জাবিতে ৪ ছাত্রলীগকর্মী সাময়িক বহিষ্কার

টাইম ডেস্ক
টাইম নিউজ বিডি,
০৩ অক্টোবর, ২০১৮ ১৬:৫৮:৪০
#

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই সাংবাদিক ও এক ছাত্রীকে মারধরের ঘটনায় শাখা ছাত্রলীগের চার কর্মীকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।


বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সিকদার মো. জুলকারনাইন বলেন, গতকাল মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম নির্বাহী ক্ষমতাবলে এ বহিষ্কারাদেশ দেন। তদন্তের জন্য তিন সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ১৫ কর্ম দিবসের মধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়ার কথা বলা হয়েছে।


প্রাথমিক তদন্তে সাতজনের নাম দিলেও পরে ঘটনায় সরাসরি সম্পৃক্ত ৪৭ ব্যাচের তিনজন ও ৪৫ ব্যাচের একজনকে বহিষ্কারাদেশ দেয় প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে না ডাকা পর্যন্ত তারা হলে অবস্থান করতে পারবেন না।


বহিষ্কৃতরা হলেন বাংলা (৪৫ ব্যাচ) বিভাগের শুভাশীষ ঘোষ, লোক প্রশাসন (৪৭ ব্যাচ) বিভাগের মো. সোহেল রানা ও মো. মোস্তাফিজুর রহমান। তারা সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ রফিক-জব্বার হলের আবাসিক ছাত্র। অপরজন হলেন- লোক প্রশাসন (৪৭ ব্যাচ) বিভাগের ছাত্র ইয়া রাফিউ শিকদার। তিনি মীর মশাররফ হোসেন হলের আবাসিক ছাত্র হলেও অবৈধভাবে শহীদ রফিক-জব্বার হলে অবস্থান করতেন।


ওই চার শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম আবু সুফিয়ান চঞ্চলের অনুসারী বলে পরিচিত।


গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে নাটক ও নাট্যতত্ত্ব (৪২ ব্যাচ) বিভাগের নেজাম উদ্দিন নিলয়, লোক প্রশাসন (৪৭ ব্যাচ) বিভাগের মো. আমিনুল ইসলাম ও মো. ইফতেখার উদ্দিনসহ সাতজনের নামে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এক অফিস আদেশ দেয়। পরে ওই তিনজনকে বাদ দিয়ে মোট চার ছাত্রলীগকর্মীকে বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করে আরও একটি অফিস আদেশ আসে।


এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার আবু হাসান বলেন, সাত শিক্ষার্থীর বহিষ্কারাদেশ আমি ভুল করে স্বাক্ষর করি। পরে প্রক্টরের সঙ্গে আলোচনা করে আরও একটি অফিস আদেশ পাঠাই।


প্রসঙ্গত, গেল ২৪ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের সুইমিংপুল এলাকায় দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের ফটো সাংবাদিক বিল্লাল হোসেনকে মারধর করে মোবাইল-মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে বহিষ্কৃতদের বিরুদ্ধে। এসময় সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগের (৪৩ ব্যাচের) শিক্ষার্থী মাহমুদুল হক সোহাগ তাদের মীমাংসা করে দেন।


সোহাগ চ্যানেল আই অনলাইনের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি। পরে বিল্লালকে আবারও মারধর করা হলে সোহাগ এতে বাধা দেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে সোহাগকে মারধর করেন ছাত্রলীগকর্মীরা। এসময় সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম বিভাগের এক ছাত্রী তাকে রক্ষা করতে এলে তাকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। ছিনতাই, মারধর ও লাঞ্ছনার বিচার চেয়ে ওই দুই সাংবাদিক ও ছাত্রী সেদিনই বিশ্ববিদ্যালয়ে পৃথকভাবে লিখিত অভিযোগ দেন। সূত্র: আরটিভি


জেড

Print