয়েছে।"


তাছাড়া গোল্ডেন জেনারেশনের বিশেষণ বেলজিয়ানদের মধ্যে চাপ তৈরি করতে পারে, যে চাপ ফ্রান্সের দলে নেই।


"এছাড়া, বেলজিয়ামের রক্ষণভাগ ততটা শক্ত নয়, এমবাপে এবং গ্রীজম্যান জুটি যদি একসাথে খেলতে পারে, তাহলে তারা গোল করতে পারবে।"


বিভক্ত ফুটবল ভাষ্যকাররা


তবে অনেক বিশ্লেষক আজকের ম্যাচে তো বটেই, বেলজিয়ামকেই বিশ্বকাপের প্রধান দাবিদার হিসাবে দেখছেন।


ইংল্যান্ডের সাবেক ডিফেন্ডার রিও ফার্ডিনান্ড এখন বলছেন, "টুর্নামেন্টের আগে এই দলটির মেন্টালিটি নিয়ে প্রশ্ন ছিল, দুবছর আগে ইউরোতে তারা হতাশ করেছে। কিন্তু এখন তারা সমালোচকদের সঠিক জবাব দিতে পারছে, ব্রাজিলের মত দলকে তারা যেভাবে নাস্তানাবুদ করে হারালো, তাতে পরিষ্কার যে তাদের দাঁত এখন কতটা ধারালো।"


বিবিসির ফুটবল ভাষ্যকার প্যাট নেভিন বলছেন, "বেলজিয়ামের কাপ জেতার সম্ভাবনা এখন সবচেয়ে বেশি... কোনো দলের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো দলের প্রধান খেলোয়াড়দের ফর্মে থাকা।" ব্রাজিলের সাথে ম্যাচে আজা, ডি ব্রাইনা এবং লুকাকু সেই প্রমাণ দিয়েছেন।


ঢাকার ফুটবল ভাষ্যকার এবং বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক কোচ একেএম মারুফুল হক বিবিসিকে বলেন, "আমি নির্দ্বিধায় মঙ্গলবারের সেমিফাইনালে (ফ্রান্সের বিরুদ্ধে) বেলজিয়ামকে এগিয়ে রাখবো।"


মি. হক বলছেন, ব্রাজিলের মত 'অল-রাউন্ড" দলকে যেভাবে তারা কোয়ার্টার ফাইনালে হারালো, তাতে বেলজিয়াম এখন শিরোপার এক নম্বর দাবিদার।


"দল, কোচ, ডিফেন্স, মিডফিল্ড এবং অ্যাটাক - এই পাঁচটি বিষয়ের বিবেচনায় গ্রুপ স্টেজে ব্রাজিলকে পাঁচের মধ্যে পাঁচ দিতেই হতো। কিন্তু শেষ দুই ম্যাচে (জাপান এবং ব্রাজিলের বিরুদ্ধে ম্যাচ দুটো) বেলজিয়ামকে সাড়ে পাঁচ দিতে হবে।"


বিশেষ করে বেলজিয়ান কোচ মার্টিনেজকে নিয়ে মুগ্ধ মি. হক। "শেষ দুই ম্যাচে কৌশল প্রয়োগে অসামান্য বিচক্ষণতা দেখিয়েছেন তিনি।" খবর বিবিসি।


এমবি    

Print