রোহিঙ্গা সংকট আরও ভালোভাবে মোকাবেলা করা যেত: সু চী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
টাইম নিউজ বিডি,
১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১৫:৪৫:১৩
#

মিয়ানমারের রাখাইনে সৃষ্ট রোহিঙ্গা সংকট আরও ভালোভাবে মোকাবেলা করা যেত বলে এ বিষয়ে কঠিন নিরাবতা ভেঙ্গে মন্তব্য করলেন দেশটির ডি ফ্যাক্টো নেত্রী অং সান সু চি।


ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয়তে অনুষ্ঠিত 'ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক ফোরামে' এক বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে ব্যর্থতার কারণে সমালোচিত এই নেত্রী।


তিনি বলেন, ‘অবশ্যই আরো কিছু উপায় ছিল যার মাধ্যমে আন্তরিকতার সাথে বিষয়টি মোকাবেলা করা যেত। আমরা দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা ও স্থায়িত্বে বিশ্বাস করি। আর এ জন্য অবশ্যই আমাদের সবার প্রতি এবং সব পক্ষের প্রতি ন্যায্য হতে হবে'।


গত বছরের আগস্টে নিরাপত্তা বাহিনীর তল্লাশি চৌকিতে হামলার পর রাখাইনে পূর্ব পরিকল্পিত ও কাঠামোবদ্ধ সহিংসতা জোরালো করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। নিপীড়নের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে সাত লাখ রোহিঙ্গা। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ওই অভিযানে জাতিগত নিধনযজ্ঞের আলামত পেয়েছে।


গত মাসে জাতিসংঘ মিয়ানমারের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে এক তদন্ত প্রতিবেদনে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যায় মিয়ানমার সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানিয়েছে।


মিয়ানমার সরকার বারবারই দাবি করে আসছে যে, নিরাপত্তার স্বার্থে এই অভিযান চালিয়েছে সেনাবাহিনী। কোন নিধনযজ্ঞ চালানো হয়নি। তবে জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,প্রত্যাখ্যানের মাত্রায় তারা হতবাক। সামরিক অভিযানে কখনোই হত্যা,সংঘবদ্ধ ধর্ষণ,শিশু নিপীড়ন ও গ্রাম পুড়িয়ে দেওয়া গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।


বৃহস্পতিবার আসিয়ান নিয়ে বিশ্ব অর্থনৈতিক সম্মেলনে কথা বলা সময় সু চি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি দীর্ঘমেয়াদে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে আইনে স্বচ্ছতা প্রয়োজন। আমরা নির্ধারণ করে রাখতে পারি না যে আইনের মাধ্যমে কাকে সুরক্ষা দেওয়া হবে।


জাতিসংঘের প্রতিবেদন বেসামরিক সর্বোচ্চ নেতা অং সান সু চিরও সমালোচনা করে বলা হয়েছে, রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞ ঠেকাতে নিজের নৈতিক অবস্থান ও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা প্রয়োগ করতে ব্যর্থ হয়েছেন তিনি।সেই প্রতিবেদন ধরে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের তৎকালীন প্রধান রাদ আল হুসেন বলেছিলেন, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে ব্যর্থ হওয়ায় দেশটির ডি ফ্যাক্টো নেত্রী অং সান সু চির পদত্যাগ করা উচিত ছিল।


এছাড়া রোহিঙ্গা গণহত্যার তথ্য সংগ্রহের সময় আটক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের দুই সাংবাদিককে কারাদণ্ড দেওয়ায় বিশ্বজুড়ে মিয়ানমারের সমালোচনা সত্ত্বেও রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে নীরব থাকার মতোই ছিলেন সু চি। সর্বশেষ এই অনুষ্ঠানে এ বিষয়েও নিরবতা ভাঙ্গেন তিনি।


তিনি বলেন, মিয়ানমার আদালত সাংবাদিক বলে তাদের বিরুদ্ধে রায় দেয় নি। বরং আইনভঙ্গকারীর বিরুদ্ধে রায় দিয়েছে।


এই রায়ে প্রশ্নবিদ্ধ মিয়ানমারে মত প্রকাশের স্বাধীনতার বিষয়ে তিনি বলেন, এখানে মত প্রকাশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে কিছুই করা হয় নি। আমারা সবাই যদি আইন মেনে থাকি। তাহলে এটি আইনের যথাযথ রায়।


তিনি আরও বলেন, যেহেতু আইনে সবার সমান সুযোগ থাকে তাই তারা রায়ের বিরুদ্ধে অবশ্যই আপিল করতে পারবেন।


উল্লেখ্য, মিয়ানমারে রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা ভঙ্গের অভিযোগ রয়টার্সে দুই সাংবাদিককে ৭ বছর কারাদণ্ড দেয় আদালত। যদিও তারা প্রথম থেকে এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে এবং ব্রিটিশ উপনিবেশিক আইনে বিচার করা হয় তাদের। মিয়ানমারে রাখাইনে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর সেনাবাহিনীর সুসংগঠিত নির্যাতনের একটি ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের ছবি ভাইরাল হয়। যে ছবিতে দেখা যায় রাখাইনে ইন দিন গ্রামে একসাথে ১২ জনকে সিরিয়ালি বসিয়ে হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডের পর তার তদন্তে নামে রয়টার্সের এই দুই সাংবাদিক।


এক্ষেত্রে রয়টার্সের দুই সাংবাদিকের দাবি, তারা শুধু তাদের দায়িত্ব পালন করেছে । রাষ্ট্রিয় গোপনীয়তা লঙ্ঘন হয় এমন কোন কাজ তারা করে নি।


জেড

Print