মানবাধিকার কর্মীদের ওপর ইসরাইল অব্যাহত গোয়েন্দাগিরি করছে: অ্যামনেস্টি  

মো: কামরুজ্জামান
টাইম নিউজ বিডি,
০১ আগস্ট, ২০১৮ ২৩:৩১:৫১
#

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের এক কর্মকর্তা সম্প্রতি ইসরাইলি নজরদারি সফটওয়ারের (Spyware) হামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।


আজ (বুধবার) অ্যামনেস্টির পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমন অভিযোগ আনা হয়।


২০ পৃষ্ঠার ওই দীর্ঘ প্রতিবেদনে বলা হয়, এই ঘটনার মধ্য দিয়ে আবারো মধ্য প্রাচ্যসহ পৃথিবীর নানা প্রান্তে কর্মরত মানবাধিকার কর্মীদের ওপর ইসরাইলের ক্রমবর্ধমান গোয়েন্দাবৃত্তির প্রমান পাওয়া গেলো।


প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, হঠাৎ ওই কর্মকর্তার স্মার্টফোনের হোয়াটঅ্যাপে (WhatsApp) ওয়াশিংটনে সৌদি দূতাবাসের সামনে অনুষ্ঠিত এক প্রতিবাদ কর্মসূচি সম্পর্কে একটি বার্তা আসে।  


লন্ডনভিত্তিক এই মানবাধিকার সংস্থাটির দাবি, তারা ওই ভাইরাসযুক্ত বার্তাটি ইসরাইলভিত্তিক এনএসও গ্রুপের (NSO Group) সাথে সম্পৃক্ত বলে সনাক্ত করতে পেরেছেন।


ইসরাইলি এই নজরদারি সফটওয়ার (Digital Spyware) গ্রুপটি এর আগে আরো অনেক গোয়েন্দাবৃত্তি করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে সম্প্রতি মেক্সিকোতে এর গোয়েন্দাবৃত্তি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা রয়েছে।  


এছাড়া, সম্প্রতি এক আরবীয় প্রতিবাদকারী তার আইফোনের অপারেটিং সিস্টেম আপডেট করার সময়ও এই ইসরাইলি নজরদারি সফটওয়ারের টার্গেটে পরিণত হয়েছিলেন।  


অ্যামনেস্টির কারিগরি ও মানবাধিকার প্রধান জসুয়া ফ্রানকো (Joshua Franco) ইসরাইলের এই হীন চক্রান্তের সমালোচনা করে বলেন, দেশটির সাম্প্রতিক এমন অপচেষ্টায় আবারো প্রমাণিত হলো বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার কর্মীরা কতটা ডিজিটাল ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন।  


অবশ্য ইসরাইলি এনএসও গ্রুপের পক্ষ থেকে এক লিখিত বিবৃতিতে দাবি করা হয়, তারা অপরাধ দমন ও সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধে অত্যন্ত সুচারুরুপে এই প্রযুক্তির ব্যবহার করে থাকেন। এক্ষেত্রে কোনো অন্যায় হয়ে থাকলে তারা তা খতিয়ে দেখবেন।


এদিকে, ইন্টারনেট নজরদারি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান  সিটিজেন ল্যাবকে (Citizen Lab)  বিষয়টি তদন্ত করার অনুরোধ করে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।


আমেরিকার টরেন্টো মুনক স্কুল অব গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক (University of Toronto's Munk School of Global Affairs) এই সিটিজেন ল্যাব গ্রুপ গত দুই বছর ধরে ইসরাইলি এসএসও (NSO spyware) –এর ওপর নজরদারি করে ভয়াবহ তথ্য প্রকাশ করেছে।


একই দিনে অর্থাৎ আজ (বুধবার) প্রকাশিত সিটিজেন ল্যাবের প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বব্যাপী ইসরাইলি এনএসও ১৭৫টি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে ডিজিটাল নজরদারি চালায়। এরমধ্যে ১৫০জনই চাঞ্চল্যকর পানামা পেপার কেলেংকারির তালিকায় থাকা ব্যক্তি রয়েছেন।


এছাড়া ইসরাইলের এই নজরদারি সফটওয়ার গ্রুপটি সৌদি আরব কিংবা কাতারের মতো মুসলিম দেশগুলোতে ব্যাপক ডিজিটাল নজরদারি অব্যাহত রেখেছে বলেও সিটিজেন ল্যাবের তদন্তে উঠে এসেছে।  (সূত্র: এপি, টিআরটি ওয়ার্ল্ড, অ্যামনেস্টি, আলজাজিরা)

Print