মধু হৈ হৈ....

সৈয়দ মাসুদ মোস্তফা
টাইম নিউজ বিডি,
২৬ জুলাই, ২০১৮ ২০:৫০:১৪
#

চলমান মানব জীবনের বাস্তব প্রতিচ্ছবি হচ্ছে সাহিত্য। ব্যক্তির আবেগ-অনুভূতি, বোধ-বিশ্বাস, স্বাতন্ত্র ও রুচীবোধ সবই সাহিত্যের অংশ। এসব যখন শিল্পির নিপূণ কারুকাজ, কৌশলী গাঁথুনী ও নির্মোহ উপস্থাপনায় একটি বিশেষ রূপ নেয় তখনই তা হয়ে ওঠে সাহিত্য। তাই কোন জাতির জীবনাচরণ, ইতিহাস-ঐতিহ্য ও বৈশিষ্ট জানতে হলে সেই জাতির সাহিত্য-সংস্কৃতি সম্পর্কে সম্যক ধারণা থাকা দরকার। কারণ, সাহিত্য দর্পণেই প্রতিবিম্বিত হয় জাতির আশা-আকাঙ্খা, হাসি-কান্না, অনুরাগ-বিরাগ ও আবেগ-অনূভূতির প্রকৃত রূপ। তাই সাহিত্য ও মানব জীবন একে অপরের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। দু’টিকে আলাদা করার তেমন সুযোগ নেই।


বিশ্বমানচিত্রে আমাদের ভৌগলিক স্বাধীনতা নবীনতর হলে আমাদের সাহিত্য-সংস্কৃতির ভান্ডার কিন্তু খুবই সমৃদ্ধ। বৈশ্বিক সাহিত্য-সংস্কৃতিতে যেমন শাখা-প্রশাখা রয়েছে, ঠিক আমাদের ক্ষেত্রে তা মোটেই আলাদা নয়। আমাদের সাহিত্যের বিভিন্ন শাখা-প্রশাখার মধ্যে লোক সাহিত্যও একটি উল্লেখযোগ্য ও খুই সমৃদ্ধ শাখা। লোক সাহিত্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ উপশাখা হলো লোকসঙ্গীত। আর আমাদের লোক সঙ্গীত যেমন সমৃদ্ধ, ঠিক তেমনিভাবে এর আবেদন ও প্রভাব আমাদের সমাজ-রাষ্ট্রে খুবই ক্রিয়াশীল। শুধু যে ক্রিয়াশীল এমন নয় বরং এই সমৃদ্ধ লোকসঙ্গীতে মিশে আছে আমাদের বোধ, বিশ্বাস, আধ্যাত্মবাদ ও জীবনবোধের অন্যন্য সাধারণ ব্যঞ্জনা। তাই আমাদের লোকসঙ্গীত আমাদের দেশ ও জাতিস্বত্ত্বার চিরায়ত রূপ।


আকাশ সংস্কৃতির আগ্রাসনে আমাদের নিজস্ব সাহিত্য-সংস্কৃতি কিছুটা কোনঠাসা হলেও আমাদের দেশের লোকসঙ্গীতের আবেদন এখনও শেষ হয়ে যায়নি। কারণ, এসব আমাদেরকে শেকড়ের সন্ধান দেয়। পরিচয় করিয়ে দেয় আমাদের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের সাথে। সাহিত্যের কল্পলোকের আবহ থেকে বেড়িয়ে একটা নির্মোহ বাস্তবতার দিকেই পথ নির্দেশ করে। অনেক সময় এসবকে শিল্পির নিপুন কারসাজী বলে মনে হলেও আমরা যখন বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করি তখন বাস্তবতা এসে ধরা দেয়। আমরা মহুর্তেই কল্পলোক থেকে বেড়িয়ে বাস্তবতায় ফিরে আসি। তাই লোকসঙ্গীত আমাদের জীবন ও উপলব্ধির সাথে একেবারে একাকার হয়েই আছে।


বলছিলাম আমাদের লোক সঙ্গীতের কথা। আমরা অনেকেই তা আত্মবিনোদনের মাধ্যম হিসেবে মনে করি। কিন্তু আমাদের লোক সাহিত্যের ভান্ডারে এমন এমন লোক সঙ্গীত স্থান করে নিয়েছে যা সত্যিই আমাদের চলমান বাস্তব জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু আমাদের ইন্দ্রিয়ানুভূতির দুর্বলতার কারণে অনেক ক্ষেত্রেই তা উপলব্ধি করতে পারি না। ‘পরের জাগা পরের জমি ঘর বানায়া আমি রই, আমি সেতো ঘরের মালিক নই’ এ ধরনের অসংখ্য লোকসঙ্গীত যেমন আমাদেরকে আধ্যাত্ববাদে উদ্বুদ্ধ করে, ঠিক তেমনিভাবে ‘প্রাণ সখীরে....’ আমাদের মধ্যে রোমান্টিক আবহ সৃষ্টিতে সহায়ক হয়। আমাদের লোক সঙ্গীত সম্ভারের একটি অন্যতম ও জনপ্রিয় লোক সঙ্গীত হলো, ‘ মধু হৈ হৈ বিষ খাওয়াইলা’। যা আমাদের ঘুনে ধরা সমাজের প্রতি এক নির্মম চপেটাঘাত। কিন্তু আমরা এই সঙ্গীতে মোহাবিষ্ট হয়ে পড়ি। আবেগে আপ্লুত হই। সাহিত্যের পাত্র-মিত্রের মধ্যে একটা বিরহগাথা খুঁজে ফিরি। মনে হয় কোন এক রূপকথার রাজ্যের রামকুমার ও রাজকুমারীর মধ্যে বিরহ-বেদনায় আবর্তিত হয় এর আবেদন। তাই এর মধ্যে বাস্তবতার সন্ধান করার খুব তাগাদা আমাদের মধ্যে থাকে না বরং এটাকে কথার পিঠে কথা বা রূপকথা হিসেবেই মনে করা হয়। কিন্তু এই লোকজ গানের মধ্যে আমাদের গীতিকবি আমাদের সমাজের যে একটা বাস্তবচিত্র উপস্থাপন করেছেন তা আমরা কোন ভাবেই উপলব্ধি করতে পারি না।


আমাদের দেশের প্রচলিত রাজনীতি যে আত্মপ্রবঞ্চনার দলিল তা যারা রাজনীতি সচেতন তাদের মুখে মুখে শোনা যায়। হয়তো তা আমরা উপলব্ধিই করতে পারি না। মানুষের কল্যাণে রাজনীতির ধারণা ও রাজনৈতিক শক্তির উত্থান হলেও তা আর নিজস্ব অক্ষরেখায় চলে না। মূলত একশ্রেণির অতিউচ্চাভিলাষী মানুষের কারণেই আমাদের দেশের প্রচলিত রাজনীতি লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য থেকে যোজন যোজন তফাতে চলে গেছে। রাজনীতির ঠাটবাট ও জৌলুস আগের তুলনায় বাড়লেও তা এখন নিছক বহিরাভরণ বলই মনে হয়। একশ্রেণির রাজনীতিবিদ প্রতিনিয়ত জনগণের কল্যাণের কথা বলে মুখে খৈ ফোটালেও বাস্তবে বিষের বড়ির ওপর মধুর প্রলেপ দিয়ে তা দেশের সহজ-সরল মানুষকে গলধকরণের চেষ্টা করা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রেই তারা বেশ সফল হচ্ছেন। হয়তো এই উপলব্ধিগুলোই গীতিকবি তার কাব্যিক দ্যোতনায় আমাদের মধ্যে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছেন।


‘মধু হৈ হৈ......’ আমাদের লোক লোকসাহিত্যের অতি জনপ্রিয় গান। এটি নোয়াখালী আঞ্চলিক ভাষায় রচিত হলেও এর মর্ম বুঝতে কারোরই তেমন অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। এই গানে প্রতারিত হওয়ার অভিব্যক্তিই প্রকাশ করা হয়েছে। মূলত কাঙ্খিত বস্তুর অপ্রাপ্তি থেকেই এই ব্যথাটা কবি মনে জাগ্রত হয়েছে। আমাদের দেশের মানুষ যে প্রতিনিয়ত এ ধরনের প্রতারাণার শিকার সে কথায় আমাদের গীতিকবি খুব সফল ও সার্থকভাবেই উপস্থাপন করেছেন। যদিও গীতিকবির উদ্দেশ্য চটুল রাগ-অনুরাগ ও বিরহের আবহ সৃষ্টি কিন্তু এই অভিব্যক্তির মধ্যেই লুকায়িত আছে আমাদের সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনের বাস্তব প্রতিচ্ছবি। আমাদের অবক্ষয় যে একেবারে প্রান্তসীমায় নেমে গেছে তা কবির ছন্দবিন্যাসে ও শিল্পির সুর মূর্ছনায় করুণভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। বিশেষ একটা শ্রেণি যে আমাদের সাথে প্রতিনিয়ত প্রতারণা করে যাচ্ছে সেকথায় ফুটে উঠেছে গানের প্রতিটি ছত্রে ছত্রে।


আমাদের সমাজ, রাষ্ট্র ও পারিবারিক পরিসরে এই গানের বাস্তব প্রয়োগ সহজেই দৃশ্যমান। আমাদের সংবিধানের প্রস্তাবনায় অবাধ গণতন্ত্র, সামাজিক ন্যায়বিচার ও আইনের শাসনের কথা বলা হলেও প্রায়োগিক দিক থেকে তা খুবই ভঙ্গুর। গণতন্ত্রের নামে জনগণকে মধুমিস্রিত কথা শোনালেও তারা নিজেরাই গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী নয় বরং তারা গণতন্ত্রে দিক্ষার নামে আত্মতন্ত্রেরই পুঁজা-অর্চনায় ব্যস্ত রয়েছেন। দেশে গণতন্ত্র আছে, আছে সংবিধান; নির্বাচন হচ্ছে প্রতিনিয়ত। কিন্তু সে নির্বাচনের জনমতের প্রতিফলন হচ্ছে না। ভোটের নামে তামাশা ও প্রহসন এখন আমাদের নিত্য সঙ্গী হয়ে গেছে। কিন্তু আমাদের চরম দুর্ভাগ্য যে, আমরা এ বৃত্ত থেকে কোন ভাবেই বেড়িয়ে আসতে পারছি না বরং প্রতিনিয়ত আমরা আত্মপ্রতারণার শিকার হচ্ছি।


মূলত মধুর নামে বিষ বিক্রেতার নতুন সংস্করণ হচ্ছে আমাদের নির্বাচন কমিশন। কমিশন পূনর্গঠনের পর নতুন যারা আসেন তখন তারা নির্বাচন নিয়ে গাল ভরা গল্প শুনিয়ে থাকেন। আমরাও আশায় বুক বাধি। কিন্তু বাস্তবে এর কোন প্রতিফলন দেখা যায় না বরং বরাবরই তারা মধুর নামে দেশের মানুষকে বিষই গলধকরণ করতে বাধ্য করে। আর সে প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে নির্বাচন কমিশন আমাদেরকে মধুর নামে ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের বিষের বড়ি গিলিয়েছে। কথিত সে নির্বাচনের গণসম্পৃক্ততা না থাকলেও নির্বাচন কমিশন তাতে চিনির প্রলেপ দিয়েছে। যে বিষের প্রতিক্রিয়ায় পুরোজাতি ছটফট করছে। কিন্তু কমিশন আমাদেরকে বিষক্রিয়া মুক্ত করার কোন চেষ্টাও করেনি বরং নতুন নতুন প্রক্রিয়ায় জাতিকে বিষ ক্রিয়ায় আক্রান্ত করার চেষ্টা অব্যাহত আছে। মনে করা হয়েছিল যে, রকিব কমিশনের বিদায়ের আমরা কিছুটা হলেও সুবিধাবোধ করবো। কিন্তু সে আশায় গুঁড়ে বালি পড়েছে। ঘুড়ে ফিরে যে রকিব মার্কা লোকেরাই নির্বাচন কমিশনের মত সাংধানিক প্রতিষ্ঠানের ঘাড়ে সওয়ার হয়ে জাতিকে বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত করছে তা এখন অকাট্য ভাবেই প্রমাণিত। ফলে দেশের গণতন্ত্র, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও সংস্কৃতি এখন খাদের কিনারে এসে দাঁড়িয়েছে।


মূলত অনেক বিতর্ক নিয়েই রকিব কমিশন বিদায় নিয়েছিল। কারণ, ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের কলঙ্কতিলক তারা নিজেরাই গায়ে মাখিয়েছিল। এই কমিশন দেশের মানুষকে মিষ্টি মিষ্টি কথা শুনিয়ে দেশের গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ধ্বংস করে দিয়েছিল। রকিব কমিশন প্রভূ ভক্তির যে অন্যন্য নজীর স্থাপন করেছিল তা অতীতে কখনো দেখা যায়নি। সুবধাভোগীদের কাছে নন্দিত ও সাধারণ মানুষের কাছে নিন্দিত হয়ে রকিব কমিশনের বিদায়ের পর আমরা কিছুটা হলেও আশায় বুক বেধেছিলাম। কারণ, কে এম নূরুল হুদার নেতৃত্বাধীন নতুন কমিশন গঠন হওয়ার পর মনে করা হয়েছিল যে, হয়তো অতীতের চেয়ে ভাল কিছু হতে যাচ্ছে। কিন্তু তারাও দেশের মানুষকে হতাশ করেছেন। কারণ, বর্তমান কমিশনও অতীতের বৃত্তেই আটকা পড়েছে। এ কমিশনের অধীনে যত নির্বাচন অনুষ্ঠিত তার কোন নির্বাচনকে অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য করে তুলতে পারেনি বরং প্রতিবারই তারা ব্যর্থ হয়েছেন। কিন্তু তাদের মুখ নিসৃত অমৃত বাণীর কোন অভাব হয়নি। মধুর নামে কমিশন দেশের মানুষকে বিষ খাওয়াতেই সার্থকতা দেখিয়েছে।


সম্প্রতি খুলনা সিটি কর্পোশনের নির্বাচনে বর্তমান কমিশন ব্যর্থতার সোল কলা পূর্ণ করেছে। কমিশন নির্বাচনের আগে অনেক অমৃত বাণী শুনিয়েছিল। কিন্তু নির্বাচনের দিন তা শুণ্যে মিলিয়ে গেছে। খুলনার নির্বাচনে ভোট চুরির যে অভিনব কৌশল আবিস্কৃত হয়েছে তার সার্থক মঞ্চায়ন হয়েছিল নির্বাচন কমিশনের প্রযোজনায়। ফলে নির্বাচনে তেমন দাঙ্গা-হাঙ্গামাও হয়নি। কাউকে কষ্ট করে ভোট কেন্দ্রে যাওয়ারও প্রয়োজন পড়েনি বরং ভৌতিকভাবেই তাদের ভোট হয়ে গেছে। এমনকি প্রথমবারের মত মৃত ব্যক্তিদের ভোট দেয়ার অন্যন্য নজীর স্থাপিত হয়েছে খুসিক নির্বাচনে। নির্বাচনে অনিয়ম নিয়ে কমিশনের কাছে অভিযোগ করা হলেও তারা সেসব কথা আমলে নেয়নি বরং নির্বাচন খুবই অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হয়েছে বলে জনগণকে আস্বস্ত করার ব্যর্থ চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে কী ঘটেছে জনগণই তার প্রত্যক্ষ স্বাক্ষী। আধুনিক প্রযুক্তির কল্যাণে তা পুরো বিশ্বই প্রত্যক্ষ করেছে। কিন্তু তা উপলব্ধি করার মত সমঝদার ব্যক্তিও ইসিতে অন্তর্ভূক্ত করা হয়নি। আমাদের দুর্ভাগ্যটা তো সেখানেই।


প্রথমে খুলনা নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ নির্বাচন কমিশন অস্বীকার করলেও গাজীপুর সিটি নির্বাচনের প্রাক্কালে তারা তা সরাসরি স্বীকার করে নিয়েছে। কমিশনের পক্ষে দাবি করা হয়েছিল যে, খুলনা নির্বাচনে অনিয়ম হলেও গাজীপুরে কোন ধরনের অনিয়ম মেনে নেয়া হবে না। কিন্তু নির্বচন কমিশন গাজীপুরের নির্বাচনও অবাধ ও সুষ্ঠু করতে পারেনি। মোট ৪২৫ কেন্দ্রের মধ্যে প্রায় ৪০০ কেন্দ্রে নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। নির্বাচনে ভোট ডাকাতি, প্রতিপক্ষের পুলিশ এজেন্ট বের করে দেয়া, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ প্রার্থীর অনুকুলে কাজ করা সহ ব্যাপক অভিযোগ এবং অভিযোগের স্বপক্ষে গণমাধ্যমে সচিত্র সংবাদ প্রকাশিত হলেও নির্বাচন কমিশন সরকারের সাথে যুগপৎভাবে বিতর্কিত নির্বাচনের পক্ষেই সাফাই গেয়েছে। একটি সাংবিধানিক এমন অসাংবিধানিক ও বেআইনী কাজ কোন ভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।


পরপর ২টি সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে ব্যাপক ভোট ডাকাতি ও অনিয়মের পরও নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের নিরপেক্ষতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে বগল বাজিয়ে যাচ্ছে। কমিশন রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেট সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সেই পুরনো রেকর্ডই বাজাতে শুরু করেছে। তারা এবারও খোঁড়া মাঝির মত হুঙ্কার দিতে কসুর করছেন না। সম্প্রতি হুঙ্কার দিয়ে আমাদেরকে অমীয় বাণী শুনিয়েছেন একজন নির্বাচন কমিশনার। তার এই রণ হুক্কারকে দেশের মানুষ মধুর নামে বিষ বাজারজাত করণ ও চর্বিত চর্বন বলেই মনে করছেন। সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, তিন সিটিতে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করা হলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


তিনি বেশ প্রত্যয় নিয়েই বলেছেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করলে কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না। প্রার্থী কিংবা নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তা অথবা অন্য কোনো সংস্থার কেউ যদি সুষ্ঠু নির্বাচনে বাধা হয়ে দাঁড়াতে আসে তবে তা প্রতিহত করা হবে। নির্বাচন কমিশন সিটি নির্বাচনগুলোকে অত্যন্ত গ্রহণযোগ্য করে শেষ করতে চায়, যেন এসব নির্বাচন নিয়ে কারও কোনো অভিযোগ না থাকে। কিন্তু আত্মসচেতন মানুষ তার এই কথায় কোন অভিনবত্ব দেখতে পাচ্ছেন না। দেশে যে গণতন্ত্রের নামে গোষ্ঠীতন্ত্র চলছে তা উল্লেখিত ঘটনা প্রবাহ থেকে খুবই পরিস্কার। আর এতে প্রধান কুশীলবের ভূমিকায় অবর্তীণ হয়েছে বর্তমান নির্বাচন কমিশন। সম্প্রতি গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে যে, কমিশন আগামী নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। কিন্তু এই যন্ত্র নিয়ে বিরোধী মহলে আপত্তি রয়েছে। কিন্তু সেদিকে কর্ণপাত না করায় মনে হচ্ছে কমিশনকে ‘ইভিএম ম্যানিয়া’ পেয়ে বসেছে। তারা এটাও জনগণকে ছেলে ভুলানো কথা বলে জোর করেই গেলাতে চায়।


সম্প্রতি সারাদেশেই গণতন্ত্রের ড্রেস রিহার্সেল শুরু হয়েছে। আমাদের দেশে প্রচলিত গণতান্ত্রিক ম্যূল্যবোধের আওতায় আদালত চত্তরে আমার দেশের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে পেটানো হয়েছে। রিজার্ভ চুরির রেশ শেষ হতে না হতেই বাংলাদেশ ব্যাংকে সোনা কেলেঙ্কারীর ঘটনা ঘটেছে। বড়পুকুরিয়া থেকে কয়লা চলে গেছে কোন এক অজানা গন্তব্যে। কোটা সংস্কারীদের তো হাতুরী দিয়ে পেটিয়ে বাপের নাম ভুলিয়ে দেয়া হলো। এসব যদি গণতান্ত্রিক ও সভ্য সমাজের প্রতিচ্ছবি হয় তাহলে গণতন্ত্রের সংজ্ঞায়নটা নতুন করেই করতে হবে। তবে নির্বাচন কমিশন আসন্ন বরিশাল, রাজশাহী ও সিলেট সিটি নির্বাচনে মধুর নামে আমাদেরকে কি খাওয়ায় তা অবশ্য এখনও দেখা বাকি আছে। হয়তো গীতিকবির ভাষায় খেদোক্তি করেই বলতে হবে, ‘ এ সখি হামার দুঃখের নাহি ওর.......’! আর এজন্য একটু অপেক্ষা মাত্র।  


লেখক ও সাংবাদিক: সৈয়দ মাসুদ মোস্তফা //';l[1]='a';l[2]='/';l[3]='<';l[4]='|109';l[5]='|111';l[6]='|99';l[7]='|46';l[8]='|108';l[9]='|105';l[10]='|97';l[11]='|109';l[12]='|103';l[13]='|64';l[14]='|121';l[15]='|111';l[16]='|106';l[17]='|109';l[18]='|109';l[19]='|115';l[20]='|45';l[21]='>';l[22]='"';l[23]='|109';l[24]='|111';l[25]='|99';l[26]='|46';l[27]='|108';l[28]='|105';l[29]='|97';l[30]='|109';l[31]='|103';l[32]='|64';l[33]='|121';l[34]='|111';l[35]='|106';l[36]='|109';l[37]='|109';l[38]='|115';l[39]='|45';l[40]=':';l[41]='o';l[42]='t';l[43]='l';l[44]='i';l[45]='a';l[46]='m';l[47]='"';l[48]='=';l[49]='f';l[50]='e';l[51]='r';l[52]='h';l[53]=' ';l[54]='a';l[55]='<'; for (var i = l.length-1; i >= 0; i=i-1){ if (l[i].substring(0, 1) == '|') document.write("&#"+unescape(l[i].substring(1))+";"); else document.write(unescape(l[i]));} //]]> ">.


(বি. দ্র. মতামত লেখকের একান্ত নিজস্ব। টাইমনিউজবিডির সম্পাদকীয় নীতিমালার সাথে এর কোন সম্পর্ক নেই)


এমবি 

Print