‘বড় হামলা চালানোর সক্ষমতা হারিয়েছে জঙ্গিরা’ | timenewsbd.com

‘বড় হামলা চালানোর সক্ষমতা হারিয়েছে জঙ্গিরা’

টাইম ডেস্ক
টাইম নিউজ বিডি,
১৯ জুলাই, ২০১৮ ২১:৩৬:৩২
#

আবারও সংগঠিত হচ্ছে জঙ্গিরা। লক্ষ্য প্রগতিশীল লেখক, ব্লগার, ধর্মীয় সংখ্যালঘুসহ বিভিন্ন শ্রেনীপেশার মানুষের উপর হামলা। সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পুলিশের কাছে পাঠানো এক গোয়েন্দা প্রতিবেদনে এমন তথ্য দেয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, বড় ধরনের হামলা চালানোর সক্ষমতা হারিয়েছে জঙ্গি সংগঠনগুলো। তারপরেও সার্বিক দিক বিবেচনায় নিয়ে সতর্ক রয়েছেন তারা। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে জঙ্গিবাদ দমনে আত্মতৃপ্তির কোনো সুযোগ নেই।


২০১৩’র পর দু’বছরে দেশজুড়ে ঘটে একের পর এক টার্গেট কিলিংয়ের ঘটনা। আর ২০১৬ সালে গুলশানে হলি আর্টিসান রেস্তোরাঁয় হামলার মধ্য দিয়ে জঙ্গিরা ছাড়িয়ে যায় সব নৃশংসতাকে। এরপর র‌্যাব পুলিশের অব্যাহত অভিযানে মারা যায় ৫৯ জন জঙ্গি। গ্রেফতারও হয় অনেকে। এরপর জঙ্গিদের বড় ধরনের কোনো তৎপরতা চোখে পড়েনি।


তবে সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পুলিশের কাছে পাঠানো এক গোয়েন্দা প্রতিবেদনে তথ্য দেয়া হয়, জঙ্গি সংগঠনগুলো এক প্ল্যাটফর্মে আসার চেষ্টা করছে। প্রগতিশীল লেখক, ব্লগার, চিন্তাবিদ, ইসলাম সম্পর্কে নেতিবাচক মন্তব্যকারী, ধর্মীয় সংখ্যালঘু, দেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিক জঙ্গিদের হামলার লক্ষ্য হতে পারে। গোয়েন্দা প্রতিবেদন পাওয়ার পর পুলিশ সদর দফতরের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ইউনিটে পাঁচদফা নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।


এর মধ্যে রয়েছে- আবাসিক এলাকায় নতুন ভাড়াটিয়া এলে তাদের সম্পর্কে ভালোভাবে খোঁজ খবর নেয়া। বাস, রেলস্টেশন ও নৌবন্দরে চলাচল নিয়ন্ত্রণ, মাঝে মাঝে আকস্মিক তল্লাশি করা। স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় মোবাইল ব্যাংকিং যাচাই বাছাই ও নজরদারি করা। গাড়ি চুরি কিংবা ছিনতাইয়ের ঘটনাগুলো গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা ইত্যাদি।


এছাড়া পুলিশের নিজেদের স্থাপনার নিরাপত্তা জোরদার। নম্বরবিহীন কোনো গাড়ি কিংবা মোটরসাইকেল যেন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ঢুকতে না পারে ইত্যাদি বিষয়ে ১৯ দফা সর্তকতা দেয়া হয়েছে পুলিশ সদস্যদের প্রতি।


এ বিষয়ে ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, সন্ত্রাসী-জঙ্গিদের নেটওয়ার্কটাকে যেভাবে গুঁড়িয়ে দিয়েছে তাতে এই ধরনের বড় কাজ করার সামর্থ্য তাদের নেই। তারপরও বিক্ষিপ্তভাবে কোথাও এ ধরনের ঘটতে পারে সেই কথা মাথায় রেখেই আমরা আমাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সাজিয়েছি।


এদিকে নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, জঙ্গিরা কোণঠাসা অবস্থায় থাকলেও নিজেদের অস্তিত্ব জানান দেয়ার চেষ্টা অব্যাহত থাকে তাদের। এছাড়া নির্বাচন সামনে রেখে কোনো কোনো রাজনৈতিক দলের প্রশ্রয় পেতে পারে তারা।


নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল অব. এ কে মোহাম্মাদ আলী শিকদার বলেন, জঙ্গিরা কখনোই বসে থাকবে না, তাদের একটা লক্ষ্য রয়েছে। আমরা জানি তাদের যে রাজনৈতিক জায়গাটা রয়েছে সেটি হলো জামায়াতে ইসলাম। তারা আজ মহাসংকটে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গত দেড় বছরে যে সফলতা সেটাকে নিয়ে তারা আত্মতুষ্টিতে থাকলে সেটা একটা বিপদের সংকেত হবে।


সার্বিক পরিস্থিতি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক আরো জোরদার করার তাগিদ নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের।


এসএম

Print