অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই লঞ্চ থেকে পড়ে মেঘনায় যুবক নিখোঁজ

পিরোজপুর করেসপন্ডেন্ট
টাইম নিউজ বিডি,
২১ আগস্ট, ২০১৮ ১৭:৪৪:১২
#

কানায় কানায় পূর্ণ লঞ্চ। আসন না পেয়ে কার্নিশে দাঁড়িয়ে ছিলেন চট্টগ্রামের পোশাকশ্রমিক বাচ্চু (২৭)। সেখানেও জায়গা হয়নি তার। লঞ্চ বোঝাই যাত্রীদের ধাক্কায় মেঘনায় পড়ে নিখোঁজ হয়েছেন তিনি।


বাচ্চুর গ্রামের বাড়ি পিরোজপুরের ইন্দুরকানীতে। ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। মঙ্গলবার ভোরে চাঁদপুর থেকে বরিশালে যাওয়ার জন্য এমভি আরএ জমজম লঞ্চে ওঠেন বাচ্চু। অতিরিক্ত যাত্রীর চাপে লঞ্চটি ছিল দোদুল্যমান। যাত্রীদের দাঁড়ানোর মতো কোন জায়গা ছিল না। বাধ্য হয়ে লঞ্চের কার্নিশে দাঁড়িয়ে যাত্রা শুরু করেন বাচ্চু। ভোর পাঁচটার দিকে যাত্রীদের চাপাচাপি ও উত্তাল ঢেউয়ের আঘাতে লঞ্চ থেকে ছিটকে নদীতে পড়ে যান বাচ্চু।


জমজ দুই পুত্র সন্তানের পিতা বাচ্চু পরিবারের সাথে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করতে চট্টগ্রাম থেকে ইন্দুরকানীর বাড়িতে ফিরছিলেন। বাচ্চুর সহযাত্রী ও চাচাতো ভাই আরিফুল ইসলাম জানান, তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। ওই অবস্থায় লঞ্চ থামিয়ে কিছু সময় সন্ধান করা হয়। কিন্তু তাকে পাওয়া যায়নি ।

অপর এক সহযাত্রী পত্তাশী গ্রামের কালাম জানান, নদীতে পড়ে যাওয়ার পরে সে দুই বার হাত তুলে ছিল। আমরা তাকে উদ্ধার করতে পারি নাই। আমরা একই গার্মেন্টসে চাকরি করতাম। বাচ্চু বাড়িতে যাওয়ার জন্য খুব উদগ্রীব ছিল। বাড়িতে ওর জমজ সন্তান রয়েছে। সবার জন্য ব্যাগ ভরে কেনাকাটা করেছিলো বাচ্চু।


এদিকে পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামে বাচ্চুর বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। ছেলে নিখোঁজের খবরে বারবার মুর্ছা যাচ্ছেন মা মর্জিনা বেগম। আর স্ত্রী রেহেনা বেগম জমজ দুই সন্তান রাকিব ও রাহাতকে নিয়ে নির্বাক হয়ে পড়েছেন। বাচ্চুর পিতা মজিবুর রহমান হাওলাদার একজন বর্গাচাষী। বাচ্চু সংসারের অধিকাংশ ব্যয়ভার বহন করতেন।

Print