‘নিখোঁজ’ সেই ১২ শিক্ষার্থীকে গুজব-উস্কানি মামলায় গ্রেফতার দেখাল পুলিশ

স্টাফ রিপোর্টার
টাইম নিউজ বিডি,
১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ২২:৫৪:৫৫
#

তেজগাঁও ও মহাখালী থেকে ৪ দিন আগে নিখোঁজ হওয়ায় ১২ শিক্ষার্থীকে গ্রেফতার দেখিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা উত্তর বিভাগ।


নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের সময় গুজব- উস্কানি এবং পুলিশের কাজে বাধা ও হামলার অভিযোগে তাদের গ্রেফতার গ্রেফতার দেখিয়েছে পুলিশ।  তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় দায়ের করা ২টি মামলায় তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে।


গ্রেফতারকৃতরা হলেন- তারেক আজিজ, মো. তারেক, জাহাঙ্গীর আলম, মো. মোজাহিদুল ইসলাম, মো. আল আমীন, মো. জহিরুল ইসলাম, মো. বোরহান উদ্দিন, ইফতেখার আলম, মো. মেহেদী হাসান রাজিব, মো. মাহফুজ, মো. সাইফুল্লাহ ও মো. রায়হানুল আবেদিন।  


তাদের গতকাল (০৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর তেজকুনীপাড়া এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।


যদিও গতকাল (রোববার) দুপুরেই ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের (ক্র্যাব) কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে গ্রেফতারকৃতদের পরিবার দাবি করেছে, গত ৫ সেপ্টেম্বর মহাখালী ও তেজগাঁও এলাকা থেকে ডিবি পরিচয়ে তাদের আটক করে নেয়া হয়।  


আজ (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে এই বিষয়ে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন করেন উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মো. মাসুদুর রহমান।


তিনি জানান, গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে বিভিন্ন স্কুল-কলেজের মনোগ্রাম সংবলিত ১২ সেট ড্রেস, ১৩টি ফিতাসহ আইডি কার্ড, হ্যান্ডমাইক, ম্যাগনিফাইং গ্লাস, হাতুড়ি, স্ক্রু-ড্রাইভার, ৩টি ল্যাপটপ, ছাত্রশিবিরের কর্ম পদ্ধতিসহ বিভিন্ন ফর্ম, কিশোর কণ্ঠ  ম্যাগাজিনসহ বিভিন্ন ইসলামী বই, বিভিন্ন কার্যক্রমের বিষয় লেখা ডায়েরি ও ফেসবুকে পোস্ট করা বিভিন্ন ভিডিওসহ স্থির ছবি উদ্ধার করা হয়।  


ডিএমপির উপ-কমিশনার (মিডিয়া) জানান, তাদের কাছ থেকে যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ড্রেস ও আইডি কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে, তারা সেসব প্রতিষ্ঠানের ছাত্র নয়। অন্য প্রতিষ্ঠানের ছাত্র। নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের সময় উস্কানি ও গুজব ছড়িয়ে আন্দোলনকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতেই তারা এসব ব্যবহার করেছিল।  


তিনি জানান, গ্রেফতারদের ফেসবুক থেকে আন্দোলন চলাকালে বিভিন্ন গুজব ছড়ানো হয়েছিল। 'ঝিগাতলায় কি হয়েছে স্টুডেন্টের মুখ থেকে শুনুন; ৪ জন মারা গেছে, ৪ জন ধর্ষণ; শিক্ষামন্ত্রীর গাড়ির লাইসেন্স নাই; পুলিশ ঘুষ খায়; মন্ত্রী-এমপি সবাই চোর' এমন বিভিন্ন গুজব ও উস্কানিমূলক পোস্ট ছড়ায় তারা। 


গ্রেফতার ছাত্রদের জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে উপ-কমিশনার মাসুদুর রহমান বলেন, “তারা গত ২৯ আগস্ট শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার ঘটনায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি ও নিরাপদ সড়কের আন্দোলনকে ভিন্নখাতে প্রভাবিত করতে ফেসবুক ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন উস্কানিমূলক লেখা/পোস্ট/ফটো/ভিডিও’র মাধ্যমে গুজব ছড়ায়।”  


মাসুদুর রহমান বলেন, “গত ৬ আগস্ট বেলা পৌনে ১২টার দিকে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার আহসানউল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যলয়ের বহিরাগত ছাত্ররা  ৪০০ থেকে ৫০০জন একত্রিত হয়ে আহসানউল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে সরকারবিরোধী বিভিন্ন উত্তেজনাকর স্লোগান দিয়ে রাস্তায় নেমে আসে। উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা রাস্তা বন্ধ করে ও সরকারবিরোধী বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দিতে থাকে। উশৃঙ্খল ছাত্ররা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে।”  


ডিএমপির উপ-কমিশনার বলেন,“ছাত্রদের ইট পাটকেলের আঘাতে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার পিআই আবু হাজ্জাজ, এস আই ইমাম হোসেন, এএসআই  আজাদ, এএসআই  ইব্রাহিমসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন। ছাত্র আন্দোলনকে ভিন্নখাতে প্রভাবিত করা ব্যক্তিদের মধ্যে অন্যতম মূল হোতা তারেক আজিজ ফেসবুক টাইম লাইনের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালিত করতো।”


রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার শিক্ষার্থীদের ৭ দিনের পুলিশ রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানান গোয়েন্দা পুলিশ (উত্তর) ক্যান্টনমেন্ট জোনের সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার হান্নানুল ইসলাম। 


উল্লেখ্য, গত ৫ সেপ্টেম্বর নিখোঁজের ৩দিন পরও সন্তানদের খোঁজ না পেয়ে গতকাল রোববার (০৯ সেপ্টেবর) দুপুরে ক্রাইম রিপোর্টারস অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের (ক্র্যাব) কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন নিখোঁজ ১২ শিক্ষার্থীর পরিবারের সদস্যরা। তাদের দাবি-রাজধানীর মহাখালী ও তেজগাঁও এলাকা থেকে গত বুধবার (০৫ সেপ্টেম্বর) অভিযান চালিয়ে পুলিশ ১২ শিক্ষার্থীকে ধরে নিয়ে যায়।  সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ওই দিন এই ১২ শিক্ষার্থীর সঙ্গে আরও কয়েকজনকে আটক করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে আনা হয়েছিল। তবে ১২ জনকে রেখে বাকিদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। 


এমবি  

Print