অপহরনের ১৫ দিন পর যুবকের গলিত লাশের সন্ধান

নড়াইল করেসপন্ডেন্ট
টাইম নিউজ বিডি,
১২ জুলাই, ২০১৮ ০০:২৪:৪৪
#

নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার মাকড়াইল গ্রামের ছালাম মোল্লার ছেলে পলাশকে অপহরণের ১৫ দিন পর তার লাশের সন্ধান পাওয়া গেছে।


পুলিশ অপহরণের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে একজনকে আটক করেছে।


সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, উপজেলার মাকড়াইল গ্রামের সালাম মোল্লার ছেলে পলাশ মোল্লার (২৩)কে গত ২৩ জুন প্রতিবেশী খায়ের মোল্লার ছেলে আনারুল মোল্লার ও আড়পাড়া গ্রামের আকুব্বরের ছেলে নাজমুলসহ অজ্ঞাত ৩/৪ জন প্রলোভন দিয়ে কৌশলে অপহরণ করে। পলাশ বাড়ীতে ফিরে না আসায় পরিবারের লোকজন অনেক খোজাখুজি করতে থাকে। না পেয়ে গত ৩০ জুন লোহাগড়া থানায় সাধারন ডায়েরী করেন। পলাশের ভাই আহাদ মোল্লার ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে আনারুলকে প্রধান আসামী করে গত ৯ জুলাই লোহাগড়া থানায় মামলা করেন।


মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মিল্টন কুমার দেবদাস এবং এএসআই শিকদার হাসিবুর রহমান অভিযান চালিয়ে আনারুলকে মানিকগঞ্জ বাজার এলাকা থেকে গ্রেফতার করে।


মঙ্গলবার (১০ জুলাই) নড়াইল সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নয়ন বড়ালের আদালতে ১৬৪ ধারায় আনারুলের স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি গ্রহন করে। তার দেয়া তথ্য মতে জানা গেছে, ইজিবাইক কেনার টাকার জন্য পলাশকে  গত ২৩ জুন সকালে তার নিজ বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে অপহরণ করে। ওইদিন রাত ১০টার দিকে মাগুরা জেলার আমুড়িয়া কলেজ মাঠপাড়া এলাকায় তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে পাশের পাট ক্ষেতে লাশ ফেলে পালিয়ে যায়।


ঘটনার তিন দিন পর এলাকাবাসী অজ্ঞাত লাশ দেখতে পেয়ে মাগুরা সদর থানা পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্ত শেষে বেওয়ারিশ লাশ হিসেবে আঞ্জুমান মফিদুলের মাধ্যমে গত ২৭ জুন মাগুরা পৌর কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করেন।


পলাশের বৃদ্ধ পিতা ও মাতা তহুরোন নেছা কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, পলাশের লাশটি শেষবারের মতো একবার দেখে স্থানীয় গোরস্থানে দাফন করে আমরা মরতে চাই।


লোহাগড়া থানার অফিসার ইনচার্জ প্রবীর কুমার বিশ্বাস বলেন পলাশ হত্যার প্রধান আসামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার স্বীকারোক্তি মোতাবেক পুলিশ নিহত পলাশের লাশের সন্ধান পেয়েছে। আদালতের মাধ্যমে লাশ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।


হুমায়ুন কবীর রিন্টু/ এসএম

Print