দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী মাত্র ১৩ শতাংশ

স্টাফ রিপোর্টার
টাইম নিউজ বিডি,
০৩ অক্টোবর, ২০১৮ ১৩:৪৩:২৪
#

২০১৭ সালের শেষ নাগাদ ১৫ থেকে ৬৫ বছর বয়সী মাত্র ১৩ শতাংশ বাংলাদেশি ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করছে। যদিও এই বয়সের মানুষদের ৪৫ শতাংশেরই কমপক্ষে একটি ইন্টারনেট-বান্ধব ডিভাইস রয়েছে।


গ্লোবাল সাউথে (উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে) মোবাইল ফোন এবং ইন্টারনেটের ব্যবহার ও প্রাপ্যতা বিষয়ে আফটারঅ্যাকসেস গবেষণার অংশ হিসেবে এ তথ্যগুলো উঠে এসেছে।


আফটারঅ্যাকসেস সমীক্ষায় বাংলাদেশে মোবাইল ফোন এবং ইন্টারনেটের ব্যবহার ও প্রাপ্যতা বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়। সমপ্রতি ঢাকায় এ তথ্যগুলো প্রকাশ করে আইসিটি পলিসি থিঙ্ক ট্যাঙ্ক লার্নএশিয়া।


গতকাল ঢাকায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এশিয়া বিভাগের প্রধান গবেষক ও লার্নএশিয়ার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিলানি গালপায়া জানান, মোবাইল ফোন এবং ইন্টারনেট সর্বব্যাপী হয়ে উঠছে।


মোবাইল ফোন ব্যবহারকারী এবং এর ব্যবহার বিষয়ে তথ্য সরকার এবং সিদ্ধান্ত প্রণেতাদের কাছে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। তিনি বলেন, এ বিষয়ে তথ্য এখনো অপ্রতুল।


কারণ, প্রাপ্ত তথ্যগুলো হয় এ সংক্রান্ত ব্যবসা সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীর সরবরাহ করা, অথবা এসব তথ্য রাষ্ট্রের মোট জনসংখ্যার প্রতিনিধিত্ব করছে না। মোবাইল ফোনের ব্যবহার এবং ব্যবহারকারী সম্পর্কে সঠিক তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের একমাত্র গ্রহণযোগ্য পন্থা হচ্ছে এর ব্যবহারকারী (এবং ব্যবহারকারী নন) এমন ব্যক্তিদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলা। এই গবেষণায় আমরা সেই কাজটিই করেছি। গবেষণায় বাংলাদেশের ৪০টি জেলার ১০০টি ওয়ার্ড এবং গ্রামে ২ হাজার পরিবার ও ব্যক্তির উপর সমীক্ষা চালানো হয়েছে। গবেষণা পদ্ধতিটি এমনভাবে সাজানো হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার (১৫ থেকে ৬৫ বছর বয়সী) জনসংখ্যার ৯৫ ভাগ প্রতিনিধিত্বমূলক এবং এতে সম্ভাব্য ত্রুটির মাত্রা +/-৩.৩ শতাংশ। সংশ্লিষ্টরা জানান, বাংলাদেশসহ আফ্রিকা, এশিয়া এবং লাতিন আমেরিকার ১৮টি দেশে একই গবেষণা পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে।


এর ফলে প্রাপ্ত তথ্যগুলো নিঃসন্দেহে গ্লোবাল সাউথে (উন্নয়নশীল রাষ্ট্রগুলোর) মোবাইল ফোন এবং ইন্টারনেট ব্যবহারের সবচেয়ে নির্ভুল ও বিস্তারিত তথ্যের ডেটাবেজ। ৩৮ হাজার ৫ জন ব্যক্তি ও পরিবারের মুখোমুখি সাক্ষাৎকার এবং সাক্ষাৎকার প্রদানকারী নারী-পুরুষের সংখ্যাগত বিভাজন, গ্রামীণ বা শহর এলাকার বাসিন্দা কিনা এবং বয়সসহ বিভিন্ন বিষয়ের উপর ভিত্তি করে তথ্যগুলো সন্নিবেশিত করা হয়েছে।


অনুষ্ঠানে লার্নএশিয়ার সিনিয়র পলিসি ফেলো আবু সাইদ খান বলেন, এই গবেষণা প্রতিবেদনটি টেলিকম খাতের মূল বিষয়গুলো তুলে ধরেছে এবং এতে মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের যে বৈষম্য রয়েছে, সেই চিত্রটি ফুটে উঠেছে। তিনি বলেন, এই গবেষণায় ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার অপার সম্ভাবনার দিকটিও পরিষ্কারভাবে উঠে এসেছে। আগামীতে নীতি নির্ধারণ, নিয়ন্ত্রণ এবং এই শিল্পখাতের সিদ্ধান্ত প্রণয়নে এই তথ্যগুলো ব্যবহারের তাগিদ দেন আবু সাইদ খান।


১৫ থেকে ৬৫ বছর বয়সী যে সব বাংলাদেশি ইন্টারনেট ব্যবহার করেন না, তারা এর কারণ হিসেবে জানিয়েছেন, ইন্টারনেট কি সে সম্পর্কে তাদের কোনো ধারণাই নেই। এই তথ্য প্রমাণ করে, বাংলাদেশের জনসাধারণের মধ্যে ইন্টারনেট এবং এর ব্যবহার সম্পর্কে ব্যাপক সচেতনতা সৃষ্টির প্রয়োজন। ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট রিসার্চ সেন্টার (আইডিআরসি), কানাডা, ফোর্ড ফাউন্ডেশন, সুইডিশ আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (এসআইডিএ) এবং যুক্তরাজ্য সরকারের ডিপার্টমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট (ডিএফআইডি) থেকে পাওয়া অনুদানের মাধ্যমে আফটারঅ্যাকসেস গবেষণাটি পরিচালিত হয়েছে। লার্নএশিয়া একটি এশীয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় আইসিটি পলিসি থিঙ্ক ট্যাঙ্ক।


সংস্থাটি ২০০৫ সাল থেকে চাহিদা ও সরবরাহ উভয় পক্ষের গবেষণা পরিচালনা করে এবং টেলিকম খাতে নীতি পরিবর্তনের ক্ষেত্রে কাজ করছে। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে সংস্থাটি এশিয়ার বিভিন্ন দেশে এ ধরনের সমীক্ষা পরিচালনা করছে। এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ‘বিগ ডেটা’ গবেষণা কর্মসূচির মেন্টর হিসেবে কাজ করছে লার্নএশিয়া।


জেড

Print