‘খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে কোনো নির্বাচন হবে না’ | timenewsbd.com

‘খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে কোনো নির্বাচন হবে না’

স্টাফ রিপোর্টার
টাইম নিউজ বিডি,
২০ জুলাই, ২০১৮ ২৩:৫৯:৩৮
#

খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে এ দেশে কোনো নির্বাচন হবে না বলে জানিয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, নির্বাচনের আগে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে, নিরপেক্ষ সরকার গঠন করতে হবে, সংসদ ভেঙে দিতে হবে, সেনা মোতায়েন করতে হবে। এছাড়া দেশে কোনো নির্বাচন হবে না, জনগণ হতে দেবে না।


আজ (শুক্রবার) বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও সুচিকিৎসার দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে মির্জা ফখরুল এইসব কথা বলেন।  


আজ বিকেল ৩টায় পূর্বঘোষিত এই সমাবেশ শুরু হওয়া কথা থাকলেও প্রখর রোদ ও তাপপ্রবাহ উপেক্ষা করে দুপুর ১২টার পরপরই নেতাকর্মীরা আসতে শুরু করেন। নয়াপল্টনের আশেপাশের মসজিদে জুম্মার নামাজে অংশ নিতে দেখা গেছে বিএনপির নেতাকর্মীদের। নামাজ শেষে তারা দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জড়ো হতে থাকেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই পুরো নয়াপল্টন এলাকা লোকে লোকারণ্য হয়ে পড়েন। নেতাকর্মীর উপস্থিতির কারণে দেড়টার পরপরই অনানুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।  দীর্ঘদিন পর সমাবেশ করার সুযোগ পাওয়ায় বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহের কমতি ছিল না। তাঁরা স্লোগানে স্লোগানে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি জানান। সমাবেশে শেষ হয় বিকেল সোয়া ৫টায়। 


সমাবেশে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আজ আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে, সব রাজনৈতিক দল, সংগঠনকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। জনগণের দাবি আদায় করতে হবে। অপশাসনকে পরাজিত করতে হবে। জাতিকে মুক্তি দিতে হবে।  


আরও পড়ুর: দিল্লির গোলামি করতে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়নি: গয়েশ্বর চন্দ্র রায় 


আরও পড়ুন: ভোটের আগে নির্বাচন কমিশনকে পুনর্গঠন করতে হবে: মির্জা আব্বাস


বিএনপির মহাসচিব বলেন, আমরা বাম মোর্চাকে ধন্যবাদ জানাই। তারা একটি ঐক্য গড়ে তুলেছে। তাই সবাইকে আহ্বান জানাব, গণতন্ত্রকামী সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে ঐক্যবদ্ধ হোন। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করুন। দেশকে স্বৈরাচারের হাত থেকে মুক্ত করুন।



মির্জা ফখরুল বলেন, ২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার দেশের অর্থনীতি, গণতন্ত্র, মানুষের কথা বলার অধিকার ধ্বংস করে দিয়েছে। সরকার এই দেশের ব্যাংকগুলো শেষ করে দিয়েছে। এখন বাংলাদেশ ব্যাংককেও শেষ করে দিয়েছে। সেখানে রাখা সোনাগুলো নাকি ধাতু হয়ে গেছে।


কারাবন্দি খালেদা জিয়া প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, যে মানুষটি দেশের মানুষের অধিকার ও গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছেন তাঁকে আজ অন্যয়ভাবে একটি নির্জন কারাগারে আটকে রেখেছে। তিনি এতটাই অসুস্থ তাঁর আত্মীয়রা দেখা করতে গেলে তিনি নিচে আসতে পারেন না। অথচ সরকারের মন্ত্রীররা বলেন-আমরা খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে রাজনীতি করছি। রাজনীতি তো করছে সরকার। কারণ তারা খালেদা জিয়াকে ভয় পায়, সে জন্য তাঁকে কারাগারে আটকে রেখেছে। যে মামলায় তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই, সে মামলায় তাঁকে অন্যায়ভাবে সাজা দিয়ে কারাগারে আটকে রাখছে।


ফখরুল আরও বলেন, আগে বিএনপি ও বিরোধী নেতাকর্মীদের গুম করতো। এখন নতুন নাটক শুরু হয়েছে। মাদকের নামে নিরপরাধ মানুষকে বিনা বিচারে পাখির মতো গুলি করে হত্যা করা হচ্ছে। সরকার আজ দেশে একটা ভয়াবহ ত্রাসের রাজত্ব শুরু করছে। এ দেশে আজ প্রতিটি মানুষ অনিরাপদ, তাদের কখন কোথায় মৃত্যু হবে কেউ জানে না।   


কোটা নিয়ে বিএনপির মহাসচিব বলেন, যখন আন্দোলন তুঙ্গে তখন প্রধানমন্ত্রী রেগে সংসদে বলেছেন- কোনো কোটা থাকবে না। আর এখন কি করছে, যারা আন্দোলনের সাথে জড়িত তাদের গুম করা হচ্ছে, রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন করছে। এখন ছাত্রলীগের ভূমিকা পাকিস্তান আমলে ইয়াহিয়া খানের ছাত্র সংগঠনের মতো। আজ দেশে কেউ নিরাপদ নয়। কেউ স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারে না।


মির্জা ফখরুল আরও বলেন, আজ দেশের মানুষ পরিবর্তন চায়। আমাদের এমপি-মন্ত্রী বানানোর জন্য নয়। আমরা আন্দোলন করছি- কথা বলার অধিকার ফিরে পেতে, ভোটের অধিকার ফিরে পেতে, জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পেতে। কিন্তু এটি সরকার দেবে না। কারণ যদি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট হয় তাহলে আওয়ামী লীগ ২০টি আসনও পাবে না। তাই এই সরকারের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করতে হবে। আন্দোলনের মাধ্যমে এদের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করতে হবে। 


বিএন‌পির সহ-প্রচার সম্পাদক আমীরুল ইসলাম খান আলী‌মের সঞ্চালনায় বি‌ক্ষোভ সমা‌বে‌শে বক্ত‌ব্য রাখেন- স্থায়ী ক‌মি‌টির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যা‌রিস্টার মওদুদ আহ‌মদ, মির্জা আব্বাস, গ‌য়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড আবদুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এ জেড এম জা‌হিদ হো‌সেন, চেয়ারপারস‌নের উপ‌দেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, জয়নুল আবেদীন ফারুক, আবুল খা‌য়ের ভুইয়া, যুগ্ম-মহাস‌চিব সৈয়দ মোয়া‌জ্জেম হো‌সেন আলাল, ঢাকা মহানগর (উত্তর) বিএন‌পির সাধারণ সম্পাদক আহসান উল্লাহ হাসান, ঢাকা মহানগর (দ‌ক্ষিণ ) সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার, শ্রমিক দ‌লের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম না‌সিম, স্বেচ্ছা‌সেবক দ‌লের সভাপ‌তি শফিউল বারী বাবু, সাধারণ সম্পাদক আবদুল কা‌দির ভুইয়া জু‌য়েল, যুবদলের সি‌নিয়র সহ-সভাপ‌তি মোর্তাজুল ক‌রিম বাদরু, ছাত্রদল সভাপ‌তি রাজীব আহসান, সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান, সহ-সভাপ‌তি এজমল হো‌সেন পাইলট, জাতীয় সামা‌জিক সংস্থা (জাসাস) সাধারণ সম্পাদক চিত্রনায়ক হেলাল খান, যুবদল ঢাকা মহানগর (উত্তর ) সভাপ‌তি এসএম জাহাঙ্গীর, যুবদল ঢাকা মহানগর (দ‌ক্ষিণ) সভাপ‌তি র‌ফিকুল আলম মঞ্জু প্রমুখ।


এমবি  

Print