চর দখলের নির্বাচন..!

সৈয়দ মাসুদ মোস্তফা, সিনিয়র সাংবাদিক ও কলামিষ্ট
টাইম নিউজ বিডি,
০২ আগস্ট, ২০১৮ ২১:৫৯:৫৩
#

দেশে গণতন্ত্রের নামে চর দখলের নির্বাচন চলছে। জনগণের ভোটাধিকার একশ্রেণির মানুষের তামাশা ও প্রহসনের বস্তুতে পরিণত হয়েছে। প্রমত্তা নদীতে চর জেগে ওঠার সাথে সাথে একশ্রেণির দূর্বৃত্তের মধ্যে একটা চর দখলের প্রতিযোগিতা শুরু হয়। শক্তি-সামর্থে যারা এগিয়ে থাকে তারাই সেই চরের মালিক-মুক্তার বনে যায়। এই চর দখলকে কেন্দ্র করে ক্ষেত্র বিশেষে অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটে। এমনকি তা কখনো কখনো প্রাণঘাতি ও রক্তাক্ত পরিস্থিতিরও সৃষ্টি করে। সেখানে আইন, যৌক্তিকতা ও উপযোগীতা সবই অকার্যকর। ‘জোর যার চর তার’ এটাই চর দখলের নিয়মে পরিণত হয়েছে। আমাদের দেশের নির্বাচন ব্যবস্থাকে সেই প্রান্তিকতার দিকেই নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন অভিজ্ঞমহল। আর কাজ বেশ সফলতার সাথেই করেছে আমাদের নির্বাচন কমিশন।


এতদিন আমরা চর দখলে দুরবৃত্তপনার কথা শুনে এসেছি। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে তা আর চরের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি বরং ব্যাপকভাবে এর বিস্তৃতি ঘটেছে। এখনকি তা রীতিমত রাজনীতিতেও স্থান করে নিয়েছে। সাবেক প্রধান বিচারপতি হাবিবুর রহমান খেদোক্তি করেই বলেছিলেন, দেশ এখন বাজিকরদের হাতে চলে গেছে। তার এই বক্তব্য নিয়ে কেউ কেঊ উষ্মা প্রকাশ করলেও বাস্তবতার বিষয়টি মোটেই উপেক্ষা করার মত নয়। কারণ, দেশে একটি প্রতিষ্ঠিত সরকার থাকা স্বত্ত্বেও দখলবাজ, চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজের দৌড়াত্বে দেশের মানুষ যে অতিষ্ট হয়ে উঠেছেন তার সরল অভিব্যক্তির প্রকাশ করেছিলেন বিচারপতি হাবিবুর রহমান। মূলত দেশের সকল কিছুই এখন রীতিমত বাজীকরদের নিয়ন্ত্রণে। কারণ, দেশে এখন আইন ও সাংবিধানিক শাসন গৌণ হয়ে উঠেছে। তার পরিবর্তে স্থান করে নিয়েছে বাজীকরী উম্মাদনা। যা আমাদের জতীয় জীবনী শুক্তিকে মৃতপ্রায় করেছে ফেলেছে।


এখন এই বাজীকরদের ঢেউ আছড়ে পড়েছে দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থার ওপর। দেশের সকল নির্বাচনেরই জনমতের প্রতিফলন হওয়ার কথা। কিন্তু সে ক্ষেত্রে প্রতিফলন ঘটছে পেশী শক্তির। মূলত গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের এই চরম অধপতনটা শুরু হয়েছিল সাবেক আমলা কাজী রকিব উদ্দীনের নেতৃত্বাধীন রকিব কমিশনের সময় থেকে। এর আগে আমাদের দেশের গণতন্ত্র পুরোপুরি ত্রুটিমুক্ত ছিলো এমনটা বলার কোন সুযোগ নেই। তবে রকিব কমিশনের সময়ে এই অধোগতির মাত্রাটা যে জোরালো হয়েছিল তা কোন বিবেকবান মানুষ অস্বীকার করেন না।


মূলত কিভাবে জনগণকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করে গণতন্ত্রের নামে আত্মতন্ত্রী হয়ে ওঠা যায় তার সব কলাকৌশল ভাল ভাবেই রপ্ত করতে সমর্থ হয়েছিল রকিব কমিশন। বর্তমান হুদা কমিশন তা উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছে এবং সাবেক ও বর্তমান কমিশনের অভিজ্ঞানের সমন্বয়ে এই প্রক্রিয়া আরও পরিপুষ্ট ও পরিশীলিত হয়েছে। নির্বাচনকে প্রভাবিত করার জন্য নতুন নতুন ও অভিনব কলাকৌশলও আবিস্কৃত হয়েছে। আর নতুন কমিশনের ইভিএম ম্যানিয়ার কারণে এতে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। তাই আগামী দিনে নির্বাচন প্রভাবিত করার জন্য সর্বোচ্চ প্রযুক্তির ব্যবহারও নিশ্চিত করা হবে বলেই মনে করা হচ্ছে।


দেশের নির্বাচন ব্যবস্থায় যে কতখানি অধপতন হয়েছে তা পরিমাণ করার মত অবস্থাও এখন আছে বলে মনে হয় না। খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে দেশে ৫টি সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন হয়ে গেল। সিটি কর্পোরেশন স্থানীয় সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের প্রতিষ্ঠান। সঙ্গত কারণেই এই নির্বাচন রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য ছিল সত্যিই মর্যাদার লড়াই। আশা করা হয়েছিল যে, সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক দলগুলো আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তাদের শক্তি-সামর্থ যাচাই করে আগামীতে তাদের করণীয় নির্ধারণ করে নিতে পারবে। আর নির্বাচন কমিশন সাংবিধানিক দায়িত্বের আওতায় সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। কিন্তু দুঃখজনক হলো যে, কমিশনের উপর্যুপরি ব্যর্থতার কারণেই সে আশা তিরোহিত হয়েছে। কমিশন নির্বাচনকে অবাধ ও নিরপেক্ষ করার জন্য অনেক বড় কথা শুনিয়েছে। কিন্তু নির্বাচনে এই সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে সক্রিয় দেখা যায়নি বরং অতিমাত্রায় নিষ্ক্রিয়তার কারণেই যা হবার তাই হয়েছে। জনগণ ভোট দিতে পারেনি। কিন্তু বাক্স ভর্তিতে কোন সমস্যা হয়নি। জনমনে একথা জোড়ালো ভিত্তি পেয়েছে যে, নির্বাচনী ফলাফল হয়েছে পূর্ব নির্ধারিত ছক অনুযায়ি। এক সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের এর চেয়ে বড় ব্যর্থতা আর কি-ই বা হতে পারে।


অনেক ঢাক-ঢোল পিটিয়ে হুদা কমিশন জাতিকে অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দেয়ার প্রত্যয় ঘোষণা করলেও সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে তার বিন্দুমাত্র প্রতিফলন লক্ষ্য করা যায়নি বরং কমিশনের কর্মতৎপরতা একটি বৃত্তকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে। ফলে নির্বাচনে জনমতের নূন্যতম প্রতিফলন ঘটেনি। নির্বাচন কমিশনের মত সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের সংবিধান ও আইন লঙ্ঘনের মহড়া অতীতের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। বর্তমান নির্বাচন কমিশন যে জনগণের ভোটাধিকার নিয়ে রীতিমত তামাশা ও প্রহসনে লিপ্ত হয়েছে তা চক্ষুষ্মান মাত্রই উপলব্ধি করতে পারেন। কিন্তু জাতিকে এমন বাজে নির্বাচন উপহার দিয়ে আত্মতৃপ্তির ঢেকুর তুলছেন। যা জনগণের সাথে উপহাস বলেই মনে করছেন অভিজ্ঞমহল।


নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্ব অভিযোগ নতুন কিছু নয়। এ অভিযোগ অতীতে ছিল, এখনও আছে এবং আগামী দিনেও থাকবে। আর এসব অভিযোগ ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভিন্নমত পোষণকে বিদায়ী মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট গণতন্ত্রের সৌন্দর্য বলে আখ্যা দিয়েছেন। কমিশনের কাজ যে শতভাগ ত্রুটিমুক্ত হবে এমনটা আশা করাও যৌক্তিক নয়। আর মার্কিন রাষ্ট্রদূত হয়তো তার দেশের গণতন্ত্রের প্রেক্ষাপটে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আলোচনা-সমালোচনাকে গণতন্ত্রের সৌন্দর্য্য বলে আখ্যা দিয়েছেন। কিন্তু আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে তা প্রযোজ্য বলে মনে হয় না। কারণ, কথিত নির্বাচনের নামে কমিশন যা করছে তাকে ‘পুতুল নাচ’ বলায় অধিক যুক্তিযুক্ত। সদ্য সমাপ্ত সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন কমিশনের ব্যর্থতা ও অযোগ্যতার দলিল। তাই এসব অভিযোগকে লঘু করে দেখার কোন সুযোগ নেই বরং আইনজ্ঞরা নির্বাচন কমিশনের এমন ইচ্ছাকৃত ব্যর্থতা পেশাগত অসদাচারণ ও সংবিধান লংঘন হিসেবেই দেখছেন।


কমিশন নির্বাচন নিয়ে অনেক কথা বললেও তারা যে কতখানি সফল ও সার্থক হবেন তা শুরুতেই বোঝা গিয়েছিল। মূলত খুলনা ও গাজীপুর সিটির নির্বাচন  নির্বাচনেই কমিশনের নিরপেক্ষতা ও শক্তি-সামর্থ সুষ্পষ্ট হয়ে ওঠে। শুরুতে এসব নির্বাচনে কোন ত্রুটি-বিচ্যুতি হয়েছে এমনটা স্বীকারই করতে চায়নি নির্বাচন কমিশন। কিন্তু পরে বাস্তবতা পুরোপুরি উপেক্ষা করা সম্ভব হয়নি বরং খোদ প্রধান নির্বাচন কমিশনারই স্বীকার করে নিয়েছেন যে, আগের নির্বাচনগুলো কিছুটা হলেও অনিয়ম হয়েছে। তাই তিন সিটির নির্বাচন খুলনা ও গাজীপুরের মতো হবে না বলেই কমিশন জনগণকে আশ্বস্ত করেছিল। অবশ্য সদ্য সমাপ্ত তিন সিটির নির্বাচন খুলনা ও গাজীপুরের মত হয় সত্য। কিন্তু সার্বিক পরিস্থিতি যে আরও খারাপ ছিল একথা তো কেউ অস্বীকার করতে পারছেন না।


সিলেটে বিএনপি প্রার্থী এগিয়ে থাকলেও সেখানেও মারাত্মক শুভঙ্করের ফাঁকি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। মূলত রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে চিনির প্রলেপযুক্ত বিষের বড়ি গেলানোর জন্যই সিলেটে ‘মিছরির ছুড়ি’ ব্যবহার করা হয়েছে বলে মনে করেন অভিজ্ঞমহল। যেখানে কেন্দ্র দখল করে সরকারি দলের প্রার্থীর অনুকুলে গণহারে সিল মারার অভিযোগ রয়েছে। সেখানে বিএনপি প্রার্থী জেতার মাধ্যমে প্রামাণ হয়েছে যে, বর্তমান নির্বাচন কমিশন বিশেষ গোষ্ঠীর এজেন্ডা বাস্তবায়নে ব্যস্ত রয়েছে। তাই এই কমিশনের অধীনে কোন নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে বলে আস্বস্ত হওয়ার কোন কারণ আছে বলে মনে হয় না।


সিলেট, রাজশাহী ও বরিশাল সিটির নির্বাচনে ব্যালট শেষ হওয়ার মত অভিনব সমস্যার কথা শোনা গেছে। আমি নিজেও কোন এক নির্বাচনে প্রিজাইডিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করেছি। প্রতিটি কেন্দ্রের ভোটার সংখ্যার অনুকুলে নির্দিষ্ট সংখ্যক ব্যালট নির্বাচনের আগের রাতেই প্রিজাইডিং অফিসারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এখানে ভোটার সংখ্যার চাইতে একটা ব্যালটও কম থাকার কথা নয়। তাই ব্যালট শেষ হওয়াকে দায়িত্ব পালনরত নির্বাচন কর্মকর্তার চৌর্যবৃত্তি বললে অত্যুক্তি হওয়ার কথা নয়। এতে প্রমাণিত হয় যে, নির্বাচনের ভোটারদের ভোট দেয়ার প্রয়োজন হয়নি। কারণ, বহু কেন্দ্রে ভোটাররা কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারেন নি বরং কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ তাদেরকে জানিয়েছেন তাদের ভোট ইতোমধ্যেই দেয়া হয়েছে। কারা এই ভোট দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তার কোন সদুত্তর দিতে পারেননি। কোথাও ভোটাররা লাইনে থাকা অবস্থাতেই ব্যালট পেপার শেষ। সেই শুভংকরের অঙ্কেই প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে আট গুণ বেশি ভোট। এতে কোন সুস্থ্য বিবেক সম্পন্ন মানুষের বুঝতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয় যে, আসলে নির্বাচনে কী হয়েছে! জনগণের ভোটাধিকারের নামে এমন প্রহসন ও তামাশা বিশে^র আর কোথাও হয়েছে বলে জানা যায় না।


তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে কে এম নুরুল হুদার নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন নির্বাচনী ইতিহাসে এক ব্যতিক্রমী কান্ড ঘটিয়েছে। এটিকে বাংলাদেশের নির্বাচনের ইতিহাসে কলঙ্কজনক অধ্যায় বললে অত্যুক্তি হওয়ার কথা নয়।  এবারের নির্বাচনে তিন সিটিতে ভিন্ন তিন চিত্র আমরা প্রত্যক্ষ করেছি। সিলেটে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বদরউদ্দিন আহমদ কামরান ও বিএনপির আরিফুল হকের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দি¦তা হয়েছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত আরিফুল হক সাড়ে চার হাজার ভোটে এগিয়ে ছিলেন। দুটি কেন্দ্রের ভোট স্থগিত থাকায় রিটার্নিং কর্মকর্তা তাঁকে বিজয়ী ঘোষণা করতে পারেননি। এ ব্যাপারে কমিশনের যে দৃষ্টিভঙ্গী তাতে বিএনপির প্রার্থী জয়ী হওয়ার বিষয়টি প্রায় নিশ্চিত।


রাজশাহীতে বিএনপির প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল ব্যাপক ভোট কারচুপি, জবরদস্তি ও নির্বাচনী এজেন্টদের বের করে দেওয়ার প্রতিবাদে নিজে ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকেন এবং একটি কেন্দ্রের মাঠে সাড়ে চার ঘণ্টা অবস্থান নিয়ে নির্বাচন কমিশনের ব্যর্থতা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেন। সেখানে শুরু থেকেই আওয়ামী লীগের প্রার্থী খায়রুজ্জামান লিটন শিবিরে ছিল বিজয়ের উল্লাস। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে সবার আগে ঘোষণা করা রাজশাহীর ফলে দেখা যায়, বিএনপির চেয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ৯০ হাজারের বেশি ভোটে জয়ী হয়েছেন। ২০১৩ সালে বুলবুল বিশাল ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন। যা কোন ভাবেই বাস্তবসম্মত নয়।


সবচেয়ে বেশি অবাক করেছে বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ফলাফল। সেখানে প্রায় সব কেন্দ্রে ভোর থেকেই আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পক্ষে দখলদারি শুরু হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্র থেকেই জানা গেছে। পরিস্থিতি প্রতিকুল দেখে বিএনপির প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ারের সঙ্গে বাসদ, ইসলামী আন্দোলন, সিপিবির প্রার্থীও ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন। সর্বশেষ ফলাফলে দেখা যায়, বিএনপির প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ারের চেয়ে আট গুণ বেশি ভোট পেয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ। কিন্তু অতীত পরিসংখ্যান বলে ভিন্ন কথা। ১৯৭৩ সালের পর থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত বরিশাল কোনো নির্বাচনেই সদর আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জিততে পারেননি। এমনকি ২০০৮ সালের নির্বাচনে সারা দেশে বিএনপির ভরাডুবি ঘটলেও মজিবর রহমান সরোয়ার আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে হারিয়ে জয়ী হন। এবার তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থীর ১ লাখ ৭ হাজার ভোটের বিপরীতে ১৩ হাজার ভোট পেয়েছেন। সেখানে এত ভৌতিক ভোট আসার কিছু চিত্র গণমাধ্যমে এসেছে।


খুলনা সিটি করপোরেশনে ‘নিয়ন্ত্রিত’ নির্বাচন হওয়ার পর অনেকেই আশা করেছিলেন গাজীপুরের ভোটটি হয়তো ভালো হবে। তা হয়নি। বরং গাজীপুরে খুলনার আড়াল সরিয়ে ভোটকেন্দ্রে বিশেষ এক প্রার্থীর পক্ষেই ব্যাপক দৌরাত্ম্য ঘটে। তারপরও বরিশাল, রাজশাহী ও সিলেটের নির্বাচনে ভিন্নতর কিছুর ক্ষীণ একটি আশা মানুষের মধ্যে ছিল। কিন্তু ভোটকেন্দ্রে সহিংসতা, হামলা, নির্বাচনী এজেন্টদের বের করে দেওয়ার মধ্য দিয়ে জনগণের সে আশা পূরুণ হয়নি। বরং নির্বাচন কমিশন যে বিশেষ গোষ্ঠীর এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে তৎপর তা আবারও প্রমাণ হয়েছে।


মূলত দেশে চর দখলের গণতন্ত্র শুরু হয়েছে। এই প্রক্রিয়া কাজী রকিব কমিশন শুরু করলেও তা ফুলে-ফলে সুশোভিত করেছে বর্তমান হুদা কমিশন। সাংবিধানিক দায়িত্বে থেকে এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের এ ধরনের সংবিধান লঙ্ঘনের ঘটনা অতীতে আর কখনো দেখা যায়নি। রকিব কমিশন বিদায় নেয়ার পর অনেকে আশাবাদী ছিলেন যে, নতুন তথা হুদা কমিশন অপেক্ষাকৃত ভাল কিছু করবেন। কিন্তু আমরা ভুলেই বসেছিলাম যে, সাবেক আমলা কাজী রকিব উদ্দীন আহমদ নির্বাচন কমিশনে দায়িত্ব নেয়ার পর বিতর্কিত হয়েছিলেন। কিন্তু কে এম নূরুল হুদা জনতার মঞ্চের মাধ্যমে বিতর্কিত হয়েই কমিশনে এসেছেন। তাই তার কাছে ভাল কিছু আশা করা অনাকাঙ্খিতই হবে বৈকি ! তবে চর দখলের নির্বাচন যে কারো জন্যই সুফল বয়ে আনবে না তা প্রায় নিশ্চিত।


সৈয়দ মাসুদ মোস্তফা/এসএম

Print