চলতি মাসে ৩ লাখ বিরোধী নেতাকর্মীদের নামে ‘গায়েবি’ মামলা, তদন্ত কমিশন চেয়ে রিট

স্টাফ রিপোর্টার
টাইম নিউজ বিডি,
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ২১:৪৩:৪৭
#

চলতি সেপ্টেম্বর মাসে সারা দেশে বিএনপিসহ বিরোধীদলীয় নেতাকর্মী, আইনজীবীসহ ৩ লাখ মানুষের বিরুদ্ধে দায়ের করা প্রায় ৪ হাজার মামলার তদন্ত করতে উচ্চ পর্যায়ের কমিশন চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে।


‘গায়েবি ও কাল্পনিক’ এইসব মামলা দায়েরের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে রিটে।


আজ (২৩ সেপ্টেম্বর) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, সাবেক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী ও অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া এই রিট দায়ের করেন।


আগামীকাল (সোমবার) বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে রিট আবেদনটির ওপর শুনানি হতে পারে।


সংবিধানপ্রণেতা ড. কামাল হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ’সহ জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা এই রিটের ওপর শুনানি করবেন বলে জানিয়েছেন রিটকারী আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন।


খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, আইনজীবীরা যাতে খালেদা জিয়ার মামলা না করতে পারেন এবং আগামী নির্বাচনের সময় বিএনপি নেতাকর্মীরা যাতে ঘরে না থাকতে পারেন, সেই আতঙ্ক সৃষ্টি করার জন্য এইসব মামলা করা হয়েছে।


জানা গেছে, আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্যান্য দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে এই পর্যন্ত যত গায়েবি মামলা দেওয়া হয়েছে, সেগুলোর তদন্ত বন্ধ এবং এই গায়েবি মামলাগুলোর বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক উচ্চ পর্যায়ের কমিটি করে ঘটনার তদন্ত করা এবং তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী সময়ে যেন এই ধরনের মামলা দেওয়া না হয়, তার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।


পাশাপাশি আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্যান্য রাজনৈতিক দলের অগণিত নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে পুলিশি ক্ষমতা অপব্যবহার করে গায়েবি বা আজগুবি মামলাকে দায়ের করা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, রিটে সে বিষয়ে রুল জারির আরজি জানানো হয়েছে।


স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সচিব, পুলিশের আইজি, ডিএমপি কমিশনার, ডিএমপি রমনা জোনের ডেপুটি ও অতিরিক্ত ডেপুটি কমিশনার, রমনা, পল্টন ও শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা’সহ মোট ৯জনকে এই রিটে বিবাদী করা হয়েছে।


রিট দায়েরের পর খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, নির্বাচন সামনে রেখে সারা দেশে ঢালাওভাবে এই ধরনের কাল্পনিক মামলা করার উদ্দেশ্যে হচ্ছে বিরোধী দলকে চাপে রেখে বিরোধী নেতাকর্মীদের মধ্যে ভীতি সঞ্চার করা।


খন্দকার মাহবুব আরও বলেন, এই ধরনের মামলা সঠিক হয়েছে কি না, তা তদন্ত করতে একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিশন গঠন করার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের কাল্পনিক মামলা করে যেন হয়রানি না করা হয়, তার নির্দেশনা জারির আবেদন করা হয়েছে। যাঁরা এই ধরনের মামলা করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চেয়েও আবেদন করা হয়েছে।


রিট আবেদনে সেপ্টেম্বর মাসে বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ অনুসারে আবেদনকারী এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অগণিত মানুষের বিরুদ্ধে ‘কাল্পনিক’মামলা করা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, এই ধরনের ‘কাল্পনিক’মামলাকারী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বিবাদীদের কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না- এই মর্মে রুল জারির আর্জি জানানো হয়েছে।


এই রুল বিবেচনাধীন থাকা অবস্থায় আবেদনকারীসহ বিরোধী নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে পরবর্তী সময়ে যেন এই ধরনের মামলা দায়ের থেকে বিরত থাকতে এবং এই ঘটনা তদন্তে ৭ সদস্যের একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি (যার মধ্যে জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশন, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, এশিয়ান হিউম্যান রাইটস কমিশনের প্রতিনিধি রাখা) গঠনের নির্দেশনা জারির আবেদন করা হয়েছে।


এছাড়া, রুল বিবেচনাধীন থাকা অবস্থায় আবেদনকারীদের বিরুদ্ধে করা এইসব মামলার তদন্ত থেকে বিরত থাকে নির্দেশনা জারির আরজি জানানো হয়েছে আবেদনে। 


এমবি  

Print