চীন-মালয়েশিয়া সম্পর্ক কোন পথে?

মাসুম খলিলী
টাইম নিউজ বিডি,
০২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ২১:৪৪:৩৬
#

এশিয়ার প্রধান শক্তি চীন এবং আশিয়ানের শক্তিমান অর্থনীতির দেশ মালয়েশিয়া সমুদ্রসীমান্ত বিবেচনায় দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্র। এই দুই দেশের সম্পর্কে সহযোগিতার নানা ক্ষেত্র যেমন রয়েছে তেমনি রয়েছে দ্বন্দ্ব-সঙ্ঘাতের কিছু ইস্যুও।


মালয়েশিয়ার সাম্প্রতিক নির্বাচনের আগে নাজিব রাজাকের সরকার চীনের সাথে বেশ কিছু বিনিয়োগ চুক্তি করেন, যেগুলো প্রধানত চীনের অগ্রাধিকার উদ্যোগ ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড’ (বিআরআই) প্রকল্পের সাথে যুক্ত।


এসব চুক্তির স্বচ্ছতা নিয়ে ছিল নানা প্রশ্ন। ধারণা করা হয়, নাজিবের সরকার ক্ষমতা অব্যাহত রাখার ব্যাপারে পাশ্চাত্যের সমর্থন নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়ে বেপরোয়া ধরনের কিছু চুক্তি করেছেন চীনের সাথে, যা দেশটির জাতীয় স্বার্থের সাথে সেভাবে যায় না।


মাহাথির মোহাম্মদ ক্ষমতায় যাওয়ার পর এর বেশ ক’টি চুক্তি ও সমঝোতা স্থগিত করেন এবং মালয়েশিয়ার স্বার্থকে সামনে রেখে এসব নিয়ে নতুন করে দর কষাকষির ইঙ্গিত দেন।


এর মধ্যে মাহাথির গত সপ্তাহে চার দিনের সফর শেষ করেছেন চীনে। মালয়েশিয়ার অ-বারিসান সরকারের নতুন অধ্যায়ে চীন-মালয়েশিয়ার সম্পর্ক কোন দিকে গড়াবে তা বোঝার জন্য এই সফরটি ছিল বেশ গুরুত্বপূর্ণ। ফলে এর প্রতি পর্যবেক্ষকদের রয়েছে বিশেষ দৃষ্টি।


এই দুই দেশের মধ্যে দক্ষিণ চীন সমুদ্র নিয়ে রয়েছে বিরোধ। মালয়েশিয়া মনে করে তার নিজস্ব সমুদ্রসীমার মধ্যে চীন তার অধিকার দাবি করছে। এই বিরোধ গড়িয়েছে আন্তর্জাতিক আদালত পর্যন্ত।


বেইজিং অবশ্য আন্তর্জাতিক পক্ষকে সম্পৃক্ত না করে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে এই বিরোধের নিষ্পত্তি করতে চায়। তবে কোনো দেশই এই সম্পর্ককে তিক্ততার দিকে নিয়ে যাওয়ার মতো কোনো কাজ করতে চায় না।


পিউ রিসার্চ সেন্টারের এক জরিপে দেখা যায়, ৬৬ শতাংশ মালয়েশীয়ের উদ্বেগ ছিল, চীন ও এই প্রতিবেশীর মধ্যে আঞ্চলিক বিরোধ একটি সামরিক দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করে কি না।


আবার অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে, মারদেকা সেন্টারের ২০১৭ সালে পরিচালিত এক জরিপ অনুযায়ী, ৭০ শতাংশ মালয়েশীয় ইতিবাচকভাবে চীনের উপস্থিতি এবং তাদের দেশে চীনা বিনিয়োগকে সমর্থন করে।


মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ গত সপ্তাহে চার দিনের সফরকালে চীনের উন্নয়নের মডেলটির প্রশংসা করেছেন এবং মালয়েশিয়ায় অর্থনৈতিক সমস্যা সমাধানের জন্য বেইজিংয়ের সহযোগিতার প্রত্যাশা করেছেন।


আর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যান্য দেশের মতো মাহাথিরও সেখান থেকে খালি হাতে ফেরেননি। দুই পক্ষের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় মুদ্রা চুক্তি হয় এবং মালয়েশিয়ার পাম তেল ও কৃষিপণ্য আমদানি করার একটি চীনা অঙ্গীকারসহ বেশ কয়েকটি প্রতিশ্রুতি পান তিনি। এতে চীনের কেন্দ্রীয় আঞ্চলিক নীতিরই প্রতিফলন ঘটেছে।


দেশটি তার অর্থনৈতিকভাবে তুলনামূলক দুর্বল প্রতিবেশী এবং কৌশলগতভাবে বেইজিংয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলোকে নানাভাবে সহযোগিতা দিয়ে সন্তুষ্ট করার চেষ্টা করছে।


মালয়েশিয়ায় কী পেতে চাইছে চীন


মালয়েশিয়ায় চীনের নির্ধারিত বেল্ট এবং রোড ইনিশিয়েটিভের প্রকল্পের সাথে চীনা লক্ষ্যগুলোর একটি যোগসূত্র রয়েছে। এর মধ্যে কিছু অবকাঠামো প্রকল্প রয়েছে, যেগুলো চীনের বাণিজ্যিক রুট খোলা রাখার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়।


এর মধ্যে যে কোনো অর্থনৈতিক অবরোধের কারণে সামুদ্রিক রুট বন্ধ করার চেষ্টা হলে সে পয়েন্টগুলো যাতে বাইপাস করা যায় তার লক্ষ্য রয়েছে।


তবে চীনের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে কম উন্নত প্রদেশগুলোকে উন্নয়নে একীভূত করার ক্ষেত্রে ভারসাম্য বজায় রাখতেও এসব প্রকল্প বিশেষভাবে সাহায্য করবে। আর কিছু বিআরআই প্রকল্প এমন রয়েছে যেগুলো রাজনৈতিক প্রভাব বজায় রাখার লক্ষ্যে নির্বাচন করা হয়েছে।


বেইজিং আশা করছে যে, এটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে তার লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য প্রয়োজনের সময় ব্যবহার করা যাবে। কিছু প্রকল্প (উদাহরণস্বরূপ গভীর পানির বন্দরগুলো) চীনের বর্ধনশীল নীল-পানির নৌযানের ভিত্তি হিসেবে শেষ পর্যন্ত কাজ করার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে।


কয়েকটি দেশে বেইজিং কেবল তার কূটনৈতিক শক্তি ব্যবহার করে জেতার জন্য চীনের বৃহৎ শিল্পের ভিত্তি তৈরি করে এবং চীনা অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়ায় প্রবেশে তা সহায়তা করে।


মালয়েশিয়ার ভূ-কৌশলগত গুরুত্ব


মালয়েশিয়ায় বিআরআই সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলোতে দেশটির নানা উদ্দেশ্যের সমন্বয় রয়েছে। মালয়েশিয়ার কৌশলগত মূল্যটি বিশ্বের সবচেয়ে দারুণ সাগর লেনগুলোর একটিতে দেশটির অবস্থান থেকে তৈরি হয়েছে।


উপদ্বীপ মালয়েশিয়া ও বোর্নিও মালয়েশিয়ার মধ্যকার সমুদ্রাঞ্চল দক্ষিণ চীন সাগরের গেটওয়ে। আর উপদ্বীপ মালয়েশিয়ার মালাক্কা প্রণালী বাণিজ্যপথ হিসেবে চীনের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ।


চীনের ৮০ শতাংশ তেল আমদানি এই প্রণালীর মধ্য দিয়ে হয়। চীনের রফতানি বাণিজ্যের অর্ধেক এ পথ ব্যবহার করে।


এই প্রণালীর ওপর যেকোনো সম্ভাব্য হুমকিকে বেইজিং কোনোভাবেই অস্বীকার করতে পারে না। দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের আঞ্চলিক সমুদ্র দাবি বিতর্কে মালয়েশিয়াও একটি পক্ষ।


স্বাভাবিকভাবেই, ফিলিপাইন ও ভিয়েতনামের মতো অন্যান্য দাবিদারের সাথে এক সাথে মিলিত হয়ে মালয়েশিয়া জাপান, ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার সাথে জোরালো সম্পর্ক স্থাপন করুক সেটি চীন চায় না।


এসব বিবেচনায় মালয়েশিয়ার বিআরআই প্রকল্প চীনের একটি প্রধান ফোকাসে পরিণত হয়েছে। লাওস ও থাইল্যান্ডের মধ্য দিয়ে নির্মিত লাইনের সাথে সংযুক্ত হওয়ার সময় নতুন রেললাইনের একটি প্রধান প্রকল্প চীনের অনুন্নত কুংমিং প্রদেশের জন্য কল্যাণকর হবে এবং উভয় উপকূলীয় অঞ্চলে পণ্য রফতানি বাড়াতে সাহায্য করবে এটি।


এ ছাড়া আঞ্চলিক জাহাজীকরণে সিঙ্গাপুরের আধিপত্য কমাবে এটি (সেখানে একটি উল্লেখযোগ্য মার্কিন সামরিক উপস্থিতি রয়েছে)।


মাহাথির যে দু’টি রেল প্রকল্প স্থগিত করেছেন তার মধ্যে একটি এমন রয়েছে, যার জন্য মালয়েশিয়া প্রায় পাঁচ বিলিয়ন ডলার খরচ করেছে।


চীনা কোম্পানিগুলো বেশ কয়েকটি বড় বাণিজ্যিক উন্নয়ন প্রকল্প এবং দু’টি প্রাকৃতিক গ্যাস পাইপলাইন (এটিও বাতিল করা হয়েছে) একটি বড় অরণ্য সিটি রিয়েল এস্টেট এবং সিঙ্গাপুরের কাছাকাছি দ্বীপ-নির্মাণ প্রকল্পে (মাহাথির এখন বলছেন যেটি বিদেশী ক্রেতাদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে না) বিনিয়োগ করার কথা।


নাজিব ও মাহাথিরের চীনা নীতি


মাহাথিরের পূর্বসূরি সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাকের সময় চীন তার কৌশলগত সুবিধাগুলো আদায়ের একটি বিশেষ সুযোগ লাভ করে।


নাজিব ইউনাইটেড মালয় ন্যাশনাল অর্গানাইজেশনের (যা আনুষ্ঠানিকভাবে ১৯৮০ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত মাহাথিরের নেতৃত্বাধীন ছিল) নেতৃত্ব দেয় যে দলটি ১৯৫৭ সালে স্বাধীনতার পর থেকে মালয়েশিয়া শাসন করে আসছিল।


তবে ২০১৫ সালের শুরুতে, ওয়ান এমডিবি নামে পরিচিত একটি বিশাল ঋণ সার্বভৌম তহবিলের একটি বড় দুর্নীতি কেলেঙ্কারির সাথে নাজিবের জড়িত হওয়ার বিষয়টি প্রকাশ পায়।


বলা হয়, নাজিব এবং তার সহযোগীরা এই তহবিল থেকে প্রায় ৪.৫ বিলিয়ন ডলার হাতিয়ে নিয়েছে, যার মধ্যে সেই ৭০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারও রয়েছে যা প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করে।


নির্বাচনের আগে এই কেলেঙ্কারি মোকাবেলা করতেই নাজিব চীনের দ্বারস্থ হন বলে মনে করা হয়।


মাহাথিরের নতুন সরকারের মতে, নাজিব ওয়ান এমডিবির ক্ষতিপূরণের জন্য শেল কোম্পানির একটি শাখার মাধ্যমে চীনা ঋণের ব্যবস্থা করেন। এর বিনিময়ে, চীনের সাথে বিআরআই প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের জন্য চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে নাজিবের নেতৃত্বাধীন মালয়েশিয়া। এতে দেশটিকে দীর্ঘমেয়াদি ঋণের বোঝা বহন করতে হবে।


বলা হচ্ছে, প্রাকৃতিক গ্যাস পাইপলাইনের দু’টি প্রকল্পে অর্থায়নের সাথে এমডিবি কেলেঙ্কারির কেন্দ্রস্থলে নাজিবের এক সহযোগী রয়েছেন (মালয়েশিয়ার কর্মকর্তারা বলছেন যে, বর্তমানে তাকে চীনে গ্রেফতার করা হয়েছে)।


এই সমঝোতার কারণে নাজিব দক্ষিণ চীন সাগরে দুই দেশের আঞ্চলিক বিরোধে স্পষ্টতই শান্ত ছিলেন। এমনকি মালয়েশিয়া কয়েকটি চীনা যুদ্ধজাহাজও কিনেছিল নাজিবের সময়।


অবশ্যই, নাজিবের আমনুর ওপর বেইজিংয়ের বাজি উল্টো ফল দিয়েছে। রাজনৈতিক দিক দিয়ে ১৫ বছর পর, মাহাথির বিচ্ছিন্ন বিরোধী দলকে একত্র করতে সক্ষম হন এবং নির্বাচনে সরকারি জোটকে ক্ষমতাচ্যুত করেন।


তিনি নাজিবের চীনের কথিত উদ্ধার প্রকল্পকে নির্বাচনে একটি প্রধান প্রচারণার বিষয়ে পরিণত করেন এবং মালয়েশিয়ার সার্বভৌমত্ব ও স্বার্থ বিক্রির জন্য নাজিবকে অভিযুক্ত করেন।


তিনি নির্বাচিত হলে অযৌক্তিক চীনা প্রভাব কমানোর জন্যও প্রতিশ্রুতি দেন। এখন একসময় বুলেটপ্রুফ গাড়িতে চলা নাজিব মানিলন্ডারিং ও অন্যান্য মামলার মুখোমুখি। সার্বিক অবস্থা বিবেচনায় মাহাথির চীনের সাথে সম্পর্কের ব্যাপারে সতর্ক থাকবেন।


তিনি চীনের বিনিয়োগ সহায়তা নেবেন কিন্তু একই সাথে মালয়েশিয়ার অর্থনৈতিক স্বার্থও নিশ্চিত করার চেষ্টা করবেন।


উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই বেইজিংয়ের


মাহাথির ক্ষমতায় ফিরে আসার পর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় চীনের উচ্চাভিলাষে বাধা দেয়ার মতো কিছু করেননি। মাহাথির চীন সফরকালে তার পূর্বসূরির চীনের আগ্রাসী ঋণের বোঝার জন্য কঠোর সমালোচনাকে সমর্থন করেন।


প্রকৃতপক্ষে, চীনা বিনিয়োগের সমালোচনা করে দেয়া বক্তব্যে সত্যিকার অর্থে নির্বাচনে কী প্রভাব পড়েছে তার প্রমাণ রয়েছে। বিভিন্ন কারণে বারিসান ন্যাশনাল (আমনুর নেতৃত্বে জোট) এক দশকের বেশি সময় ধরে জনপ্রিয়তা হারায় এবং ঘটনাবলি এমন দিকে গড়ায় যাতে মাহাথিরের জনপ্রিয় নেতৃত্ব বিরোধী দলের জেতার পক্ষে যথেষ্ট বিবেচিত হয়।


তবে এসব বিষয় স্থানীয় রাজনীতির জন্য তাৎপর্যপূর্ণ হলেও সাধারণভাবে এটাকে চীনের প্রতি বৈরী মনোভাব হিসেবে মূল্যায়ন করা যায় না। আর চীনের সাথে ব্যবসা করার ক্ষেত্রে এগিয়ে যাওয়া এ কারণে মালয়েশীয় নেতাদের জন্য রাজনৈতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হবে না। মাহাথির সম্ভবত বিষয়টি উপলব্ধি করেন।


আর বেইজিংয়ের সত্যিকার অর্থে এই ভয়েরও কোনো কারণ নেই যে, মাহাথির চীনের কৌশলগত স্বার্থের বিরুদ্ধে বিপজ্জনক যুক্তরাষ্ট্র-মালয়েশিয়া অংশীদারিত্বের দিকে এগিয়ে যাবেন।


মাহাথির তার সফরকালে দক্ষিণ চীন সাগরে আঞ্চলিক বিবাদকে গুরুত্ব দিতে রাজি হননি। ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার পর তিনি বহিরাগত রণতরী নিজস্ব সমুদ্র্রসীমায় থাকার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তাব করেন, যা মালয়েশিয়ার একটি জোট নিরপেক্ষ অবস্থানকে প্রতিফলিত করে।


এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সীমিত করার জন্য চীনা যে কৌশল তার অনুকূলে আসবে এবং বিতর্কিত সমুদ্রসীমায় জাপানি উপস্থিতিরও এটি বিপক্ষে যায়।


প্রকৃতপক্ষে, মাহাথিরের প্রথম ২২ বছর ক্ষমতার সময় পশ্চিমের সাথে সম্পর্ক সবসময় মালয়েশিয়ার মসৃণ ছিল না।


এর বিপরীতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে মালয়েশিয়ার সম্পর্ক নাজিবের অধীনে তুলনামূলক স্থিতিশীল ছিল যদিও আমেরিকান বিচার বিভাগ এবং মার্কিন মিডিয়া ওয়ান এমডিবি কেলেঙ্কারিকে প্রকাশ করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।


ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান


দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বেশির ভাগ দেশের মতো মালয়েশিয়া চীন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সাথে জোটবদ্ধ হয়ে থাকতে চায় না।


সম্ভবত এই গতিশীলতার সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী জাপান হবে। মাহাথিরের প্রথম ক্ষমতার মেয়াদেও সেটি দেখা গেছে। সাম্প্রতিক নির্বাচনের পরে প্রধানমন্ত্রী মাহাথির তার প্রথম সফর সেখানে করেছিলেন।


মালয়েশিয়ার সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয়টি হচ্ছে এর ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান ও জাতিগত মিশ্র গঠন। দেশটি বৃহত্তর শক্তিগুলোর মধ্যে সঙ্ঘাতের ক্রসফায়ারে কোনোভাবে পড়তে চায় না।


মাহাথিরের এই সফরটির সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্র্ণ দিকটি ছিল, এর মাধ্যমে প্রমাণ হয়েছে মালয়েশিয়ার মতো আঞ্চলিক মধ্যশক্তির একটি দেশের যেমন চীনের প্রয়োজন তেমনি মালয়েশিয়ার উন্নয়ন ও স্থিতির জন্য প্রয়োজন চীনকে।


দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মতো একটি কৌশলগত প্রতিযোগিতামূলক অঞ্চলে সম্পর্কের ভারসাম্য দুই দেশের জন্যই ইতিবাচক হবে বলে মনে হয়।


মাহাথিরের পরে যিনি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য অপেক্ষমাণ, সেই আনোয়ার ইব্রাহিমও সম্ভবত এই নীতির ব্যতিক্রম করবেন না। পশ্চিমা প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে মাহাথিরের চেয়েও তার ঘনিষ্ঠতা বেশি বলে ধারণা করা হয়।


তবে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে তার একটি আদর্শগত মধ্যবর্তী অবস্থান রয়েছে, যার সাথে দুই প্রধান বিশ্বশক্তির মধ্যবর্তী অবস্থান নেয়া তৃতীয় ধারার যুগসূত্র রয়েছে। এই পক্ষটি বৈশ্বিক বাণিজ্যযুদ্ধের যে সূচনা ট্রাম্প করেছেন তাকে যেমন সমর্থন করেন না তেমনি চীন-রাশিয়া অক্ষের সাথেও পুরোপুরি মিশে যাওয়ার বিপক্ষে তারা। (ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)


(বি.দ্র. মতামত লেখকের একান্ত নিজস্ব। টাইমনিউজবিডির সম্পাদকীয় নীতিমালার সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই)

Print