প্রধানমন্ত্রী তার পিতার ভুলের পুনরাবৃত্তি করুন আমরা তা চাই না: ডা. জাফরুল্লাহ

স্টাফ রিপোর্টার
টাইম নিউজ বিডি,
০২ অক্টোবর, ২০১৮ ০২:২৪:১০
#

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, সরকার সর্বত্র ভূত দেখছে। তথ্য প্রকাশ হওয়ার ভয়ে তারা আইন করছে। পদ্মা সেতু বিশ্বব্যাংক ৭ হাজার কোটি টাকায় করে দিতে চেয়েছিল। কিন্তু এখন ৩৮ হাজার কোটি টাকা খরচ হচ্ছে। এ আইন হলে এত খরচ কেন হচ্ছে তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠানো যাবে না।


তিনি বলেন, সাংবাদিকরা ভুল করলে এই জন্য প্রেস কাউন্সিল আছে। সেটাকে প্রয়োজনে আরো শক্তিশালী করুন। কিন্তু কথা বলতে দিবেন না তা হয় না। বিশ্বের কোথাও এত খারাপ আইন নেই। অবিলম্বে এই আইন বাতিল করা উচিত।  


গণবিরোধী ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবিতে আজ (০১ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) আয়োজিত প্রতীক অনশন কর্মসূচিতে সংহতি প্রকাশ করে ডা. জাফরুল্লাহ এইসব কথা বলেন।  


আজ (সোমবার) বেলা ১১টা থেকে দুই ঘণ্টা প্রতীকী অনশন করেন সাংবাদিকরা। পরে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী পানি পান করিয়ে সাংবাদিকদের অনশন ভঙ্গ করান।


ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিদেশের মাটিতে সংবাদ সম্মেলনে কি বলেছেন তা আমরা ভুলে যেতে চাই। আমরা আশা করি তিনি দেশে ফিরে এই আইন বাতিল করবেন। কারণ তিনি তার পিতার ভুলের পুনরাবৃত্তি করুন তা আমরা চাই না। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বিতর্কিত ধারাগুলো বাতিলের দাবিতে সাংবাদিকদের আন্দোলন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি।


বিএফইউজে সভাপতি রুহুল আমিন গাজী বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ইতিহাসের জঘন্যতম আইন। এ আইন বাক, ব্যক্তিস্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থি। এ আইনের ফলে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা ধ্বংস হয়ে যাবে। তখন পিআইবি’র হ্যান্ডআউট ছাপানো ছাড়া সাংবাদিকদের আর কোনো কাজ থাকবে না। যারা এই আইনের পক্ষে বলবেন তারা রাজাকার। আর যারা বিরোধিতা করবেন তারাই মুক্তিযোদ্ধা।


তিনি বলেন, সম্পাদক পরিষদ এই আইনের বিরোধিতা করায় ধন্যবাদ জানাই। তারা এর বিরুদ্ধে রাজপথে কর্মসূচি দিয়েছিলেন। কিন্তু সরকার নাটক করে তাদের কর্মসূচি স্থগিত করেছে। তবে সাংবাদিক আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। যতদিন এই আইন বাতিল না হবে ততদিন আন্দোলন চলবেই। আগামী ৬ অক্টোবর ঢাকাসহ সারা দেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেন তিনি।


সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের সদস্য সচিব ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেন, যতবারই আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসেছে ততবারই তারা পত্রিকা ও চ্যানেল বন্ধ করেছে। সাংবাদিকদের নানাভাবে নির্যাতন করেছে। এখন আবার নতুন করে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের নামে কালো আইন করে সাংবাদিকদের টুটি চেপে ধরার চেষ্টা করছে। কিন্তু এই দেশে কেউ কালো আইন করে টিকতে পারেনি। এই সরকারও টিকতে পারবে না। কিন্তু সাংবাদিক সমাজ ও দেশের সচেতন নাগরিক তা কখনোই বাস্তবায়ন হতে দেবে না।


বিএফইউজে’র সাবেক মহাসচিব এমএ আজিজ বলেন, সরকার একের পর এক অনেক মিডিয়া বন্ধ ও সাংবাদিকদের নির্যাতন করেছে। এখন আবার নতুন করে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের নামে কালো আইন করে মিডিয়া বন্ধ ও সাংবাদিক নির্যাতনের পথ তৈরি করছে। এ আইন বাস্তবায়ন হলে কোনো সাংবাদিক অনুসন্ধানী রিপোর্ট করতে পারবে না। করলেই ফেঁসে যাবে। কাজেই এই আইন বাস্তবায়ন হতে দেয়া যাবে না।


ডিইউজে সভাপতি কাদের গনি চৌধুরী বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন এত জঘন্য যে আওয়ামী লীগ সমর্থিত সাংবাদিকরাও এ আইনের বিরোধিতা করছে। শুধু বাংলাদেশ নয়, সারা বিশ্বের মানুষ ও বিভিন্ন সংগঠন আজ এই আইনের বিরুদ্ধে কথা বলছে। তারপরও সরকার গায়ের জোরে এই আইন বাস্তবায়ন করছে। এ আইন গণবিরোধী ও সংবিধান পরিপন্থি। সাংবাদিক সমাজের পক্ষ থেকে বলতে চাই, অবিলম্বে এ আইন বাতিল করতে হবে। নইলে কঠোর আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে এই আইন বাতিল করতে বাধ্য করা হবে।


ডিইউজে সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বলেন, এই আইন সাংবাদিক সমাজ মানে না। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের কালো আইন বাতিলের দাবিতে আমরা রাজপথে নেমেছি। বিজয় নিশ্চিত করেই আমরা ঘরে ফিরবো।


বিএফইউজে’র সভাপতি রুহুল আমিন গাজীর সভাপতিত্বে ও ডিইউজের দপ্তর সম্পাদক শাহজাহান সাজুর সঞ্চালনায় প্রতীক অনশনে বক্তব্য রাখেন-বিএফইউজে’র সাবেক সভাপতি শওকত মাহমুদ, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমেদ, বর্তমান যুগ্ম-সম্পাদক ইলিয়াস খান, একুশে পদকপ্রাপ্ত ছড়াকার আবু সালেহ, বিএফইউজে’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আহমেদ মতিউর রহমান, সিনিয়র সহ-সভাপতি নূরুল আমিন রোকন, সহ-সভাপতি মোদাব্বের হোসেন, বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি গোলাম মোস্তফা, সাবেক সভাপতি একেএম মহসীন, কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীম, সাংবাদিক নেতা মজিবুর রহমান মঞ্জু, নাসির উদ্দিন শোয়েব, কাফি কামাল, কামরুজ্জামান কাজল প্রমুখ।


এছাড়া, বিএফইউজে’র প্রচার সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ, নির্বাহী সদস্য এবিএম সাদ বিন বারী, ডিআরইউ’র সাবেক সহ-সভাপতি রফিকুল ইসলাম আজাদ, জিয়াউল কবির সুমন, ডিইউজে’র সাংগঠনিক সম্পাদক দিদারুল আলম, ডিইউজে’র বাসস ইউনিট প্রধান আবুল কালাম মানিক, সাংবাদিক নেতা মামুন স্ট্যালিন, গিয়াস উদ্দিন মামুন, ডিইউজে’র নির্বাহী সদস্য সৈয়দ আলী আসফার, ডিএম আমিরুল ইসলাম অমর ও এইচ এম আলামিন’সহ শতাধিক পেশাদার সাংবাদিক প্রতীকী অনশনে অংশ নেন। 


এমবি    

Print